রাত নামলেই ‘দানব’ হয়ে ওঠে সিএনজিচালকদের অনেকে

0
561

সূর্য অস্ত গিয়ে রাত নামা’র পরপরই চট্টগ্রাম নগর কিংরা নগরীর বাইরে সিএনজিচালকদের একটি অংশ হয়ে ওঠে রীতিমতো ‘দানব’। কখনও নির্জনতার সুযোগে, কখনও আবার পেশীশ’ক্তির জো’রে না’রীদের ধ’র্ষণ করার ফাঁদ পাতে তারা।

চট্টগ্রাম নগরীতে এমনও সিএনজিচালকের খোঁজ মিলেছে, যার কাজই ছিল শি’শুদের ধ’র্ষণ করা। সিএনজিচালকদের অনেকে করে অ’ভিনব কৌশলে ছি’নতাইও। তবে পু’লিশ বলছে, এ ধরনের অ’প’রাধে জ’ড়িতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আছে তাদের কাছে।

২০১৯ সালের ৫ জুলাই আনোয়ারার কর্ণফুলী ইপিজেডের কর্মস্থল থেকে রাতের বেলা চন্দনাইশের নিজ বাড়িতে ফেরার পথে গণধ’র্ষণের শি’কার হন এক কি’শোরী। অ’সুস্থ অবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে তাকে উ’দ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে পাঠান স্থানীয়রা।

তার দেওয়া ত’থ্যের ভিত্তিতে পু’লিশ মামুন ও হেলাল নামে দুই সিএনজিচালককে আ’ট’ক করে। তারা ঘ’টনার লোমহর্ষক বর্ণনায় আ’দালতে স্বী’কারোক্তিমূ’লক জবানব’ন্দি দেয়।

তাদের স্বী’কারোক্তিতে উঠে আসে ঘ’টনার মূ’ল হোতা আব্দুন নুর। সেই জবানব’ন্দিতে আ’সামিরা জানায়, ধ’র্ষণের পরিকল্পনা করেই তারা চারজনের মধ্যে একজন চালকের বেশে ও অন্যরা যাত্রীবেশে চাতরি চৌমুহনী এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিল।

কি’শোরী কোরিয়ান ইপিজেডে কর্ণফুলী সু ফ্যাক্টরিতে কাজ শেষে চন্দনাইশে বাড়ি যাওয়ার জন্য ওই সিএনজি অটোরিকশায় উঠে। এরপর চৌমুহনী এলাকার কালারমা’র দীঘি এলাকায় পৌঁছালে তারা ওই কি’শোরীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধ’র্ষণ করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফে’লে পা’লিয়ে যায় অ’ভিযু’ক্তরা। এই ঘ’টনার মূ’ল হোতা জীবিত আব্দুন নুরকে ধরতে না পারলেও পরের মাসে তার গু’লিবিদ্ধ লা’শ উ’দ্ধার করে আনোয়ারা থা’না পু’লিশ।

ঠিক তারও এক বছর আগে নগরীর জিইসি মোড় থেকে এক না’রী চিকিৎসক সিএনজিতে চড়ে হামজারবাগের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মুরাদপুর এলাকায় রাস্তায় গাড়ির ভীড় থাকার কারণে চালক গাড়ি নিয়ে ফরেস্ট এলাকার ভিতর দিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ফরেস্ট গেইটে যাওয়ার পর নির্জন পাহাড়ি এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তরুণী চিকিৎসককে জো’রপূর্বক ধ’র্ষণের চেষ্টা করে ওই চালক।

পরে ওই চিকিৎসকের চি’ৎকারে বনবিভাগের নৈ’শপ্র’হরীরা সিএনজিচালক জামশেদকে ধরে পু’লিশে সোপর্দ করে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে আসার সময় অটোরিকশার ভে’তর ছি’নতাইকারীদের কবলে পড়েন আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী। ওই অটোরিকশার চালক বিল্লাল নিজেই ছিলেন ছি’নতাইকারী।

চালকসহ চার ছি’নতাইকারী অ’স্ত্রের মুখে চলন্ত গাড়িতে আসাদুজ্জামানকে জি’ম্মি করে টাকা ছি’নিয়ে নেয় এবং তাকে গাড়ি থেকে ধাক্কা মে’রে ফে’লে দেয়। এ সময় তারা পা’লিয়ে যেতে থাকলে আসাদুজ্জামানের চি’ৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে ছি’নতাইকারীরা অটোরিকশা ফে’লে পা’লিয়ে যায়। পাহাড়তলী থা’নার পু’লিশ একাধিক স্থানে অ’ভিযান চা’লিয়ে সিএনজিচালক বিল্লালসহ কয়েকজনকে গ্রে’প্তার করে।

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, আকবরশাহ ও খুলশী এলাকায় গত ৭ মাসে অন্তত ৮ শি’শুকে একই কায়দায় ধ’র্ষণ করা হয়। প্রথমে শি’শুদের চকলেট ও টাকার প্রলো’ভন দেখিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয় চালক। এরপর পাশের পাহাড়ে নিয়ে ধ’র্ষণ করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শি’শুরা কা’ন্না করলে ছু’রি দিয়ে ভ’য় দেখানো হয়। এভাবে একই কায়দায় একের পর এক শি’শু ধ’র্ষণের শি’কার হওয়ায় এলাকায় আ’তঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের স’ন্দে’হ হলে সিএনজিচালক বেলাল হোসেন দফাদারের ছবি সংগ্রহ করে ধ’র্ষণের শি’কার শি’শুদের দেখানো হয় এবং তারা বেলালের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে সিএনজিচালক ধ’র্ষক বেলালকে বায়েজিদ থা’না পু’লিশ আ’ট’ক করতে গেলে পু’লিশের সাথে ‘গো’লাগু’লি’ হয়। পরে গু’লিবিদ্ধ অবস্থায় বেলালকে উ’দ্ধার করে চ’মেক হাসপাতা’লে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। বেলালের বি’রুদ্ধে থা’নায় ১৪টি মা’মলা ছিল, যার ১০টিই ছিল ধ’র্ষণের অ’ভিযোগে।

ঠিক একমাস আগে ৩১ জুলাই সকালে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার সিডিএ এক নম্বর রোডের বাসা থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে যাওয়ার সময় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভা’রের ষোলশহর দুই নম্বর গেইট থেকে জিইসি মোড় অংশে ছি’নতাইয়ের শি’কার হন মোহাম্ম’দ ইব্রাহীম নামের এক ব্যক্তি। আগে থেকে কেনা গরুর টাকা পরিশোধ এবং মোবাইল কেনার জন্য দুই লাখ নয় হাজার টাকা নিয়ে অটোরিকশায় উঠেছিলেন তিনি।

ঘ’টনার শি’কার মোহাম্ম’দ ইব্রাহীম বলেন, ‘ফ্লাইওভা’রে ওঠার পর জিইসি মোড় অংশের কাছাকাছি আসতেই সিএনজিচালক গাড়ি ন’ষ্ট হয়েছে বলে তাকে নেমে দাঁড়াতে বলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে লাল রঙের মোটরসাইকেলে তিন যুবক এসে দাঁড়ায় এবং দুইজন আমাকে জো’র করে অটোরিকশায় তুলে ফে’লে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। অটোরিকশার ভে’তরে আমা’র সাথে থাকা টাকা জো’র করে ছি’নতাই করে নিয়ে নেয় এবং জিইসি মোড়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে গাড়ি থেকে ফে’লে দেয়।’

সবশেষ ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় বায়েজিদ থা’নার অক্সিজেন এলাকায় পাঁচজন সিএনজিচালক পালাক্রমে ধ’র্ষণ করে এক পোশাক শ্র’মিককে। ওই পোশাক শ্র’মিক স্বা’মীসহ বাসায় ফিরছিলেন। পথে তার স্বা’মীকে আ’ট’কে রেখে শফি, বাদশা মিয়া, মো. রবিন, মো. জাবেদ ও মো. ইব্রাহীম নামের ওই পাঁচ সিএনজিচালক এই লোমহর্ষক ঘ’টনা ঘটায় বলে পু’লিশ জানিয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ভি’কটিমের স্বা’মী পু’লিশের সহযোগিতায় স্ত্রী’কে উ’দ্ধার করেন। পু’লিশ ‘নাটের গুরু’ শফি ছাড়া বাকিদের হাতেনাতে আ’ট’ক করে।

ধারাবাহিকভাবে সংগঠিত এই অ’প’রাধে যারা সম্পৃক্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ ডাটা পু’লিশের কাছে আছে জানিয়ে নগর পু’লিশের উপকমিশনার (উত্তর জোন) বিজয় বসাক বলেন, ‘অ’প’রাধ অনুযায়ী ছোটবড় সব অ’প’রাধে সম্পৃক্ত অ’প’রাধীর পূর্ণাঙ্গ ডাটা আমাদের কাছে আছে। প্রতিটি ঘ’টনায় আম’রা অ’ভিযু’ক্তদের আইনের আওতায় আনতে পেরেছি। অ’প’রাধ করে কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।’

সুত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here