ভাগ্যে লিখে দেয়ার কারণে কেউ জান্নাতি বা জাহান্নামি হয় না

0
135

আল্লাহ তায়ালা ভালো এবং মন্দের সৃষ্টিকর্তা। তিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন মানব ও দানব জাতিদ্বয়কে পরীক্ষা করার জন্য। কিন্তু এ পরীক্ষায় কে কেমন ফলাফল করবে সে সম্প’র্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর অগ্রিম জ্ঞান দ্বারাই অবগত রয়েছেন। সেটিই হচ্ছে তাকদির; যার কোন ব্যতিক্রম হবে না।

এ তাকদিরের উপর প্রত্যেক মু’সলিম ব্যক্তির ঈমান আনা মুমিন হওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত। সারাজীবন ভালো কাজ করে শেষ জীবনে মন্দ কাজ করে জাহান্নামে যাওয়ার পরিণতি এড়ানোর জন্যই আল্লাহ বলেছেন- ‘তোমরা মু’সলমান না থাকা আবস্থায় কক্ষনো মরোনা অর্থাৎ মৃ’ত্যু পর্যন্ত ইসলামের উপর কায়েম থাকো।’ (আল-ইমরান-১০২)

হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- সত্যবা’দী ও সত্যবা’দী স্বীকৃত রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগ’র্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (শুক্র হিসেবে) জমা থাকে। তারপর ঐ রকম চল্লিশ দিন র’ক্তপিন্ড, তারপর ঐ রকম চল্লিশ দিন গোশত পিন্ডাকারে থাকে।

তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে রিযিক, মৃ’ত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য- এ চারটি বি’ষয় লিখার জন্য আদেশ দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে যে কেউ অথবা বলেছেন, কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে।

এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত বা এক গজের তফাৎ থাকে। এমন সময় তাকদির তার ও’পর প্রাধান্য লাভ করে আর তখন সে জান্নাতীদের আমল করা শুরু করে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যক্তি জান্নাতিদের আমল করতে থাকে।

এমন কি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত বা দু’হাত তফাৎ থাকে। এমন সময় তাকদির তার উপর প্রাধান্য লাভ করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের আমল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। (বুখারি- ৬৫৯৪, আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৪২)

তাকদিরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করা ঈমানের একটি অন্যতম রুকন। (ফাতহুল বারী) অতীতে যা ঘটেছে, বর্তমানে যা ঘটছে এবং ভবি’ষ্যতে যা ঘটবে সবই আল্লাহ তাআলার সামনে রয়েছে। অতীত, বর্তমান ও ভবি’ষ্যৎ সবই তিনি সমানভাবে জ্ঞাত।

প্রত্যেকটি মানুষ কখন জ’ন্মাবে, কখন মরবে আর জ’ন্ম থেকে মৃ’ত্যু পর্যন্ত কোন মুহূর্তে কোন আমল করবে সবই তাঁর জানা। মৃ’ত্যুর পর কেউ জান্নাতে যাবে, না জাহান্নামে যাবে কিংবা প্রথমে জাহান্নামে যাওয়ার পর আবার জান্নাতে যাবে- এ সব কিছুই তাঁর জানা।

মাতৃগ’র্ভে ১২০ দিন পর আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে লিখিয়ে দেন কতটা রিযিক সে পাবে, কখন কোথায় মরবে, সে জান্নাতী হবে, না জাহান্নামী হবে। তিনি তো সবই জানেন, আর তাই তিনি লিখিয়ে দেন।

ভাগ্যে লিখে দেয়ার কারণে কেউ জান্নাতি বা জাহান্নামি হয় না, নিজের আমলের কারণেই জান্নাতি বা জাহান্নামি হয়। বান্দার ভবি’ষ্যৎ সম্প’র্কিত আল্লাহর জানা কথাগুলো আগেই লিখে দেয়ার নাম তাকদীর।

তাকদির গড়ার দায়-দায়িত্ব বান্দার, তাকদির গড়ার স্বাধীনতা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে দিয়ে রেখেছেন। এ প্রস’ঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন, ‘আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না যে পর্যন্ত তারা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন না করে।’ (সূরা রাদ-১১)

অবশ্য আল্লাহ মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রাধান্য দিয়ে দুনিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা দান করেন। কিন্তু দুনিয়াবি প্রতিষ্ঠার স’ঙ্গে আখিরাতের সফলতা বা ব্য’র্থতার কোন সম্প’র্ক নাই। কেউ জান্নাতের পথে যেতে যেতে শেষ মুহূর্তে জাহান্নামে চলে গেলেও তার জন্য সে নিজেই দায়ী। আর আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন যে,

শেষ মুহূর্তে ঐ ব্যক্তি নিজেই দিক পরিবর্তন করে জাহান্নামে পৌঁছবে, যদিও সে সারাজীবন জান্নাতে যাওয়ার কাজই করেছে। কারণ আল্লাহ্ তাআলা বান্দাকে বিবেক-বুদ্ধি দান করেছেন এবং তাকে ভাল ও মন্দ উভ’য় পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, তার বিবেক-বুদ্ধিকে স্বাধীনভাবে ব্যবহার করার স্বাধীনতাও দিয়েছেন।

আর এর দ্বারা তাকে পরীক্ষায় ফে’লে দিয়েছেন। এ ছাড়া আল্লাহ তাআলা মানুষসহ কোন কিছুকেই বেকার সৃষ্টি করেননি। অতএব তিনি যখন কোন কিছুকেই বেকার হিসেবে সৃষ্টি করেননি তখন বিবেকসম্পন্ন এ মানবজাতিকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়ে তাদেরকে তো পরীক্ষা করবেনই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here