জয়ের ও’পর ক্ষেপেছেন নায়ক মান্নার স্ত্রী

0
85

অভিনেতা থেকে উপস্থাপনায় নাম লিখিয়ে সাফল্য পেয়েছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তবে উপস্থাপক জয়ের ভাগ্যে সমালোচনাই জুটেছে বেশি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তারকাকে আ’পত্তিকর প্রশ্ন করে বিতর্কের জ’ন্ম দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ‌‘জীবনের গল্প’ নামের একটি অনুষ্ঠানে বিমানের কেবিন ক্রুদের নিয়ে আ’পত্তিকর প্রশ্ন করে সমালোচিত হয়েছেন। সেই প্রশ্নের জেরে প্রয়াত নায়ক মান্নার স্ত্রী বিমানবালা শেলী মান্না ফেসবুকে জয়ের বি’রুদ্ধে ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন।

শেলী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, এয়ারলাইন্সে চাকরি করা বিমানের ক্রুদের অ’পমান করার জন্য জয়কে জনসম্মুখে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, ‘জনাব জয়, সাম্প্রতিককালে একটি টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন বিমানের সাবেক ক্যাপ্টেন মোশতাক। আপনি সেই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছিলেন। আপনি এভিয়েশন নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছেন। একজন সম্মানীয় ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ করে তার জীবনবৃত্তান্ত, পেশাগত দক্ষ’তা ও কর্মময় জীবন সম্প’র্কে আলোকপাত করেছেন স্বাভাবিক নিয়মেই।

তারপর আপনি আপনার চিরাচরিত অভ্যাসের দরুণ অপ্রাস’ঙ্গিকভাবে কেবিন ক্রুদের স’ঙ্গে ক্যাপ্টেনদের প্রণয়ঘটিত ব্যাপার থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে জিনিসপত্র এনে বিক্রি প্রস’ঙ্গেও প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। যা অত্যন্ত আ’পত্তিকর!

ক্যাপ্টেন মোশতাক অত্যন্ত সজ্জন ও অমায়িক ব্যক্তি, বিধায় তিনি এর উত্তরে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটি কথাই বলতে চাই যে, এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুড়িভুড়ি!

কেবিন ক্রু সম্প্রদায় তাদের বৈধ আয় দিয়ে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করে এসেছে। কিছুটা টানাপোড়েন তো পৃথিবীর সমস্ত সেক্টরেই চলমান রয়েছে। কোনো সেক্টরই এর ঊর্ধ্বে নয়। নইলে তো পৃথিবী জান্নাতময় হতো। ভালো শব্দের পাশাপাশি মন্দ বলে কোনো শব্দ থাকতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনাব জয়, আমার মনে হয়, এভিয়েশন সম্প’র্কে আপনি কোনো ধারণা রাখেন না। নইলে এ ধরনের কোনো অবান্তর প্রশ্ন করতে পারতেন না। কেবিন ক্রুদের একটা ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। নইলে কঠিনতম ট্রেনিংগুলোতে তারা উত্তীর্ণ হতে পারতো না। সেমি টেকনিক্যাল বি’ষয়ে ট্রেনিংয়ে ৮৪ পারসেন্ট মার্ক নিয়ে তদের উত্তীর্ণ হতে হয়। পাশাপাশি অন্যান্য বি’ষয় নিয়ে প্রচুর পড়াশুনা করতে হয়। সারাবছর পড়াশুনা, ট্রেনিং ও ব্রিফিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়। পাশাপাশি ক্যাবের (CAAB) নিয়মিত চেক, বিদেশেও প্রতিনিয়ত এসব চেকের মধ্যে পড়তে হয়। লাইসেন্সের ন্যায় সার্টিফিকে’টে প্রতিবছর প্রচুর পড়াশুনা করে ট্রেনিংয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এর রিনিউ করতে হয়।

না হলে কেউ ফ্লাইট অপারেট করতে পারবে না। অজানা বি’ষয়গুলো আপনার জ্ঞাত হবার জন্য পেশ করলাম।
এয়ারলাইন্স একটি টিমওয়ার্ক। এখানে প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্ট এমনকি ক্লিনার সেকশনও সমভাবে প্রয়োজনীয় ও জরুরি। না হলে কোনো ফ্লাইট উড্ডয়ন করতে পারবে না।’

জয়ের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এদেশের শিল্পীসমাজকেও চ’রমভাবে হেয় করেছেন। যারা এদেশের সাংস্কৃতিক জগৎকে সমৃদ্ধ করে এ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদেরও আপনার অনুষ্ঠানে অশালীন প্রশ্নে জর্জরিত করেছেন। মৌসুমী-শাবনূর থেকে শুরু করে শিল্পী সমিতিকেও ন্যূনতম সম্মান দেখাননি। অথচ আপনি একজন শিল্পী! ভাবতেও অবাক লাগে। আমরা অত্যন্ত রক্ষণশীল সমাজে বাস করি। তাই এই ব্যাপারে আপনার প্রচণ্ড সৌজন্যবোধ ও সীমারেখা থাকা উচিত ছিল।

পরিশেষে জনাব জয়, কেবিন ক্রুদের রুলস রেগুলেশন অর্থাৎ প্রচণ্ড নিয়ম-নীতির মধ্যে চাকরি করতে হয়। প্রচণ্ড সীমাবদ্ধতা রয়েছে তাদের জীবনযাপনে। আইনের বাইরে কাজ করার কোনো বিধান এখানে নেই। কেবিন ক্রুরা পেশাগত কারণে নিদ্রাহীনভাবে প্রতিনিয়ত ঝুঁ’কির জীবন নিয়ে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সকে নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, দেশের সেবা করছেন। তারা পারিবারিকভাবে প্রতিটি মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি প্রিয়জনের অ’সুস্থতা ও মৃ’ত্যুর সময়ে পাশে থাকতে পারেন না। এমন একটা সম্মানজনক ও রিস্কি পেশার সম্প্রদায়কে আপনি কোন যুক্তিতে ও সাহসে অবমাননা করলেন? আপনার ধারণা থাকা উচিত যে মানুষের কথায়, প্রশ্নে, যুক্তিতে, আচার-ব্যবহারে চিন্তা-ভাবনায় একটি শালীনতা ও সীমারেখা থাকা উচিত। কোনো অবস্থাতেই সীমাল’ঙ্ঘনকারীকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here