বাংলাদেশকে যে বার্তা দিয়ে গেলেন শ্রিংলা

0
154

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স’ঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র স’চিবের আলোচনায় একগুচ্ছ বি’ষয় উঠেছিল। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- আগামী এক বছরে বাংলাদেশে পাঁচ’টি প্রকল্পের কাজ শেষ করবে ভারত। এই প্রকল্পগুলো হলো রামপাল-মৈত্রী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন, আখাউড়া-আগরতলা, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি এবং খুলনা-মোংলা রেল সংযোগ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরও তিনটি দ্বি-পাক্ষিক বি’ষয়ে সহযোগিতার বার্তাও দিয়ে গেছেন শ্রিংলা। খবর ডয়চে ভেলের।

সম্প্রতি সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই কথাই জানিয়ে গেছেন ভারতের পররাষ্ট্র স’চিব হর্ষবর্ধ’ন শ্রিংলা।

দেশটির পররাষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এসব বি’ষয় জানিয়ে বলেছেন, খুব তাড়াতাড়ি জয়েন্ট কলসালটেটিভ কমিশনের বৈঠক হবে। সেখানে দুই বিদেশমন্ত্রী ভারত ও বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্প’র্ক নিয়ে আলোচনা করবেন। ভারতের উদ্যোগে যে সব প্রকল্প হচ্ছে, সে বি’ষয়েও কথা হবে। এই প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চ ক্ষ’মতাসম্পন্ন জয়েন্ট মনিটরিং মেকানিজমও তৈরি করা হবে।

মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারত প্রস্তাব দিয়েছে, তারা ঢাকার স’ঙ্গে অল্প কিছু বিমান চালাবে। সেখানে কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসার জন্য যারা ভারতে আসতে চান, তারা যাতায়াত করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে আরও তিনটি বি’ষয় জানিয়েছেন শ্রিংলা। মুজিববর্ষে ভারত বঙ্গবন্ধুর সম্মানে একটি ডাকটিকিট বের করবে। তাছাড়া ক’রোনা নিয়ে ভারত ঢাকাকে সবধরনের সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি সীমান্ত নিয়ে কোনোরকম স’মস্যা হলে তা দ্রু’ত মিটিয়ে ফেলা হবে।

এই প্রস’ঙ্গেই সী’মান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও এক দেশে অ’পরাধ করে অন্য দেশে পা’লিয়ে যাওয়া অ’পরাধীদের ধরা ও তাদের প্রত্যর্পণ করা নিয়েও কথা হয়েছে।

অনুরাগ জানিয়েছেন, শ্রিংলা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রস’চিবকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দুই স’চিবের মধ্যে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বি’ষয় নিয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রস’চিব ভারতে আ’টকে থাকা বাংলাদেশের তাবলিগ প্রতিনিধিদের সে দেশে ফেরার প্রস’ঙ্গ তুলেছিলেন। শ্রিংলা জানিয়েছেন, অনেকে বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। বাকিরা যাতে দ্রু’ত ফিরতে পারেন, সেই চেষ্টা করা হবে। ভারতের আ’দালত ভিসা সংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করার জন্য বিদেশ থেকে আসা তাবলিগের প্রতিনিধিদের জরিমানা করে নিজেদের দেশে ফেরত যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তারপর এক হাজার ৩০ জনের মধ্যে ৫৫০ জন নিজেদের দেশে ফিরে গেছেন। বাকিদেরও দ্রু’ত ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

অনুরাগের মতে, শ্রিংলার এই সফর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে ভারত কতটা গুরুত্ব দেয়, এই সফরের মধ্য দিয়ে তা আবার বোঝা গেল। তাছাড়া দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও যোগাযোগের মধ্যে থাকবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের কথা থেকে এটাও বোঝা যাচ্ছে যে, ভারত এখন বাংলাদেশের স’ঙ্গে সুসম্প’র্ক বাড়াবার চেষ্টা করছে। শুভেচ্ছার প্রমাণ স্বরূপ দ্রু’ত তারা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে চাইছে।

শ্রিংলার এই সফর আগে থেকে ঠিক করা ছিল না। তাই তিনি হঠাৎ ঢাকা গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার স’ঙ্গে বৈঠক করার পরই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, তার এই সফরের উদ্দেশ্য কি? কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের স’ঙ্গে সম্প’র্ক আরও শ’ক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। তারা তিস্তার ড্রেজিং ও জলসেচের জন্য একশ কোটি ডলার সাহায্য দিতে চলেছে। সিলেটের একটি বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের বরাতও চীনের সংস্থা পেয়েছে। লাদাখে চীনের স’ঙ্গে র’ক্তাক্ত সং’ঘাতের পর থেকেই চীন ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোকে দিয়ে দিল্লিকে ঘিরতে চাইছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

নেপাল নতুন ম্যাপ প্রকাশ করে ভারতের অংশ দাবি করেছে। পাকিস্তানও একইরকমভাবে ম্যাপ প্রকাশ করে ভারতের অংশ দাবি করেছে। প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশের স’ঙ্গে ভারতের সম্প’র্ক খুবই ভালো। ভারত স্বাভবিকভাবেই চাইবে বাংলাদেশ যেন চীনের দিকে না ঝোঁকে। শ্রিংলার এই হঠাৎ সফরের পেছনে সেই তাগিদই কাজ করছে বলে তারা মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here