বন্যা বিদায় নিতে যাচ্ছে যেদিন

0
234

দেশে বর্তমানে বন্যাকবলিত ১৭টি জে’লা। বিপৎসীমার ও’পর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ২০টি নদীর পানি। ৩০টি পয়েন্টে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ও’পর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা এই ১৭টি জে’লার বন্যা পরিস্থিতি যেমন আছে, তেমনই থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ আউটলুকে বলা হয়েছে, ‘এ বন্যা পরিস্থিতি চলতি পুরো সপ্তাহে স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে নদনদীর পানি কমতে শুরু করতে পারে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ বন্যা বিদায় নিয়ে দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ২৬ জুলাই দেয়া বন্যা পূর্বাভাস সম্প’র্কিত সংক্ষি’প্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ ও উজানের অববাহিকার অনেক স্থানে বৃষ্টিপাতসহ কিছু স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়। এর ফলে দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃ’দ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার ও’পর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বর্তমানে উজানের অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত প্রবণতা কমে এলেও আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে উজানের অববাহিকাগুলোর অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে চান্দ্রপঞ্জিকানির্ভর জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে নদনদীর পানি সাগরে নিষ্কাশিত হয়ে হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা কিছুটা ধীর হয়ে আসতে পারে। এর ফলে দেশের প্রধান নদনদীর পানি চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রধান নদনদীর পানি কমতে শুরু করতে পারে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোর বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিস্তারিত বর্ণনায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বি’ষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বর্তমানে ধীর গতিতে বাড়ছে এবং বিপৎসীমার ও’পরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ ও উজানের অববাহিকায় ভারতের অরুণাচল, আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গের উপর বর্তমানে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অভস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার ফলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত প্রবণতা কমে এলেও চলতি সপ্তাহে অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই সময়ে অববাহিকাভুক্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ ও নাটোর জে’লার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

একই সময়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জে’লার আশেপাশের নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে। আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নদীর পানি কমা শুরু করতে পারে এবং পরবর্তীতে বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির ও’পর নির্ভর করে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বন্যা পরিস্থিতি আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির ও’পর নির্ভর করে চলতি সপ্তাহের শেষার্ধে বৃ’দ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে তিস্তা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জে’লার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নদীর পানি অব্যাহতভাবে কমতে পারে।

গঙ্গা অববাহিকার বি’ষয়ে বলা হয়েছে, গঙ্গা নদীর পানি বর্তমানে বৃ’দ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। তবে বিপৎসীমার ও’পর অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহে গঙ্গা নদীর পানি বৃ’দ্ধি পেতে পারে।

এ ছাড়া আজকের (২৭ জুলাই) চন্দ্রপঞ্জিকানির্ভর জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে নদনদীর পানি সাগরে নিষ্কাশিত হয়ে হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা কিছুটা ধীর হয়ে আসতে পারে। এ দুইয়ের সম্মি’লিত প্রভাবে এবং একই সাথে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে পদ্মা নদীর পানি চলতি সপ্তাহে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এই সময়ে দেশের মধ্যাঞ্চলের রাজবাড়ি, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর চাঁদপুর জে’লার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। পরবর্তীতে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি কমা শুরু করতে পারে এবং মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অববাহিকার বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

মেঘনা অববাহিকার বি’ষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মেঘনা অববাহিকার উজানের প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে কমছে। তবে কতিপয় স্থানে বিপৎসীমার ও’পর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে চলতি সপ্তাহের শেষার্ধে সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনা অববাহিকার উজানের অন্যান্য নদনদীর (সারিগোয়াইন, যদুকা’টা,

সোমেশ্বরী, ভুগাই-কংস) পানি বৃ’দ্ধি পেতে পারে এবং কোথাও কোথাও বি’পদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জে’লার নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নদীগুলোর পানি অব্যাহতভাবে কমতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার বি’ষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ণ পার্বত্য অববাহিকা অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি পরিলক্ষিত হতে পারে। তবে এই সময়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here