যে থানায় গেছেন বিতর্কের জ’ন্ম দিয়েছেন প্রদীপ

0
161

যে থানায় গেছেন বিতর্কের জ’ন্ম দিয়েছেন প্রদীপটেকনাফ থানার সদ্য বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ যখন যে থানায় গেছেন সেখানেই তিনি বিতর্কের জ’ন্ম দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (সিএমপি) এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে বি’তর্কি’ত কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। এরপরও অদৃশ্য ইশারায় গুরুত্বপূর্ণ থানায় একের পর এক পোস্টিং নিতে তার কোনো অসুবিধা হয়নি।

২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ঘুরে ফিরে সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী, পতেঙ্গা ও পাঁচলাইশ থানায় প্রদীপ ‘ওসিগিরি’ করেছেন। অ’পরাধ দ’মন না করে তিনি নিজেই নানা অ’পকর্মের স’ঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির একাধিক পু’লিশ কর্মকর্তা জানান, এ ‘গুণধর’ কর্মকর্তা যে থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন সেই থানায় তিনি নানা বি’তর্কি’ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স’রকার ও পু’লিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি থাকাকালে প্রদীপ দাশ ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর মিথ্যা মা’মলা দিয়ে রিফাইনারি মালিক সেলিম আহমেদকে হ’য়রানি করেন। রিফাইনারির একটি ভাউচার আ’টকে দিয়ে নানা অজুহাতে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় ওই ব্যবসায়ীর বি’রুদ্ধে মা’মলা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে পু’লিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওসি প্রদীপসহ জ’ড়িতদের বি’রুদ্ধে ওই ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ করেন। ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ত’দন্ত কমিটি অভিযোগ ত’দন্ত করে। ত’দন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রদীপসহ তিন পু’লিশ কর্মকর্তার বি’রুদ্ধে শা’স্তিমূ’লক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রদীপসহ তিন পু’লিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পু’লিশ হেড কোয়ার্টার। বরখাস্ত হওয়া অপর দুই কর্মকর্তা হলেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই সুজন বিশ্বাস ও এসআই একরামুল হক। ২০১৫ সালের ১ মে নগর যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল খু’ন হন।

বাসার সামনে মেহেদীকে পেছন থেকে গু’লি করে হ’ত্যা করে স’ন্ত্রাসী সাদ্দাম। মেহেদীর কারণে সেখানে চাঁ’দাবাজিসহ অ’বৈধ কাজে সুবিধা করতে পারছিল না একটি পক্ষ। অভিযোগ ওই পক্ষের কাছ থেকে অ’নৈতিক সুবিধা নিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ।

এ জন্য মেহেদীর প্রকৃত খু’নিদের গ্রে’ফতারে নির্লি’প্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া মেহেদীর খু’ন হওয়ার দিন র’হস্যজনক কারণে প্রদীপ ছুটিতে ছিলেন।

সূত্র জানায়, অ’পরাধ দ’মনের চেয়ে অ’পরাধীদের স’ঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে প্রদীপ নিজেই ‘অ’পরাধে’ জড়িয়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। একের পর এক বিতর্কের কারণে তাকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়। বদলির পাঁচ মাস না যেতেই ২০১৬ সালের মে আবার সিএমপিতে তাকে পদায়ন করা হয়। এরপর সিএমপি থেকে কক্সবাজারে তাকে পদায়ন করা হয়।

২০১২ সালে প্রদীপ পতেঙ্গা থানায় দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় একটি বিদেশি জাহাজকে তেল সরবরাহে বা’ধা এবং আ’টকের ১৮ দিন পর একটি বার্জ মালিকসহ ১২ জনের বি’রুদ্ধে বিশেষ ক্ষ’মতা আইনে মা’মলা দেন প্রদীপ।

হ’য়রানি ও অ’নৈতিক সুবিধা নেয়ার ঘ’টনায় তার বি’রুদ্ধে পু’লিশ সদর দফতর এবং আরও তিনটি গো’য়েন্দা সংস্থা ত’দন্ত শুরু করে। এ ঘ’টনার জেরে কিছুদিন পর তাকে পতেঙ্গা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পাঁচলাইশ থানায় ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০ জুলাই বি’রোধী দলের দুই কর্মীকে গু’লি করে হ’ত্যা করা হয়। এ দুই হ’ত্যাকাণ্ডের স’ঙ্গে প্রদীপ দাশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। পাঁচলাইশ থানার বাদুড়তলা এলাকায় বি’রোধী দলের মিছিলে বা’ধা দিতে গেলে পু’লিশের তিন সদস্যকে মা’রধর এবং পু’লিশের গাড়ি ভাং’চুর করা হয়।

ঘ’টনায় গো’য়েন্দা সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনে প্রদীপের উসকানিকে দায়ী করা হয়। স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ের গঠিত ত’দন্ত টিমের ত’দন্তে তার বি’রুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাকে পাঁচলাইশ থানা থেকে গো’য়েন্দা বিভাগে বদলি করা হয়।

এরপর নগর গো’য়েন্দা বিভাগ থেকে বদলি হয়ে টাকার খনি খ্যাত শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় যান। সেখান থেকে তদবির করে পোস্টিং নেন বায়েজিদ বোস্তামী থানায়।

২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাংলাবাজার এলাকায় রহমত উল্লাহ প্রকাশ ন্যাংটা ফকির ও তার খাদেম আবদুল কাদের প্রকাশ্যে খু’ন হন। তখন ওই থানার ওসি ছিলেন প্রদীপ। তার আমলে সেখানে অন্তত ১০টি হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটে।

এর আগে কোতোয়ালি থানার এসআই থাকাকালে নগরীর পাথরঘাটায় এক হিন্দু বিধবা ম’হিলার জমি দ’খলের অভিযোগ ওঠে প্রদীপের বি’রুদ্ধে। পাঁচলাইশ থানা এলাকায় নিজের বোনের জমি নামে থাকা একটি জমি দ’খলের অভিযোগও ওঠে তার বি’রুদ্ধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here