১০ বছর কবরস্থানে বাস করা সেই আনোয়ারা উঠলেন স্বপ্নের বাড়িতে

0
90

শেয়াল-কুকুরের স’ঙ্গে কবরস্থানের একপাশে বসতি করে বসবাস করতেন আনোয়ারা বেগম (৬০)। স্বা’মীর মৃ’ত্যুর পর নিজেদের কোন জমি বা ঘরবসতি না থাকায় বুদ্ধিপ্রতিব’ন্ধী একমাত্র ছেলে আশাকে নিয়ে ১০ বছর ধরে বসবাস করতেন কবরস্থানে।সেখানে একপাশে খড়কুড়ো দিয়ে মাটির ঘর তৈরি করে ছেলেকে নিয়ে কোনরকমে মাথাগোঁজার ঠাই করেছিলেন। মা-ছেলে দু’জনেই অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতেন।

ফলে নিজের কোন ঘরবসতির কথা স্বপ্নেও ভাবেননি আনোয়ারা বেগম। তবে সেটিই সত্য হয়েছে। স’রকারের টিআর প্রকল্পের আওতায় দু’র্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়েছেন তিনি।স্থানীয়রা জানায়, শেয়াল-কুকুরের স’ঙ্গে কবরস্থানের একপাশে বসতি গড়েছিলেন আনোয়ারা। প্রথমে ভ’য়ে অনেক রাতই নির্ঘুম কাটিয়েছেন বুদ্ধিপ্রতিব’ন্ধী ছেলেকে নিয়ে। তার ও’পর আবার যেদিন কবরস্থানে কোন লা’শের দাফন হতো সেদিন ভ’য়ে অন্যের বাড়ির বারান্দায় রাত কাটিয়েছেন তারা।

এভাবেই দীর্ঘ ১০ বছর কবরস্থানেই বসবাস করেছেন হতদরিদ্র অ’সহায় আনোয়ারা বেগম। তিনি ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজে’লার পারদ’খলপুর গ্রামের মৃ’ত বিশারত আলীর স্ত্রী। আনোয়ারা বেগমের এই অ’সহায়ত্ব নিয়ে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ‘১০ বছর ধরে কবরস্থানে বসবাস‘ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদটি উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা নাফিস সুলতানার নজরে এলে তিনি পত্রিকার প্রতিনিধিকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে আনোয়ারা বেগমকে সহায়তার ই’চ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি ওইদিনই নিজ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে পাঠান কবরস্থানে আনোয়ারা বেগমের অ’সহায়ত্ব দেখতে। পরে তিনিও সেখানে পরিদর্শনে যান। প্রতিশ্রুতি দেন আনোয়ারাকে একটি ঘর দেওয়ার।

কিন্তু অ’সহায় আনোয়ারা বেগমের নিজের কোন জায়গা-জমি না থাকায় ঘর তৈরিতে দেখা দেয় জটিলতা। আবারও তার পাশে দাঁড়ান ইউএনও। তিনি স’রকারি জায়গার ব্যবস্থা করে সেখানেই শুরু করেন আনোয়ারা বেগমের জন্য ঘর তৈরির কাজ। উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ঘর তৈরির।উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের স’রকারের

দু’র্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি কক্ষ, একটি টয়লেট ও একটি রান্নাঘর বিশিষ্ট দু’র্যোগসহনীয় বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে আনোয়ারার জন্য।উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন বলেন, প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা বেগমের জন্য দু’র্যোগ সহনীয় বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে একটি চা’পকলও। উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত থেকে ইতোমধ্যে ওই অ’সহায় মা-ছেলেকে ঘর বুঝিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তারা সেখানে বসবাস করছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বুদ্ধি প্রতিব’ন্ধী ছেলে আশাকে নিয়ে ঘরের বারান্দায় আপন মনে গল্প করছেন। নতুন ঘর পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি নিজের একটি বাড়ি হবে। তিনবেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না, তাই বাড়ির স্বপ্ন কখনও দেখিনি। আপনাদের কাছে জেনে ইউএনও আমাকে একটি বাড়ি দিয়েছেন। তার ও’পর আবার পাকা বাড়ি। এটা আমার রাজপ্রাসাদ।

তিনি বলেন, ইউএনওর মতো এমন দয়ালু মানুষ কোনদিন দেখিনি। এখন আর শেয়াল-কুকুরের ভ’য় নেই। জীবনে অনেক রাত ভ’য়ে না ঘুমিয়েই কাটিয়েছি। এখন খাই, না খাই অন্তত রাতে আরামে মা-ছেলে ঘুমাতে পারি। যখন ঘরের কাজ শুরু হয় তখন ইউএনও প্রায়ই আসতেন। মাঝে মাঝেই আমাদের জন্য চাল, ডাল, আলু, তেলসহ নানা খাবার দিয়ে যেতেন। এখনও তিনি আমার খোঁজ নেন। আল্লাহ এমন দয়ালু আর ভালো মানুষকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুক।

উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা নাফিস সুলতানা বলেন, সমাজের এসব অ’সহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে তাদের পাশে থেকে সেবা করতে চাই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মুজিব বর্ষে দেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে অ’সহায় আনোয়ারা বেগমের জন্য বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here