বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিব’ন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

0
58

আমার স্বা’মী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ও’ষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? স’রকারের কাছে আমার আবেদন যেন স’রকার আমাকে একটা ঘর দেয়।

এক ছেলে ও এক মে’য়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সু’খে-শান্তিতে দিন কা’টাতে পারি। এভাবেই ক’ষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শা’রীরিক প্রতিব’ন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বা’মীর নাম সাধ’ন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে স’রকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিব’ন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিব’ন্ধী ভাতা, ভিজি’ডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা স’রকারি ঘর।

অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজে’লার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধ’ন চন্দ্র ও তার শা’রীরিক প্রতিব’ন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)।

এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মে’য়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মে’য়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার ক’ষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হা’র্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ও’ষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধ’ন চন্দ্র।ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভে’ঙে পড়ে।

সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই স’ন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স’ঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমে’য়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভে’ঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো পরিবেশ নেই।

সাধ’ন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভে’ঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি স’রকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি।

ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শা’রীরিক প্রতিব’ন্ধী ও অ’সুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমে’য়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি স’রকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধ’ন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি স’রকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে স’রকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বি’ষয়ে আমার জানা নেই। তবে স’রকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বি’ষয়টি দেখা যাবে।এ বি’ষয়ে হাতীবান্ধা উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন,

তিনি ভূমিহীন হলে বি’ষয়টি ত’দন্ত করে দেখা হবে। ত’দন্তে স’রকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জে’লা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here