কুকুর দেখলেই জড়িয়ে ধরে দু’ধ পান করে শি’শুটি! কারন জানলে চোখের জ্বল আ’টকাতে পারবেননা!

0
232

ফখরুদ্দীন। ব’য়স সাত। স্থানীয়দের কাছে ফখরা নামে বেশ পরিচিত। আলোচিত হয়েছে কুকুরের স’ঙ্গে স’ঙ্গ দিয়ে। আজ নয়, জ’ন্মের ছয় মাস ব’য়স থেকেই কুকুরের স’ঙ্গে ওঠাবসা তার।

শুধু ওঠাবসাই নয়, কুকুরের দু’ধ পানে ফখরার বেড়ে ওঠা। অনাদরে থাকা ফখরা কুকুরের মাতৃস্নেহেই বেড়ে উঠছে। আবাল্য মেশামেশিতে অবুঝ প্রা’ণির স’ঙ্গে এখন তার নাড়ির বন্ধ’ন। বোবা প্রা’ণিটিও যেন ওর আপনজন। একে অপরের ভাষা বোঝে সহজেই।

আকার ইঙ্গিতে ভাব বিনিময় করে তারা। কুকুরের স’ঙ্গে খাবার না দিলে অঝোর ধারায় কাঁ’দে ফখরা। ‘ফখরার কুকুরপ্রীতি’ এটা কোনো গল্প কাহিনি নয়।

কুকুরপ্রীতি এই ফখরার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকায়। ফখরার এই কুকুরপ্রীতি নিয়ে এলাকায় তো’লপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমানে অর্ধশতাধিক কুকুর রয়েছে তার কাছে। শহরের সব কুকুরের নেতা ফখরা।

কুকুরের স’ঙ্গ আর কুকুরের দু’ধ পানে বড় হওয়া বিস্ময়কর এক বালক ফখরার অবিশ্বাস্য এক গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে। জ’ন্মের ছয় মাসের মাথায় ফখরার মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে।

অভাবি সংসারের ঘানি টানতে মধুপুর শহরের হাটবাজারে ম’য়লা-আব’র্জনা প’রিষ্কারের কাজ নেন মা জমেলা। হাটের অপ’রিচ্ছন্ন রাস্তার পাশে অনাদরে বসিয়ে রাখতেন শি’শু ফখরাকে।

ক্ষু’ধা আর তৃষ্ণা’র কা’ন্না শুনলে হাতের কাজ ফে’লে পান করাতেন বুকের দু’ধ। কদিন পর খেয়াল করলেন অনাদরের ফখরার বেজায় ভাব বেওয়ারিশ কুকুরের স’ঙ্গে। তখন থেকে শি’শু ফখরার মা’য়ের বু’কের দু’ধ পানের আ’গ্রহ কমতে থাকে। দু’শ্চিন্তায় পড়ে যান মা জমেলা।

একদিন বখরার কাণ্ড দেখে অবাক হন জমেলা। হাটের আব’র্জনার স্তূ’পের আড়ালে দুটি ছানার স’ঙ্গে কুকুরের দু’ধ খাচ্ছে ফখরা। তিনি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারেননি। জো’র করে সরিয়ে নেন শি’শু ফখরাকে।

এরপর কাজের সময়েও কড়া নজরে রাখতেন রাস্তার ও’পর বসিয়ে রাখা ফখরার দিকে। কিন্তু সুযোগ পেলেই দল বেঁ’ধে কুকুর ছুটে আসত ফখরার কাছে। আর ফখরা ‘নি’র্ভ’য়ে পান করত কুকুরের দু’ধ। পরে রাগে ক্ষো’ভে জমেলা প্রায়ই মা’রপিট করতেন শি’শু ফখরাকে।

এ প্রস’ঙ্গে জমেলা জানান, একদিন ফখরা হা’রিয়ে যায়। দুদিন পর সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায় পৌরশহরের সান্দারপট্টির জ’ঙ্গলে একদল কুকুরের স’ঙ্গে। এভাবেই কুকুরের স’ঙ্গে ফখরার বেড়ে ওঠা। পৌরশহরের সব কুকুর এখন ওর খেলার সাথী ও বিশ্বস্ত বন্ধু। একই স’ঙ্গে কুকুরের দু’ধ পানেই বড় হয়ে উঠেছে ফখরা।

তিনি জানান, ১৫ বছর ব’য়সে জমেলার বিয়ে হয় উপজে’লার জটাবাড়ির আলীম উদ্দীনের স’ঙ্গে। তিন মে’য়ের পর ফখরার জ’ন্ম ২০১১ সালে। অভাবের সংসারে জমেলার মাথা গোঁজার ঠাঁই ভাইয়ের ভিটায়। দেড় বছর ব’য়স থেকে কুকুরের স’ঙ্গে হাঁটাচলা, মেলামেশা অবিশ্বাস্য সখ্যতায় রূপ নেয়। পাড়ার সব বেওয়ারিশ কুকুরের স’ঙ্গে ভাব হলেও আদুরি আর বাবুলি সব সময়ের সাথী। ওদের নিয়ে মধুপুর পৌরশহর ছাড়াও গাঙ্গাইর, র’ক্তিপাড়া, আশ্রা, মোটের বাজার, গারোবাজারসহ উপজে’লার হাটবাজার ও গঞ্জ চষে বেড়ায় ফখরা।

তিনি বলেন, দূরের রাস্তায় কুকুরের পিঠে চড়ে পাড়ি দেয় ফখরা। যেন ঘোড়সওয়ার। বন্ধুর মতো গড়াগড়ি, গ’লাগলি, কামড়া-কামড়ি ও কসরত দর্শকদের মু’গ্ধ করে। পাঁচ-দশ টাকা বকশিশ মেলে। তাতে কেনে কলা-পাউরুটি। এভাবেই কলা আর পাউরুটিতে দিন কাটে কুকুরবান্ধব ফখরার।

অনেক সময় খাবারের লোভে দল বাঁ’ধা কুকুর পিছু নেয় ফখরার। শহরে নবাগত অতিথিদের স’ঙ্গে ভাব জমাতে সময় লাগে না তার। মহল্লায় নবাগত আর মনিব অনুগত দুই দল কু’কুরের আবহমান ঝগ’ড়ায় দাঁ’ত খেঁ’চিয়ে সেই বলে, কেন আইলি, প্র’ত্যুত্তরে ‘যাইস-খাইস’ বি’বাদ মেটাতে তৎপর থাকে ফখরা।

মা জমেলা এখনো মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের পরি’চ্ছন্নতা কর্মী। তিনি বলেন, ছেলেকে অনেক বুঝিয়েছেন। লাভ হয়নি। কুকুর না দেখলে পা’গল হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। তাই ওকে ওর মতো করে চলতে ছেড়ে দিয়েছি।

মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের পরিবহন শ্র’মিক নির্মল জানান, রাতে এক ডজন কুকুরের কড়া পাহারায় বাড়ি ফেরে ফখরা। মায়ের রান্না করা খাবার ভাগ করে খায় ওরা। কাকডাকা ভোরে দলবেঁ’ধে আসে বাসস্ট্যান্ডে। ফখরার তিন বোনের সবার বিয়ে হয়েছে।

ফখরার বড় বোন শাহেদার আক্ষেপ, কুকুরের স’ঙ্গে থাকা-খাওয়ায় প্রতিবেশীরা বির’ক্ত। ঘৃ’ণা করে। বকাঝকা করে। কেউ মেশে না তার স’ঙ্গে। এমনকি আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসে না। কিন্তু ফখরার ওসব তো’য়াক্কা নেই।

মা জমেলা বলেন, আবাল্য মেশামেশিতে অবুঝ প্রা’ণির স’ঙ্গে এখন তার নাড়ির বন্ধ’ন। বোবা প্রা’ণি ওর আপনজন। ওদের ভাষা বোঝে। আকার ইঙ্গিতে ভাব বিনিময় করে। কুকুরের স’ঙ্গে খাবার না দিলে অঝোরে কাঁদে ফখরা। বেশি ক্ষেপলে হাঁড়িপাতিল ভাঙে। অস্বাভাবিক আচরণ করে। তখন ভ’য় লাগে।

গত ডিসেম্বরে মধুপুর পৌরশহরে বেওয়ারিশ কুকুর নিধ’ন নিয়ে ল’ঙ্কাকাণ্ড বা’ধায় ফখরা। প্রিয় কালু ও ভু’লু নিধ’ন হয় অ’ভিযানে। এতে ক্ষে’পে যায় ফখরা। বাড়িতে অস্বাভাবিক কা’ন্না করে সে। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে মায়ের পরামর্শে একদল কুকুর নিয়ে পৌর ভবনে মেয়র মাসুদ পারভেজের স’ঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

মেয়রকে ফখরা জানায়, বন্ধু কালু আর ভু’লু কখনো মানুষ কা’ম’ড়াতো না। তাহলে কেন তারা নিধ’ন হলো। মেয়র আগে থেকেই ফখরাকে চেনেন। ফখরার ভাষ্য, মেয়র আমাকে খুব আদর করেন। আমাকে কথা দিয়েছেন আমার বন্ধুদের আর নিধ’ন করা হবে না। এজন্য আমি খুবই খুশি। পৌর মেয়র মাসুদ পারভেজ ফখরার কুকুরপ্রীতি ও কুকুরের দু’ধ পানে বেড়ে ওঠার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথিবীতে অনেক অবাক কা’ণ্ড ঘটে। এটি তার অন্যতম।

কুকুর নিধ’নের প্র’তিবাদে ফখরার পৌর অফিসে আসার কথা স্বীকার করে মেয়র বলেন, কুকুরের স’ঙ্গে মানুষ হওয়া এ শি’শুটির চাওয়া ছিল মানবিক। আসলে বিনা কারণে কুকুর নিধ’ন না করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে হাইকোর্টেরও। ডিসেম্বরে নিধ’ন অ’ভিযানের পর মধুপুর পৌর শহরে বেওয়ারিশ কুকুর কমে যায়। তবে গ্রাম থেকে আসা নবাগত কুকুরের স’ঙ্গে ফখরার মিতালি গড়ে উঠে সমানতালে বলেন পৌর মেয়র।

পৌর শহরের পাইলট মার্কে’টের দোকানি রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ফখরাকে ছোটকাল থেকেই কুকুরের স’ঙ্গে বড় হতে দেখেছি। কুকুরের দু’ধ পান করার দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। মধুপুর পাইলট মার্কে’টের গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ভুট্টো স’রকার বলেন, আজ’ন্ম কুকুরের স’ঙ্গে মিতালির কারণে কখনো কখনো ওর মধ্যে অসহিষ্ণু ও ক্ষি’প্ত আচরণ সৃষ্টি হয়। রাগলে গ’লা দিয়ে অস্বাভাবিক স্বর বের হয়। সর্বক্ষণ জিহ্বা বের করে রাখে। হাঁটা ও পা ফেলার স্টাইল যেন কুকুরের অনুকরণ।

মা জমেলা বলেন, ওরে কুকুর স’ঙ্গ থেকে বিরত রাখা বিফলে গেছে। জরুরি চি’কিৎসা দরকার। আমরা খুবই গরিব। এক বেলা খাবারই জোটে না। আমার বুকের মানিকের চি’কিৎসা করাব কীভাবে। মানুষে-কুকুরে এই মিতালি বিস্ময়কর না হলেও স্বভাবে হিং’স্র ও মা’নসিক বৈকল্যে আ’ক্রান্ত ফখরার সু’চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আবেদন জানিয়েছেন মা জমেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here