‘বঙ্গবন্ধুর খু’নিদের স’ঙ্গে গার্লফ্রেন্ডদেরও বিদেশ পাঠানো হয়েছিল’

0
155

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সে’নাবা’হিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য সপরিবারে হ’ত্যা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ হ’ত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া খু’নিদের মধ্যে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে খু’নি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করা হয়।

হ’ত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর দেশের বাইরে প’লাতক থাকা এ মা’মলার দ’ণ্ডপ্রা’প্ত আরেক আ’সামি আবদুল মাজেদকে এ বছরের ৬ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গ্রে’ফতার করে। পরে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে ১২ এপ্রিল ১২টা ১ মিনিটে ফাঁ’সিতে ঝু’লিয়ে তার মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করা হয়।

মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করার আগে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হ’ত্যার সম্পৃক্ততা নিয়ে জবানব’ন্দি দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খু’নি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ।

আরো পড়ুন: বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার চাঞ্চল্যকর নতুন দলিলের সন্ধান

জবানব’ন্দিতে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এ হ’ত্যাকাণ্ড (ক্যু) এর পক্ষপাত সুলভ কথাবার্তা বলছেন। এটা বোঝাই গেছে তিনি ক্যুর সমর্থক। বঙ্গভবনে অবস্থানকারী সব সে’না অফিসার যারা ছিল তাদের বিদেশে পাঠানোর সব ব্যবস্থা করেন জিয়াউর রহমান। আমি এগুলো দূর থেকে দেখেছি।’

খু’নি মাজেদ বলেন, ‘উনি সব কাগজপত্র তৈরি করতে মিলিটারি সেক্রেটারি তখনকার ব্রিগেডিয়ার মাশহুর হককে নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু আমরা বঙ্গভবনে ডিউটিরত ছিলাম সেখান থেকে আমাদেরকেও ব্যাংককে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ব্যাংকক থেকে আমাদের আর ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে শুনলাম জিয়াউর রহমান সাহেব পুরো ক্ষ’মতায়। তাদের লিবিয়ায় আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করেছেন। পরে শুনলাম তারা জে’লখানাতেও জাতীয় চার নেতাকে মে’রে গেছে।’

আরো পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর খু’নিরা কে কোথায়?

তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ডাইরেক্ট ম’দদ ছিল ওদের প্রতি। উনি ওদের টোটাল পেট্রোনাইজড করেছেন। একটা করে প্রমোশন জাম্পড করে একটা করে ফরেন প্রাইজ পোস্টিং দিয়েছেন। এসব অফিসার ফরেন সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত নয়। তারা গ্রাজুয়েটও না।’

জবানব’ন্দিতে মাজেদ বলেন, ‘তাদের জন্য বঙ্গভবন থেকে পাসপোর্ট এমনকি পরিবারও তাদের সাথে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এগুলো আর কি বলবো, যারা বিয়ে করেননি তাদের হবু স্ত্রী, গার্লফ্রেন্ড সবাইকে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মেজর শাহরিয়ার বিয়ে করে নি। সে এক ভদ্রলোকের স্ত্রী’কে নিয়ে চলে যান। সেইসব কাগজপত্রও তাদের বানিয়ে দেয়া হয়েছে। মেজর হুদারটা অবশ্য পরে গেছে। নারায়ণগঞ্জের এক মে’য়ে, সেও হুদার স্ত্রী বলে চলে গেছে। মাত্র ১ সপ্তাহের মধ্যে তাকে কাগজ করে পাঠিয়ে দেয়া হয়।’

মাজেদ আরো বলেন, ‘এই সব সুযোগ সুবিধার জন্য বোঝাই যাচ্ছে তিনি (জিয়াউর রহমান) এর স’ঙ্গে জ’ড়িত। যেহেতু তিনি আ’র্মি চিফ আর এরা আ’র্মি অফিসার। তার অনুমতি ছাড়া তো বিয়ে ছাড়া, ইয়ে ছাড়া এ সমস্ত ম’হিলাদের পাঠানো সম্ভব ছিলো না? যাদের স্ত্রী বা বাচ্চা ছিলো তাদেরটা ভিন্ন কথা।’

আরো পড়ুন: ফাঁ’সিতে ঝোলার আগে বঙ্গবন্ধুর খু’নি ক্যাপ্টেন মাজেদের জবানব’ন্দি (ভিডিও)

প্রস’ঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যা করা হয়। সেদিন ঘা’তকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হ’ত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রা’ণ হা’রান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর স’ন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শি’শুপুত্র শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এ জঘন্যতম হ’ত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মে’য়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযু’দ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অ’ন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহা’না বিদেশে থাকায় প্রা’ণে রক্ষা পান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here