মেসেঞ্জার বাজে লেখা পাঠান প্রধান শিক্ষক, কোচিংয়ে ধ’র্ষ’ণের চেষ্টা

0
94

রক্ষকই হয়ে উঠেছেন ভক্ষক চট্টগ্রাম নগরীর কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনের বি’রুদ্ধে উঠেছে ছাত্রীদের যৌ’ন নি’পীড়নের গু’রুতর অ’ভিযোগ।

যেখানে যৌ’ন হ’য়রানির বি’রুদ্ধে তারই বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেওয়ার কথা, সেখানে তিনি নিজেই স’ন্তানতুল্য ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রলোভনে যৌ’ন হ’য়রানি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। ছাত্রী, শিক্ষক, স্কুল কর্তৃপক্ষ, কর্মচারী সকলেই বি’ষয়টি জানেন, তবে প্র’তিবাদ করার সাহস পায় না কেউই।

প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনের বি’রুদ্ধে যৌ’ন হ’য়রানির অ’ভিযোগ এ নতুন নয়। ৬ বছর আগে— ২০১৩ সালে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌ’ন হ’য়রানি করে হয়েছিলেন বরখাস্ত। ৫ বছর পর একই বিদ্যালয়ে ফের প্রধান শিক্ষক ফিরে আসার সুবাদে এবং চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়ার সহপাঠী পরিচয়ে আরও বে’পরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ছাত্রীরা তো বটেই, এমনকি ম’হিলা শিক্ষকরা স’ঙ্গী ছাড়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকতে ভ’য় পান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক— এই চেহারার আড়ালে বারবারই ধা.মাচা’পা পড়ে যায় যৌ’ন হ’য়রানির সবগুলো ঘ’টনা। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রাতঃ বিভাগের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌ’ন নি’র্যাতনের ঘ’টনা প্রকাশ হয়ে পড়লে আড়ালে অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছে।

জিইসির কোচিংয়ে ধ’র্ষণের চেষ্টা!

ভু’ক্তভোগী ছাত্রীর স’ঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথন শুরু করেন প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন। শিক্ষক আলাউদ্দিন ওই ছাত্রীকে স্কুলে গেলে বারবার তার কক্ষে যাওয়ার প্রস্তাব দিতেন। ছাত্রী প্রতিবারই একা যেতে ভ’য় পাচ্ছে বলে জানালেও প্রতিউত্তরে প্রধান শিক্ষক নিজেকে ‘দয়ালু মানুষ’ এবং ‘ভ’য় না পাওয়া’র আশ্বাস দেন। একা যেতে ভ’য় পাওয়ায় ওই ছাত্রী এক আয়াকে বি’ষয়টি জানায়। এভাবেই তখন এক কান-দুই কান করে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক বি’ষয়টি জেনে যান।

পরবর্তীতে জিইসি মোড়ের এক কোচিং ক্লাসে ওই ছাত্রীকে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভু’ক্তভোগী ছাত্রী সেখানে একা গেলে সেখানে তাকে ধ’র্ষণের চেষ্টা করা হলে কোনোমতে সেখান থেকে পা’লিয়ে বাঁচে ওই ছাত্রী। এছাড়াও নানা অশালীন বার্তাও ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে পাঠাতেন প্রধান শিক্ষক।

বি’ষয়টি নিয়ে ছাত্রীর অভিভাবক স্কুলের এক জুনিয়র শিক্ষককে জানালে একে একে স্কুলের সকল শিক্ষক, এলাকাবাসীর মোবাইলে মেসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রিনশট চলে যায়। তারপর থেকেই ঘ’টনা ধা.মাচা’পা দেওয়ার জন্য নানাভাবে হু’মকি ধমকি দিতে শুরু করেন প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘দুই শিফটে স্কুল। বাচ্চারা তো ভ’য় পায়। ওরা (শিক্ষার্থীরা) অ’ভিযোগ করার মত ওইরকম সাহস এখনো পায়নি। এই ছোট ছোট বাচ্চারা এটার গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারে না। এ ঘ’টনায় ছাত্রীর পরিবার থেকে স্কুলে লিখিত অ’ভিযোগ না গেলেও ইতিমধ্যে পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে। সবাই এ ঘ’টনা জানেন।’

ম’হিলা শিক্ষকই সহযোগী!

জানা গেছে, এ ঘ’টনায় প্রথম দিকে ওই ছাত্রীর অভিভাবক আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে স্কুলের আরেক সহকারী শিক্ষক জাহা’নারা বেগম তড়িঘড়ি করে নিজে থেকে দায়িত্ব নেন বি’ষয়টি ফয়সালা করার। অভিভাবকের মোবাইল থেকে সকল প্রমাণাদি সংগ্রহ করে ঘ’টনা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষকদের তিনি জানান, ‘ও তেমন কিছু না। এগুলো নিয়ে এত চি’ৎকার-চেঁচামেচি হাউকাউ করার কিছু নেই।’

ছাত্রীর পরিবারকে এই বি’ষয় নিয়ে কোনো রকমের আওয়াজ না করার পরামর্শও দেন ওই ম’হিলা শিক্ষক। জাহা’নারা বেগম আরও সাবধান করে ছাত্রীর পরিবারকে জানান, বড় ধরনের বি’পদে পড়তে না চাইলে এই বি’ষয়ে আর যেন কথা না বাড়ায় এবং মেয়ে মানুষ কলঙ্ক হয়ে যাবে।

ছাত্রীর পরিবারকে ওই ম’হিলা শিক্ষক আরও বলেন, ‘দরকারটা কী? মেয়ে স্কুলে পড়তে পারবে কিনা স’ন্দে’হ আছে। টিসিও দিয়ে দিতে পারে। এসব ঝামেলায় জড়ানোর কী দরকার?’

জানা যায়, ২০১৩ সালে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর পুনরায় ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন আলাউদ্দিন। আর প্রধান শিক্ষকের বি’রুদ্ধে কেউই সরাসরি নাম প্রকাশ করে মুখ খুলতে চায় না। স্কুলের ম’হিলা শিক্ষকরাও তার দুষ্ট নজর থেকে রেহাই পান না। মান-সম্মান আর চাকরি হা’রানোর ভ’য়ে কেউ এই বি’ষয়ে কথা বলতে রাজি নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, জাহা’নারা বেগম নামের এক সহকারী শিক্ষক আর শা’রীরিক শিক্ষা বি’ষয়ের শিক্ষক মমতাজ হলেন প্রধান শিক্ষকের প্রধান সহযোগী। প্রধান শিক্ষকের সকল অ’পকর্মকে ধা.মাচা’পা দেয়ার দায়িত্ব তারা নিয়েছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের বি’রুদ্ধে কথা বলতে নারাজ আবার কেউ কেউ বাড়তি ঝামেলা না জড়িয়ে গা বাঁচিয়ে চলতে চাইছেন বলেও চুপ করে আছেন দেখেও না দেখার মতো।

হু’মকি ও চা’পের মুখে ছাত্রীর পরিবার ভ’য়ে

জানা গেছে, কেবল একপাক্ষিক চা’প প্র‍য়োগ করেই ক্ষান্ত হননি প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন। নি’র্যাতিত ছাত্রীর পরিবার যে বাসায় ভাড়া থাকেন সেই বাড়িওয়ালার সাথে প্রধান শিক্ষকের ভালো সম্প’র্ক। বি’ষয়টি নিয়ে আর জল ঘোলা না করে সেইজন্যই ছাত্রীর পরিবারকে বাড়িওয়ালার মাধ্যমেও হু’মকি ধমকি দিতে শুরু করেন। এসব নানামুখী চা’পে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভু’ক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারটি। এছাড়া আরও নানাভাবে ভ’য়ভীতি দেখানো হয়। আর এতেই চুপসে যায় ওই ছাত্রীর পরিবার।

ভু’ক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আর বাড়িওয়ালার ভ’য়ে চুপসে যাই আমরা। নিরাপত্তার জন্য যেখানে বাচ্চাকে দিয়েছি সেখানেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাহলে আমরা কার কাছে বিচার নিয়ে যাব? স্কুলের এক শিক্ষককে প্রথম দিকে জানানোর পর নানামুখী হ’য়রানি আরও বেড়ে গেছে।’

প্রধান শিক্ষক টোপ ফে’লেন মেসেঞ্জারে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভু’ক্তভোগী ছাত্রীর এক প্রতিবেশী বলেন, ‘ব্যাপারটা সত্যি। আমরা বি’ষয়টি দেখি। মেসেঞ্জার চ্যাটিংয়ে হেডমাস্টার অনেক বাজে বাজে লেখা পাঠায়। বাজে বাজে কথা বলে। তার মাঝে বেশি বাজে কথাগুলোকে আমরা ডিলিট করে ফেলি। মেয়েটা ঘ’টনার বিবরণ জানায়। পা’লিয়ে এসেছে বলেই তার ক্ষ’তি হয়নি। কিন্তু তারপরও তো মে’য়েটা নিরাপদে থাকতে পারছে না। প্রতিদিনই ভ’য়ে ভ’য়ে কা’টাতে হচ্ছে দিন। এটা কি আসলেই কাম্য? এই শিক্ষককে এর আগেও ২০১৩ সালে হাতেনাতে আ’টক করা হয় অসামাজিক কার্যকলাপরত অবস্থায়। তারপর সাময়িক বরখাস্ত করাও হয়। এরপরও একই পদে আবারও পুনর্বহাল কী করে হয়, তাই ভেবে পাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘মহিউদ্দিন অনুসারীরা যদি এই বি’ষয়ে প্র’তিবাদ করে, তাহলে চসিক মা’মলা করে দেবে বলেও হু’মকি ধমকি দেয়। তাই মা’মলা-হা’মলার ভ’য়ে কেউই এগিয়ে আসতে চায় না। এই শিক্ষকের বি’রুদ্ধে অর্থ আত্মসা’ৎ, নানান অনিয়মের অ’ভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু যার কোন প্রতিকার নেই। আসলে হবে কিনা তারও কোন সম্ভাবনা নেই।’

অ’ভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কী বলেন

অ’ভিযোগের সত্যতা প্রস’ঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ মৃদু হেসে বলেন, ‘না না এটা আমি বুঝলাম না। না না বি’ষয়টা এরকম না। আপনি শিক্ষা বিভাগ থেকে জেনে নিয়েন কী বি’ষয়ে কথা আছে। শব্দটা এরকম না। কোনো স্টুডেন্টকে বার্থডে উইশ করি, তাহলে তো এই পর্যায়ে কথা হয় না। কথাটা ভিন্নভাবে রঙ দিয়ে ছড়ানো হয়েছে।’

স্কুলে যৌ’ন হ’য়রানি রোধে কমিটি প্রস’ঙ্গে অ’ভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘হ্যাঁ কমিটি আছে তো। এখানে ম্যাডাম টিচাররা আছে। বাচ্চারা শিক্ষকদের সাথে কাউন্সেলিং করে। আমি টিচারদের সাথে এগুলো নিয়ে কথা বলি। ম্যাডামরা স্টুডেন্টদের সাথে কথা বলেন।’ সুত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here