স’ন্তানের প্রতি বাবা মায়েদের যে ১০টি ভু’লের জন্য শেষে অনুশোচনা করতে হয়

0
66

অনেকে একটু বেশি পরিশ্রমও করেন আবার অনেকে শি’শুদের খেলনা দিয়ে বড় করতে নারাজ, নিয়মানুবর্তিতা এবং স্থির লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শি’শুকে সেই পথেই পরিচালিত করেন।এর ঠিক বিপরীত চিত্রও দেখা যায়।

খুব অল্প সংখ্যক বাবা মা তার স’ন্তানের আ’নন্দের জন্য সব উজাড় করে দেন এবং শি’শুদের নিজের সি’দ্ধান্ত নিজেকে নিতে সাহায্য করেন। সব বাবা মায়েরই স্বপ্ন থাকে সুস’ন্তান হিসাবে গড়ে তোলার। কিন্তু শি’শুকে গড়ে তোলার সময় তারা এমন কিছু ভু’ল করে বসেন যার জন্য ভবি’ষ্যতে তাদের অনুশোচনা করতে হয়।

শি’শুর প্রথম কয়েক বছর জাদুর মত কে’টে যায়। এই ব’য়সগুলো তাদের হেসে খেলে কা’টানোর সময়। আর এই সময়েই তার পরিপূর্ণ মা’নসিক বিকাশ ঘটে এবং ভবি’ষ্যতে সে বাবা মা, পরিবার, সমাজ এবং পৃথিবীর জন্য কী’’’ করবে তার ভিত্তি স্থাপন হয়।

এই সময় তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘ’টনাগুলো ভবি’ষ্যৎ জীবনের উপর দাগ কে’টে দেয়। এর অনেকাংশের জন্য তাদের প্রতি বাবা মায়ের আচরণ প্রবল ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আসুন দেখে নেই স’ন্তানের প্রতি বাবা মায়ের যে ১০টি আচরণের কথা যা ভবি’ষ্যতে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

১. শি’শুদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি না দেওয়া
শি’শু থেকে বড় হয়ে ওঠার জন্য তাদের প্রা’প্তব’য়স্ক মানুষের সান্নিধ্য খুবই প্রয়োজন। তাই তাদের সাথে বাবা মায়ে যোগযোগ বাড়ানো জরুরি। যদি তা না করা হয় তাহলে তারা একাকী’’’ত্বে ভোগে এবং নিজের ক্ষুদ্র মন যা ভালো মনে করে তাই করতে শুরু করে।

যেহেতু তারা জীবন স’ম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না সেহেতু তারা এমন কিছু ভু’ল করে বসে যা তার ভবি’ষ্যৎ জীবনের জন্য ক্ষ’তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২. শি’শুদের আলি’ঙ্গন না করা
গবেষকরা দেখেছেন, শি’শুদের মা’নসিক এবং শা’রীরিক বিকাশের জন্য বাবা মায়ের আলি’ঙ্গন খুব জরুরি একটি বি’ষয়। অজ্ঞতা কিংবা কাজের চা’পে শি’শুকে আলি’ঙ্গন করতে ভু’লে যান অনেক বাবা মা। এতে তাদের মধ্যে শূন্যতাবোধ সৃষ্টি হয়।

৩. শি’শুদের সাথে ছবি না তোলা
ছবি তোলা আর এমন কি! চাইলেই এখন ছবি তোলা যায়। শুধু ছবি কেন? ভিডিও করতেও কি খুব ক’ষ্ট করতে হয়? ছোট্ট এই কাজটি শি’শুর মা’নসিক পূর্ণতা তৈরিতে সাহায্য করে এবং বাবা মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা আরো গভীর করে তোলে। শৈশবের এসব স্মৃ’তি পরবর্তী জীবনে বাবা মায়ের প্রতি তাকে আরো দায়িত্বশীল করে তোলে।

৪. শি’শুর প্রথম কথা লিখে রাখেন না
সুন্দর একটি স্মৃ’তি তাদের জীবনকে আরো আ’নন্দময় করে তুলতে পারে। প্রথম বুলি লিখে রাখলে তার প্রতি আপনি কতটা যত্নশীল ছিলেন তা প্রকাশ পায়। খুব কঠিন কোনো কাজ না এটি। তবুও অনেক বাবা মাই এই বি’ষয়টি উপলব্ধি করেন না। অথচ একটু মনোযোগী হলেই তা করা সম্ভব।

৫. শি’শুর সৃজনশীলতার প্রতি নজর না দেওয়া
আম’রা বলছি না যে তার সৃজনশীলতার প্রতি নজর দিলে সে বড় চিত্র শিল্পী কিংবা কোনো নাম করা গায়ক হয়ে উঠবে। কিন্তু তার সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করলে ভবি’ষ্যতে এর সুফল সে পাবে। সে রুচিশীল এবং নান্দনিক হয়ে গড়ে উঠবে। কিন্তু যদি তা না করেন তাহলে সে বি’কৃত মা’নসিকতা নিয়ে বড় হবে যার ফলাফল আপনাদেরই ভোগ করতে হবে।

৬. শি’শুদের প্রতি ক’ঠোর আচরণ করেন
শি’শুরা ফেরেশতা নয় যে ভু’ল করবে না। ভু’ল থেকে শিক্ষা নিতে নিতেই একদিন সে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। কিন্তু রূঢ় আচরণ কোনো শি’শুই নিতে পারে না এবং তার কোমল মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। তাই তাকে তিরস্কার না করে একটু কৌশলী আচরণ করে তার ভু’ল ধরিয়ে দিন। অন্যথায় তি’ক্ততা বাড়তে বাড়তে একসময় আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে এতে কোনো স’ন্দে’হ নেই।

৭. শি’শুর চাওয়াকে গুরুত্ব না দেওয়া
আপনি নিজেও এই কথা শুনে বড় হয়েছেন, ‘তোমা’র এটা করার ব’য়স হয়নি, বড় হলে করো।’ এই কথাগুলো শি’শুকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য প্রত্যেক বাবা মাই বলেন। কিন্তু শি’শুর চাওয়া এখানে গুরুত্ব হা’রিয়ে ফে’লে।

সে হিনমন্য স্বভাব নিয়ে বেড়ে ওঠে। যে শি’শু হীনমন্যতায় বড় হয় তার দ্বারা সবচেয়ে বড় ভু’লগুলো সংগঠিত হয়। তাই তার চাওয়া অযৌক্তিক হলেও শুনুন, তাকে বুঝিয়ে দিন কেন সে এখনই এই কাজগুলো করার যোগ্য নয়।

৮. শি’শুদের যথেষ্ট আ’নন্দের ব্যবস্থা করেন না
কোমলমতি শি’শুদের মন সবসময় আ’নন্দ খুঁজে বেড়ায়। তারা খেলতে চায়, হাসতে চায়, বেড়াতে যেতে চায়। দুঃখ ভা’রাক্রান্ত শৈশব নিয়ে বেড়ে ওঠা শি’শুরা আ’নন্দের মাঝে বেড়ে ওঠা শি’শুদের চেয়ে ভবি’ষ্যতে অনেক পিছিয়ে থাকে।

কারণ তার মা’নসিক বিকাশ পরিপূর্ণ হয় না তাদের। এজন্য তাদের আচার আচরণ এবং গতি প্রকৃতি স্বাভাবিক হয় না। তারা আপনার সাথেও খা’রাপ আচরণ করতে পারে। এমনও হতে পারে আপনাকে সে ছেড়েই চলে যাবে।

৯. অন্যের কথায় কান দেন তারা
সমাজে বারো রকম মানুষের বারো রকম চাওয়া। আর তা যদি আপনার শি’শুর উপর চা’পিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে আপনাকে তা প্রতিহত করতে হবে।

কারণ স’ন্তান আপনার, যারা অযথা উপদেশ দিয়ে বেড়ান তাদের কথায় কান দেবেন না। যদি তাদের কথা শুনে শি’শুকে বড় করতে চান তাহলে শি’শু তার স্বকী’’’য়তা হারাবে। ভবি’ষ্যৎ জীবনে যার ফলাফল ভ’য়াবহ। সে সময় এই উপদেশ দাতারা আপনার সাথে থাকবেন না কিন্তু ভ’য়াবহতার মুখোমুখি আপনাকেই হতে হবে।

১০. শি’শুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাছে থাকেন না
এমন অনেক বি’ষয় আছে যা আমাদের কাছে গুরুত্ববহন না করলেও শি’শুদের কাছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাবা মা তার সবচেয়ে আপন মানুষ হিসাবেই জেনে আসে সে। তাই জ’ন্ম’দিন, ঈদ, পুজো, জাতীয় বিভিন্ন দিবসে তারা বাবা মায়ের সাথে আ’নন্দ উদযাপন করতে চায়। কিন্তু তার জন্য বিশেষ সময়গুলোতে যদি তাদের কাছে না পাওয়া যায় তাহলে তারা অ’সহায় বোধ করে।

এক ধরনের একাকী’’’ত্ব তাকে ঘিরে ধরে এবং বড় হলেও তা কাটে না। যা তাকে আগ্রাসী করে তোলে এবং আপনার প্রতি সে বিশ্বা’স হা’রিয়ে ফে’লে। বিশ্বা’স হা’রানো পিতা মাতার পরিণতি যারা বরণ করেছেন তারাই শুধু ভালো জানেন।
এ বি’ষয়ে আপনার মতামত কী’’’? আপনার স’ন্তানের সাথে আপনি কেমন আচরণ করেন। নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে ভু’লবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here