ছাই থেকে সোনা খুঁজে স্বাবলম্বী হাজারো পরিবার

0
268

‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখিও তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূ’ল্য রতন।’ উল্লেখিত কথাটি কবি হয়ত রূপক অর্থেই ব্যবহার করেছিলেন। তবে রূপক কথাটি বাস্তব হয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজে’লার চারিগ্রম ইউপির হাজারো পরিবারের।

ছাই-ধুলাবালি থেকেই সোনা আহরণ করছে পরিবারগুলো। কয়েক পুরু’ষ ধরে এটাই তাদের পেশা। আর এ পেশায় থেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে সিংগাইর উপজে’লার চারিগ্রাম, দাশেরহাটি, মালিপাড়াসহ কয়েক গ্রামের হাজারো পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। কথা হয় সোনা আহরণকারী আব্দুল হালিম মোল্লার স’ঙ্গে। তিনি জানান, স্বর্ণকারের দোকানে পাওয়া যায় এই ছাই। স্বর্ণকাররা অলংকার গড়ার সময় স্বর্ণের গুড়া ছাইয়ের স’ঙ্গে ধুলায় মিশে যায়। প্রতিদিন দোকান ঝাড়ু দেয়ার সময় এই ধুলাবালি যেকোনো একটি স্থানে জমিয়ে রাখেন।

বছরে একবার কিংবা দুইবার এই ধুলা বিক্রি করা হয়। সোনা মিশ্রিত এই ধুলাবালি ঢাকার তাতী বাজারে বেশি পাওয়া যায়। সারাদেশের ৯৫ শতাংশ ধুলাবালির ক্রেতা চারিগ্রাম এলাকার সোনা আহরণকারীরা। একেকটি দোকানের ধুলা ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি হয় বলে জানা যায়।

ধুলবালি থেকে সোনা বের করা অতি ক’ষ্টসাধ্য এবং জটিল কাজ। এই কাজ বেশিরভাগ না’রীরাই করে থাকেন। লেমুবাড়ী গ্রামের সেলিনা বেগম জানান, ধুলাবালি প্রথমে বড় একটি গামলা বা পাত্রে করে পানি দিয়ে ধুতে হয়। সোনা মিশ্রিত ধুলা সব নিচে পড়ে যায়। ভাসমান ময়লা ফে’লে দেয়া হয়। এরপর ধুলা রোদে শুকানো হয়।

শুকানোর পর ওই ধুলা ঢেকি দিয়ে আরো মিহিন করে পাউডারের মতো করা হয়। এরপর সেই মিহি পাউডার পানিতে ভিজিয়ে পা’তলা কাপড়ে ছাঁকতে হয়। খুব সাবধানতার স’ঙ্গে ভেজানো মিহি পাউডারের ও’পর থকে ধুলা সরিয়ে নয়া হয়। একপর্যায়ে নিচে পড়ে থাকে সোনা মেশানো কয়েক মুঠো পাউডার। খালি চোখে সোনা আলাদাভাবে দেখার কোনো উপায় নেই।

এই পাউডার ভালো করে শুকিয়ে মেশানো হয় দস্তা, চুনসহ কয়েক প্রকারের রাসায়নিক পর্দাথ। এরপর ওই পাউডার মাটির গর্তে রেখে তাপ দেয়া হয়। প্রচণ্ড তাপে অন্যান্য সব পর্দাথ পু’ড়ে ছাই হয়ে উড়ে যায়। নিচে পড়ে থাকে প্রতিক্ষিত সোনা এই প্রক্রিয়া শেষ হতে আট ঘণ্টা করে প্রায় তিনদিন সময় লাগে।

এ ব্যবসা করে এলাকার আনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। এদের মধ্যে চারিগ্রাম ইউপির দাশেরহাটি গ্রামের সাহদা বেগম একজন। প্রায় ২০ বছর আগে পাঁচ মে’য়ে এক ছেলে রেখে স্বা’মী জাগন আলী মা’রা যান। অভাবের সংসারে ছেলে মে’য়েদের নিয়ে বেশ ক’ষ্টেই দিন কাটছিলো তাদের। উপায়ন্ত না পেয়ে স্বা’মীর রেখে যাওয়া সামান্য পুঁজি নিয়ে নেমে পড়েন স্বা’মীর কাছ থেকে শেখা ব্যবসায়।

প্রথম অবস্থায় পুঁজির অভাবে ডিমাতালে ব্যবসা চালাতে থাকেন সাহিদা। তবে ক’ষ্টের ফল পেতে খুব একটা দেরী করতে হয়নি তাদের। এই ব্যবসার টাকা দিয়ে পাঁচ মে’য়েকে ভালো পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। একমাত্র ছেলে মি’লন হোসেন এবং মে’য়ের স্বা’মীদের বিদশে পাঠিয়েছেন। কেবল সেলিনা, সাহিদা নয় ছাইয়ের ব্যবসা করে চারিগ্রাম এলাকার হাজরো পরিবার হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here