৯ম শ্রেণি পাস হাবিব হাসান ঢাকা-১৮ আসনের এমপি হতে চান!

0
579

ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা উচ্চ শিক্ষিত। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনের নির্বাচিত সং’সদ সদস্যের মৃ’ত্যুর পর উপ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেক প্রার্থী। ইতোমধ্যে এ আসনে ক্ষ’মতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৫৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহসভাপতি হাবিব হাসানও রয়েছেন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা হাবিব হাসান গুরুত্বপূর্ণ ওই আসন থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। এতে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। দল থেকে হাবিবকে মনোনয়ন দিলে ওই আসনটি হারাতে পারে আওয়ামী লীগ এমন দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।সূত্রমতে, মোহাম্ম’দ হাবিব হাসান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

সেই নির্বাচনের হলফনামায় তিনি নবম শ্রেণি পাসের কথা উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, ঢাকা-১৮ আসনে যারা মনোয়ন প্রত্যাশী তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বি’তর্কি’ত হলেন হাবিব হাসান। তিনি পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জ’ড়িত। এছাড়াও তার বি’রুদ্ধে ভূমি দ’খলসহ একাধিক মা’মলাও রয়েছে।

উত্তরা ৩নং সেক্টরের ২৭ নং প্লটে লতিফ এম্পোরিয়াম মার্কে’টেও দুটি দোকান দ’খলের অ’ভিযোগ করেছেন ভু’ক্তভোগী নিলুফা ইয়াসমিন নিলু। তিনি বিবার্তাকে জানান, হাবিব হাসান আমাকে আকাশ থেকে পাতালে ফে’লে দিয়েছেন। আমার স’ন্তানদের এতিম করেছেন। আমি এবং আমার স্বা’মী প্রবাসে চাকরি করে টাকা জমিয়ে মার্কে’টের ৪ ও ৯ নাম্বার দোকান ক্রয় করি। এই হাবিব হাসান হঠাৎ করেই ৩০ লাখ টাকার মালামালসহ আমাদের দোকান দ’খল করে নেয়। এই শো’কে আমার স্বা’মী স্ট্রোক করে মা’রা যান। আজ আমি এতিম স’ন্তানদের নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। আমি হাবিব হাসানের বিচার চাই।

সূত্র জানায়, হাবিব হাসানের বাবা ১৯৭১ সালে পাক হা’নাদার বাহিনীর ছায়াদানকারী সংগঠন শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। জিয়ার আমলে গ্রাম স’রকারের দায়িত্বও পালন করেন তার বাবা। এছাড়া হাবিবের ছোট ভাই মরহুম মো. কফিল ঢাকা উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তাদের আপন চাচাত ভাই কুদরত এ এলাহি লিটন দীর্ঘদিন ধরে উত্তরা থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও হাবিবের চার নম্বর ভাই রিয়াজ ১/১১ এর আগের দিন বিএনপির সাবেক মহাস’চিব আব্দুল মান্নান ভূইয়ার হাতে ফুলের তোরা দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। যা ওই দিন দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।এলাকাবাসীর অ’ভিযোগ, হাবিব একজন ভূমিদস্যু এবং চাঁ’দাবাজ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। ভূমিদস্যূ ও চাঁ’দাবাজীর অ’ভিযোগও রয়েছে তার বি’রুদ্ধে। এমন অ’ভিযোগে তাকে একাধিকবার পু’লিশ গ্রে’ফতার করে।

শুধু তাই নয়, হাবিবের একটি লা’ঠিয়াল বাহিনী ছিল। ওই বাহিনী ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাবিবের নির্দেশে জমি দ’খল করতে গিয়ে হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে খু’ন করে। পরবর্তীতে এ ঘ’টনায় একটি মা’মলা দা’য়ের করা হয়। ওই মা’মলার হুকুমের আ’সামি ছিলেন হাবিব হাসান। পরবর্তীতে ৫০ লাখ টাকার বিনিময় ও সরদার সুরুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সহায়তায় তার সহযোগীদের ফাঁ’সিয়ে নিজের নাম মা’মলা থেকে বাদ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে ওই মা’মলার আসাসিদের বি’রুদ্ধে ফাঁ’সির রায় দেন আ’দালত।এ বি’ষয়ে খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী বিবার্তাকে বলেন, আমি নিজেও এ উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আমরা চাই এ উপনির্বাচনে একজন শিক্ষিত ও ভালো মানুষ মনোনয়ন পান। দলের নীতিনির্ধারকেরাও একজন ভালো লোককে মনোনয়ন দিবেন বলে আমরা আশাবা’দী।

এসব অ’ভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্ম’দ হাবিব হাসানের সাথে যোগাযোগের জন্য বার বার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, ঢাকা-১৮ আসনে গত ১২ বছর ধরে এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তার মৃ’ত্যুতে এ আসনটি শূন্য হয়। তাই ওই আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করছে আওয়ামী লীগ। তবে ওই আসনে কেমন প্রার্থী দেয়া হবে? এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা ঝল্পনা-কল্পনা। যদি কোনো ব্যবসায়ী ও অনুপ্রেবশকারীকে মনোনয়ন দেয়া হয় তা হলে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ হাত ছাড়া করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here