সিনহা হ’ত্যা, এবার সেই ল্যাপটপকে ঘিরে নতুন র’হস্য

0
176

কোথায় সেই ল্যাপটপ? যে ল্যাপটপের সার্ভারে টেকনাফে ধারণ করা নানা দৃশ্য সংরক্ষণ করে রাখা ছিল। ইউটিউব চ্যানেল জাস্ট গো’র জন্য ধারণ করা কি ছিল সেসব দৃশ্যে। অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ হ’ত্যাকাণ্ডের পর নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চা’লিয়ে পু’লিশ এ ল্যাপটপ নিয়ে যায়। নীলিমা রিসোর্টের একটি ভিডিওতে দেখা যায়,

পু’লিশ সেখানে অ’ভিযান চালাচ্ছে এবং ল্যাপটপসহ আরো কিছু জিনিস নিয়ে যাচ্ছে। অথচ এরপর থেকেই সেই ল্যাপটপের হদিস নেই। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সিনহার এ ল্যাপটপে কি এমন দৃশ্য সংরক্ষণ করা আছে যার কারণে গোটা ল্যাপটপটিই গায়েব হয়ে যায়? মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, সিনহার যে ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক ছিল সেগুলোতে অনেক ডকুমেন্ট ছিল। সেগুলো কী উদ্দেশ্যে গায়েব করা হলো তা খতিয়ে দেখছে ত’দন্তকারীরা।

ওদিকে চলতি বছরের ৭ মাসে পাঁচবার টেকনাফ গিয়েছিলেন সিনহা।

গত বছরও তিনি সেখানে গিয়েছিলেন একাধিকবার। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স’ঙ্গে তার সম্প’র্ক গড়ে উঠেছিল। বি’ষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভে গু’লির ঘ’টনার পর নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চা’লায় পু’লিশ। আর সে সময় ল্যাপটপসহ আরো কিছু জিনিস পু’লিশ নিয়ে আসে। সেগুলো কোথায় রয়েছে তা আজ পর্যন্ত কেউ জানাতে পারেনি। এ ব্যাপারে ত’দন্তকারীরা ত’দন্ত করছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ঘ’টনার সময় সিনহার গাড়িতে সিফাতও ছিলেন।

সিনহাকে গু’লি করার পর সিফাতকে কেন পু’লিশ গু’লি করেনি? তাহলে কি সিনহাকে গু’লির বি’ষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত? ত’দন্তকারীদের কাছেও বি’ষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। এ মা’মলার আ’সামি পু’লিশের কথিত সাক্ষী আয়াজ উদ্দিন, নুরুল আমিন ও নিজাম উদ্দিনসহ ৭ আ’সামিকে গতকাল শুক্রবার থেকে জি’জ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যা’ব।

অন্য আ’সামিরা হলো- কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়া। আ’দালত তাদের ৭ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেছে। পু’লিশের তিন সাক্ষী র‌্যা’বের প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, পু’লিশের আদেশেই তারা পু’লিশের দা’য়ের করা মা’মলায় সাক্ষী হয়েছেন। তাদের সাক্ষী হওয়াতে বাহাড়ছড়া ত’দন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকতের চা’প ছিল। র‌্যা’ব জানিয়েছে, এদের জি’জ্ঞাসাবাদ ছাড়াও পর্যায়ক্রমে অন্য সাক্ষীদেরও জি’জ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ৩১শে জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পু’লিশের গু’লিতে নি’হত হন সিনহা। এ ঘ’টনায় নি’হতের বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বা’দী হয়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমারসহ ৯ জনকে আ’সামি করে একটি মা’মলা দা’য়ের করেন। এ বি’ষয়ে র‌্যা’বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ গতকাল দুপুরে জানান, আ’দালতের আদেশে পু’লিশের ৩ সাক্ষীকে শুক্রবার থেকে জি’জ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ বি’ষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস জানান, সিনহা চলতি বছরেই ৫ বার কক্সবাজারের টেকনাফে গিয়েছিলেন। এতে তার সেখানে অনেক ফ্রেন্ড তৈরি হয়েছিল। তিনি ঘ’টনার সুষ্ঠু ত’দন্ত ও বিচার দাবি করেন।

সিনহা হ’ত্যাকাণ্ডের মূ’ল মোটিভ বের করতে চায় ত’দন্তকারী সংস্থা। পরিচয় দেয়ার পরও কেন তাকে গু’লি করা হলো তা অনুসন্ধান করছে তারা। এ ছাড়াও সিনহা বর্ডার গার্ড এবং একাধিক চেকপোস্ট পার হওয়ার পরও এপিবিএনের চেকপোস্টে কেন পরিদর্শক লিয়াকত তাকে গু’লি করলো? এর কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে তারা।

মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ত’দন্তকারী কর্মকর্তারা মা’মলার মূ’ল মোটিভ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে। এ ছাড়াও জে’লার এসপি সিনহার পরিচয় জানার পরও কেন তিনি ব’ন্দুকযু’দ্ধের নাটক সাজালেন তাও ত’দন্তের আওতায় এনেছেন তারা।

সূত্র জানায়, ঘ’টনার পর পু’লিশ বা’দী হয়ে সিনহার বি’রুদ্ধে থানায় মা’মলা দা’য়ের করে। ওই মা’মলায় ম’দ, ইয়াবা ও অ’স্ত্র জ’ব্দ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে বাহাড়ছড়া থানার পরিদর্শক লিয়াকত নিজ উদ্যোগে পু’লিশের দা’য়ের করা মা’মলায় মারিশবুনিয়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় পু’লিশের সোর্স বলে পরিচিত আয়াজ উদ্দিন, নুরুল আমিন ও নিজাম উদ্দিনকে সাক্ষী বানানো হয়। তারা সাক্ষী হওয়ার পর এলাকায় প্রচার করেছেন যে, একজন সাবেক সে’না কর্মকর্তা পু’লিশের ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হয়েছে। তার কাছ থেকে ম’দ, ইয়াবা ও অ’স্ত্র উ’দ্ধার হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here