বিশ্বজুড়ে মু’সলিম তরুণীদের ফরাসি পণ্য বয়কটের হিড়িক

0
120

তুরস্ক থেকে বাংলাদেশ, জর্ডান থেকে মালয়েশিয়া- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফরাসি পণ্য বয়’কট করার আ’ন্দোলন চলছে। এসব দেশের কিছু কিছু সুপারমার্কে’টের শেল্ফ থেকে ‘মেইড ইন ফ্রান্স’ লেবেল লাগানো জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে।ফ্রান্সে এক স্কুল শি’ক্ষককে গ’লা কে’টে হ’ত্যা ক’রার পর ইসলাম সম্প’র্কে ফরাসি প্রে’সিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মন্তব্যের জের ধরে মু’সলিম দেশগুলোতে এই আ’ন্দোলন শুরু হয়েছে।

শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি ক্লাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বি’ষয়ে পড়ানোর সময় মুহাম্ম’দ (সা:)-এর কা’র্টুন দে’খিয়েছিলেন। এর পরেই তা’কে হ’ত্যা ক’রা হয়। হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর ফরা’সি প্রে’সিডেন্ট ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করে ‘ক’ট্টর ই’সলামের’ বি’রুদ্ধে ক’ঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।ম্যাক্রো বলেন, ওই শি’ক্ষককে হ’ত্যা ক’রা হ’য়েছে “কারণ ইসলামপ’ন্থীরা আমাদের ভবি’ষ্যৎ কেড়ে নিতে চায়। কিন্তু ফ্রান্স এসব কা’র্টুন প্রকাশ বন্ধ করবে না।” এর আগে ২০০৬ সালে শার্লি এব্দো ম্যাগাজিনে মুহাম্ম’দ (সা:)-এর কিছু কা’র্টুন প্রকাশিত হলে তখনও সারা বিশ্বে বহু মু’সলিম ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছিল।

ধ’র্মনিরপেক্ষ’তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করায় ফরাসি প্রে’সিডেন্ট তার দেশের ভে’তরে প্রশংসিত হয়েছেন। পরে নিস শহরে একটি গির্জায় চা’লানো হা’ম’লায় আরো তিনজন নি’হ’ত হয় এবং ফরাসি প্রে’সিডেন্ট এই হা’ম’লা’কেও “ইসলামপ’ন্থীদের স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লা” বলে উল্লেখ করেন।তবে বাংলাদেশসহ মু’সলিম অধ্যুষিত বিভিন্ন দেশে প্রে’সিডেন্ট ম্যাক্রোর তী’ব্র সমালোচনা করা হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বি’ক্ষো’ভ করে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দিচ্ছে। বিবিসি তিন না’রীর স’ঙ্গে কথা বলেছে – যারা ফরাসি পণ্য আর না কেনার সি’দ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি ফরাসি পণ্য ব্যবহার করতাম, বিশেষ করে ল’রিয়েল। এটা পাকিস্তানে খুব সহজে পাওয়া যায়।

এখন আমি কিছু কেনার আগে তার গায়ে লাগানো লেবেল দেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি যে সেটা ফ্রান্সের তৈরি কোন পণ্য নয়। ফরাসি পণ্যের বদলে আমি এখন পাকিস্তানি পণ্য ব্যবহার করছি। কেন? কারণ একটি দেশের প্রে’সিডেন্ট হঠাৎ করে একদিন জেগে ওঠে সমগ্র মু’সলিম জনগোষ্ঠীকে অ’পমান করতে পারেন না।আমি সোশাল মিডিয়াতে সবাইকে আহবান জানাচ্ছি ফরাসি পণ্য বয়কট করার জন্য। আমার বি’বেক অত্যন্ত পরিষ্কার, কারণ ইসলামের পক্ষে আমার অবস্থান তুলে ধরার জন্যই আমি এই সি’দ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ধর্ম ও নবীকে নিয়ে অনেকে মজা করেছে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। যারা ইসলামকে অ’পমান করেছে তাদেরকে আমরা ক্ষমা করে আসছিলাম কিন্তু এখন আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আমার মনে হয় ম্যাক্রো উদ্দেশ্যমূ’লকভাবে আমাদের আ’ঘা’ত দেও’য়ার চেষ্টা করছে। এটা যেন কাউকে চি’মটি কে’টে, ‘এই তুমি কি ব্য’থা পাচ্ছ’ এরকম কিছু জিজ্ঞেস করার মতো। আমার মনে হয় এটা আরো বড় কিছুর অংশ- আমার ধারণা তিনি ঘৃ’ণা তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি লোকজনকে বি’ভক্ত করছেন এবং উ’স্কানি দিচ্ছেন।

তিনি অ’নিষ্টকর এবং তার বক্তব্য ইসলাম-বি’দ্বেষকে আ’রো ছ’ড়িয়ে দেবে। একটি দেশের প্রে’সিডেন্ট যা বলেন সেটি তার দেশের জনগণকে প্রভাবিত করে। তার তো উচিত ছিল সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং সবাইকে সমানভাবে সম্মান জানানো।আমি যখন প্রথম শার্লি এব্দোর কা’র্টুনগুলো দেখি, তখন নির্বাক হয়ে যাই। প্রথমে আমি এগুলো এড়িয়ে চলি কিন্তু পরে যখন দেখি আমি স্ত’ম্ভিত হয়ে পড়ি।

আমি কেঁদে ফেলি। আমি আল্লাহকে প্রশ্ন করি, “কেন আমি এমন জিনিস দেখতে গেলাম?” আমি প্রায় প্রতিদিনই কিছু ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করতাম। তার মধ্যে রয়েছে গার্নিয়ে, লাকুম এবং বিআইসি। কিন্তু এই ঘ’টনার পর আমি এসব পণ্যের কোনটাই আমি আর কিনবো না।ফরাসি পণ্য আমি বয়কট করছি – কারণ আমি বলতে চাই যে আমরা এটা আর গ্রহণ করবো না। আমি ফ্রান্সের ইসলাম-বি’দ্বেষের বি’রুদ্ধে দাঁড়াতে চাই। মু’সলিম হিসেবে এবি’ষয়ে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ । কারণ আমরা অনেকদিন হল চুপ করে আছি। ঠিক এখন আমরা যেটা করতে পারি তা হল – পণ্য বর্জন করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here