বৃষ্টি আসলেই বাঁচার জন্য বাহিরে এসে ঘর ধরে দাড়িয়ে থাকে প্রতিব’ন্ধী আনোয়ারা

0
386

আকাশে মেঘ করে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি নামলেই নিজেকে বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তার উপরে তৈরি করা অস্থায়ী ঘরের চালার নিচে এসে দাঁড়ায় শা’রীরিক প্রতিব’ন্ধী আনোয়ারা খাতুন।

কারণ ঘরের মধ্যে বৃষ্টি আর বাতাসের ঝাপটায় কুলানো যায় না। বাড়ি ফিরে যাবার প্রস্তুতি হিসাবে রাস্তার উপরে নির্মিত অস্থায়ী ঘরের একাংশ ভে’ঙে নেয়ার পর থেকে গত সাতদিন ধরে চলছে তার এমন বেহাল দশা।

যমুনা নদীতে আবারো পানি বৃ’দ্ধির ফলে তার বসত বাড়ি চতুর্থবারের মতো ডুবে যাওয়ায় এখন তিনি কী করবেন তা স্থিরও করতে পারছেন না। একই অবস্থা এই এলাকার প্রায় দুই শতাধিক মানুষের।

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মালসা পাড়া গ্রামের বিধবা প্রতিব’ন্ধী আনোয়ারা বেগম। দুই ছেলে ও এক মে’য়েকে নিয়ে থাকেন রাস্তার ধারের স’রকারি একটি নিচু জমিতে।

প্রায় দু’মাস ধরে তার বসত ঘরে পানি উঠে পড়ায় আশ্রয় নিয়েছেন সিরাজগঞ্জ মুলিবাড়ি সংযোগ সড়কের ধারে। গত ৭ দিন আগে পানি কমতে থাকায় তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। রাস্তার পাশে তৈরি করা ঝুঁপড়ি ঘরের বেড়া সহ আনুষাঙ্গিক জিনিস খুলে বাড়িতে নিয়ে যায়।

কিন্তু হঠাৎ করেই আবারো পানি বাড়তে থাকায় পুনরায় ফিরে আসেন সড়কে। কিন্তু তার ঝুপড়ি ঘরের চারপাশের বেড়া খুলে নেওয়ায় কোন ভাবে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলেও সামান্য বাতাস আর বৃষ্টির তোড়ে ঘরে থাকা যায় না।

আকাশে মেঘ দেখলেই শি’শু স’ন্তান আর নিজেকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এসে দাঁড়ান ঘরের চারপাশে বেড়ার আড়ালে। তাতে ক’ষ্ট হলেও বৃষ্টির পানির হাত থেকে বাঁচা যায় বলে তিনি জানান। আনোয়ারা বেগম জানালেন, ‘১১ বছর আগে তার স্বা’মী নুরুল ইসলাম মা’রা গেছেন।

জ’ন্ম থেকেই শা’রীরিক প্রতিব’ন্ধী আনোয়ারা বেগম এখন তার এক ছেলে এবং এক মে’য়েকে নিয়ে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চা’লায়। দুই মাস হল তিনি বাঁধের উপরে এসে আশ্রয় নিলেও এ পর্যন্ত কোনো স’রকারি কিংবা বেস’রকারি ত্রাণ তার ভাগ্যে জোটেনি।’

আনোয়ারা জানালেন, ‘পানি কমতে থাকায় তার মত অনেকেই বাঁধের উপরে নির্মিত অস্থায়ী ঘরবাড়ি ভে’ঙে চলে গেছে। কিন্তু আবারো পানি বৃ’দ্ধি পাওয়ায় তারা সবাই এখন তার মতোই বিপাকে পড়েছে। সোমবার বিকেলেও যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকায় হতাশা আর ক্ষো’ভ প্রকাশ করে জানালেন এভাবে চলতে থাকলে স’ন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকাই মুশকিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। ক’রোনা ভাই’রাসের কারণে বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। তার উপরে বন্যা তাদের জীবনকে দুর্বি’ষহ করে তুলেছে। কেউ কেউ ত্রাণ সহায়তা পেলেও অনেকের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। তার উপরে চতুর্থবারের মতো পানি বাড়তে থাকায় এখন তারা দু চোখে অন্ধকার দেখছেন।’

প্রতিবেশী মনিজা জানালেন, প্রায় দুই মাস ধরে তাদের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকায় বাঁশের বেড়া পচে গেছে, ঝাঁঝরা হয়ে গেছে টিনের বেড়া। কারো কারো ঘর ধসে পড়েছে। এখন তাদের পেট চা’লানোই দায় হয়ে পড়েছে। তার উপরে বি’ধ্বস্ত ঘরবাড়ি কিভাবে মেরামত করবেন তা তারা জানেন না।

জে’লা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ স্থায়ী বন্যায় সিরাজগঞ্জে ক্ষ’তিগ্রস্ত হয়েছেন ১লাখ ১৮হাজার পরিবার এবং প্রায় সাড়ে পাচ লাখ মানুষ পানিব’ন্দি হয়ে পড়েন। বন্যা এখনো শেষ হয়নি। পানি আবারো বাড়ছে। তৃতীয় দফা বন্যায় জে’লার ছয়টি উপজে’লার ক্ষ’তিগ্রস্ত মানুষদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয় তবে চতুর্থ দফা বন্যার আশংকার কারণে তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here