মে’য়েদের বিয়ের পরের জীবন নিয়ে কিছু কথা, দয়া করে খা’রাপ মন মা’নসিকতা নিয়ে পড়বেন না

0
170

মে’য়েদের বিয়ের পরের জীবন নিয়ে কিছু কথা, দয়া করে খা’রাপ মন মা’নসিকতা নিয়ে পড়বেন না…মেয়েটি প্রেগন্যান্ট হয়ে দিনে ২০-৩০ বার বমি আর নানান শা’রীরিক সমস্যায় ভুগছে।খেতে বসলে পেটে বাচ্চা লা’থি মারে, খেতে পারেনা। রাতে ঘুমাতে গেলে যন্ত্রনায় ছটফট করে,ঘুম আসে’না। সারা দিন শ’রীরটা কেমন যেন করে।বসতে গেলে,শুইতে গেলে,হাটতে গেলে মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করে।

আবার মনের ভিতর ভ’য়ও করে। কি হবে? পারবো তো সব সামলিয়ে উঠতে ?এভাবে নয় মাস কে’টে যায়। হঠাৎ প্রসব বেদনা উঠে। চারদিকে বি’ষাদের ছায়া,বাঁচবে তো মেয়েটি, আর অনাগত শি’শুটি ?মৃ’ত্যুকে হাতে নিয়ে মেয়েটি শুয়ে পড়ে। জরায়ু ছিড়ে স্রোতের মত র’ক্ত ঝরে। চি’ৎকার করে উঠে মেয়েটি, যেন পৃথীবিটা তার অবস্থানে নেই। সে সুর্যের আলো যেন আজ ক্ষীণ দেখাচ্ছে।প্রচন্ত আলোতেও সব কিছু কেমন যেন আবছা লাগছে। চারদিকে তাকায়। আপন মানুষগুলোকে খামছে ধরে। যেন মৃ’ত্যুর হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে।

বাচ্চাটি পৃথীবির মুখ দেখে। সবাই বাচ্চাকে নিয়ে কত আ’নন্দ উল্লাস করে। নতুন নতুন জামা কিনে নিয়ে আসে। বাচ্চাকে নিয়ে হাজারো স্বপ্নের বী’জ বপন হয়।কে কি নামে ডাকবে তা ঠিক করতে হুলস্থুল অবস্থা শুরু হয়ে যায়। আত্মীয়় কুটুমরা বাচ্চার এ গালে, ও গালে চুমু খায়।মেয়েটি বাচ্চার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। কে জানে সেই হাসির মাঝেও কত বেদনা লুকিয়ে আছে।

নবাগত অতিথিকে পেয়ে সবাই মেয়েটির কথা বেমালুম ভু’লে যায়।মেয়েটি সেই ময়লা বেডে শুয়ে থাকে। মুখ ফুটে তার শ’রীরের অবস্থার কথা বলতে পারেনা। কিছুটা ভ’য়ে, কিছুটা লজ্জায়।সংসারের সব কিছুর জন্য সবার হাতে টাকা থাকে, শুধু মেয়েটির চিকিৎসার জন্য কারো পকে’টে টাকা থাকেনা।ঝরে যাওয়া র’ক্তের পরিপূর্ণতার জন্য প্যাকে’টে প্যাকে’টে দু’ধ আসে’না। বাচ্চা গ’র্ভে থাকাকালীনও মেয়েটি কারো কদর পায়নি। না মায়া–দরদ, না একটু পুষ্টিকর খাবার। তবু সবার আক্ষেপ বাচ্চাটা আরেকটু মো’টা হলে ভাল হতো।

কেউ বাচ্চার মায়ের কথা ভাবলো না। কি দিয়েছে বাচ্চার মাকে ??দু’ধ,কলা,মাখন,কি পেয়েছে মেয়েটি ?তিন বেলার ভাত মাছ আর সবজি ছাড়া কতটুকু পেয়েছে ?শাড়ি খানা মলিন, মুখখানা আরো মলিন। হাতে ফোসকা ধরে গেছে। আগের মত আর মোলায়েম হাতখানা নেই বলে স্বা’মীর কাছেও সে অনাদৃত।সেই লাবণ্য নেই বলে, শ্বাশুড়ী মাঝে মাঝে লোকদের কাছে বুড়ি বউ বলে সম্বোধ’ন করে। দূর থেকে মেয়েটি শুনে। কিচ্ছু বলেনা। কাকে বলবে ??

স্বা’মীকে !! সে এসব কথাতে এখন কান দেয়না। এসব নাকি ন্যাকামী। দু দিন হতেই শাশুড়ী আর ননদের আক্ষেপ,বউটা এখনো রান্না ঘরে আসছেনা কেন?মেয়েটি হাটতে পারেনা।হাটতে গেলে মনে হয় এই বুঝি পরান পাখি উড়ে গেল। লজ্জাস্থান থেকে এখনো র’ক্ত ঝরছে। কাতরাতে কাতরাতে মেয়েটি রান্না ঘরে আসে।

ননদ আর শাশুড়ী হুংকার দিয়ে বলে, বাচ্চা কি আমরা জম্ম দেয়নি? শুধু তুমিই মা হয়েছে ?অসহায় চাতক পাখিটির মত মেয়েটি ভাবে পাখির ও তো একটা জায়গা আছে। এখানে ভাল না লাগলে অন্যত্র উড়ে যায়। কিন্তু, আমার!! বাবা মাকে ছেড়ে আসলাম। ভাইটিও নেই, যাকে একটু মনের কথা বলবো। স্বা’মী এখন এসব বুঝে না। ও নাকি কারো সাথে তর্ক করতে পারবেনা। সকালে যায় আর রাতে ফিরে।

মেয়েটি রান্না শেষ করে খাটে গিয়ে বুকে বালিশ দিয়ে টপটপ করে চোখের পানি ফে’লে। ইচ্ছে করে স্বা’মীর কোলে শুয়ে একটু ঘুমাবে।কিন্তু, সে তো এখন স্বা’মী না, বাচ্চার বাবা। তার অনেক দায়িত্ব। বাবা মাকে খুশি করতে হয়, অফিসকে খুশি করতে হয়,বন্ধু বান্ধবকে খুশি করতে হয়।

আর আমি? আমি তো স্ত্রী। আমাকে খুশি না করলেও চলবে। আমি তো আপন কেউ না।সমাজের মানুষ বলে “পরের মেয়ে”।ইচ্ছে করে চি’ৎকার দিয়ে কা’ন্না করতে। পরক্ষণেই মেয়েটি ভাবে ওরা কি ভাববে? শ’রীরটা ভাল নেই। খেতে ইচ্ছে করেনা।বুকে দু’ধ আসে’না। বাচ্চাটার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে পাড়া প্রতিবেশি আলগা দরদ নিয়ে বলে “মাইয়াডার কারনে বাচ্চাটাও শুকিয়ে যাচ্ছে”।হায়রে মানুষ, হায়রে সমাজ। শাশুড়ী, ননদ, অমুকের বউ বা তমুকের মেয়ে, সবাই তো না’রী। অথচ, কেউ এই মেয়েটির ক’ষ্টের কথা বুঝলো না। কেউ চিন্তাও করলো না , “মা বাঁচলেই তো বাচ্চা বাঁচে”।

মেয়েটি অভিমান নিয়ে শুয়ে থাকে। রাতে খায় না। স্বা’মী বাসায় এসে চেঁচিয়ে বলে “তোমার কারনে যদি আমার বাচ্চার কিছু হয়, তাহলে খবর আছে” |এবার মেয়েটি দাঁত-মুখ খিছিয়ে বলে “হুম,কি খবর করবে ?খবর নিয়েছো একবারও আমার ??এটা শুনেই পাশের লোকরা বলে “কত্ত বড় বেয়াদপ মেয়ে”।সব লাঞ্চনা-বঞ্চনার পরও মেয়েটি তার স্বা’মীকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারেনা। দিনের পর দিন অপেক্ষা করে, কবে তার স্বা’মীটি তাকে বুঝবে। কবে তাকে বুকে টেনে নিবে। দিন যায়, দিন আসে। হতভাগা মেয়েটির আর সুদিন ফেরেনা।

এভাবেই অনাদরে, অবহেলায় একটা মেয়ে তার জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়।আমরা মাঝে মাঝে তাদেরকে মায়ের জাতি,বোনের জাতি,বউয়ের জাতি বলে সান্ত্বনা দিই। কিন্তু সান্ত্বনায় আর কাজ হয়না। চল্লিশ বছরের মেয়েটিকে দেখতে এখন পয়ষট্রি বছরের বুড়ি লাগে। তাতেও সমাজের আক্ষেপ,কেন এত বুড়ি লাগে !ভাবুন তো, আপনাকে যদি এভাবে অবহেলা করা হতো, তবে কেমন লাগতো?ভালবাসার মানুষগুলোকে ভালবেসে কাছে রাখা যায় না কি?না’রীদের প্রতি সহমর্মিতা আর ভালবাসার মোড়কোম্মচন হোক আপনাকে দিয়ে,আমাকে দিয়ে। তবেই সমাজ বাঁচবে। বাঁচবে মানবতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here