এবার ট্রলের শি’কার জাকারবার্গ

0
147

সম্প্রতি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কাউআই দ্বীপে বেড়াতে গিয়েছিলেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠানতা মার্ক জাকারবার্গ। সেখানকার সমুদ্রে সার্ফিং করার আগে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মী থেকে বাঁচতে পুরো মুখে সানস্কিন ক্রিম লাগিয়ে নেন। ব্যাস, এ থেকেই ট্রলের শি’কার হচ্ছেন তিনি।

এক ফটোগ্রাফার তার সাদা মুখের ছবি তুলে ভাইরাল করে দেন। এ ছবি দিয়ে একের পর এক ট্রল করা হচ্ছে। সার্ফিংয়ের সময় জাকারবার্গ টাইট ফি’টিং সোয়েটশার্টও পরেছিলেন। এ নিয়েও চলছে হাসাহাসি।

ছবিটি এডিট করে কোনো কোনো ব্যবহারকারী তার কাপড়ও বদলে দিয়েছেন। তবে দক্ষ সার্ফার এমিলি মিলারের মতে, সানস্কিন মেখে ঠিক কাজই করেছেন জাকারবার্গ।

ফেসবুক সিইওর দাম্ভিকতা কমবে কি?

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবি’রোধী বি’ক্ষো’ভ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রা’ম্পের বি’তর্কি’ত ফেসবুক পোস্ট মুছে না দেয়ার সি’দ্ধান্ত জানিয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে নিজ প্রতিষ্ঠানেরই কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন মার্ক জাকারবার্গ। এবার ওই ঘ’টনার জেরে সোস্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল প্লাটফর্ম থেকে বৃহৎ ব্র্যান্ডগুলোর বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয়ার হিড়িক পড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের ব্যক্তিগত সম্পদে। গত শুক্রবার এক ধাক্কায় মা’র্কিন এ তরুণ বিলিয়নেয়ারের নিট সম্পদ কমেছে ৭২০ কোটি ডলার। বি’ষয়টি থেকে তার শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মনে করছেন প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, এবার ফেসবুক প্রধানের দাম্ভিকতা কিছুটা হলেও কমবে এবং ফেসবুকে একক কর্তৃত্ব খাটানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবেন তিনি।

ফেসবুকের ডিজিটাল প্লাটফর্ম থেকে বৃহৎ ব্র্যান্ড ও কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিচ্ছে। ফেসবুকের বর্ণবাদ ও ঘৃণ্য বক্তব্য ছড়ানো এবং সমর্থনের প্র’তিবাদে মাধ্যমটি বর্জনের জন্য #স্টপহেটফরপ্রফি’ট আন্দোলন জো’রদার হচ্ছে। একের পর এক নতুন প্রতিষ্ঠান এ আন্দোলনের স’ঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছে। এ পরিস্থিতি সামলাতে ফেসবুক প্রধান প্লাটফর্মে ঘৃণ্য বক্তব্য ঠেকানোর কৌশল, পোস্টে লেবেল লাগানোসহ নানা পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। তার পরও ফেসবুকের ও’পর আস্থা রাখতে পারছেন না অনেকেই। যে কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বয়কট করছে।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম ফেসবুকের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির আয়ের বৃহৎ একটি অংশ এখন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম থেকে আসছে। বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও কোম্পানিগুলোর ফেসবুকের ডিজিটাল প্লাটফর্ম বর্জনের ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি বড় অংকের রাজস্ব হারাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্ক জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ আগের তুলনায় ৭২০ কোটি ডলার কমেছে। গত শুক্রবার ফেসবুকের শেয়ারদরে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ পতন ঘটে। গত তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদরে এতটা পতন ঘটেনি। ফেসবুকে চলতি বছরের জন্য বিজ্ঞাপন বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে ইউনিলিভার। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৃহৎ বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। এরই মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে।

ফেসবুকের শেয়ারদর পড়ে যাওয়ায় মার্ক জাকারবার্গের নিট সম্পদের পরিমাণ কমে ৮ হাজার ২৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সম্পদের পরিমাণ কমায় বিশ্বের শীর্ষ ধ’নীর তালিকা থেকেও এক ধাপ নেমে গেছেন তিনি। এ কারণে বর্তমানে বিশ্বের ধ’নীর তালিকায় শীর্ষ তিন থেকে সরে জাকারবার্গ এখন চারে। জেফ বেজোস ও বিল গেটসের পর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন লুই ভুটনের প্রধান নির্বাহী বার্নার্ড আরনল্ট।

ফেসবুকের ঘৃণ্য বক্তব্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার জের ধরে ভেরাইজন, হার্শের মতো বড় প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে কোকা-কোলাও। তারা আপাতত এক মাস ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছে।

মার্ক জাকারবার্গ বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও কোম্পানির ফেসবুকের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম বর্জন নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফেসবুক ভোটসংক্রান্ত পোস্টে লেবেল লাগাবে। এছাড়া যার কাছ থেকেই ঘৃণ্য বক্তব্য আসুক না কেন, তা নি’ষিদ্ধ হবে। রাজনীতিবিদরাও এর ব্যতিক্রম নন। অথচ এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদবি’রোধী বি’ক্ষো’ভ নিয়ে মা’র্কিন প্রে’সিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা’ম্পের পোস্ট না সরানোর পক্ষে অটল ছিলেন। বি’ষয়টি নিয়ে ফেসবুকের ডজনের বেশি শীর্ষ নির্বাহীর বি’রোধিতার মুখেও নিজ সি’দ্ধান্তে অনড় ছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদবি’রোধী বি’ক্ষো’ভ নিয়ে ফেসবুকে নানা বি’তর্কি’ত ও উসকানিমূ’লক পোস্ট দিয়ে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রা’ম্প। ফেসবুকের কনটেন্ট নীতিমালা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। যে কারণে বি’ষয়টি নিয়ে ফেসবুকের শীর্ষ পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকরা প্রকাশ্যে জাকারবার্গের সি’দ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

এ বি’ষয়ে ফেসবুকের নিউজ ফিডের পণ্য নকশা বিভাগের পরিচালক রায়ান ফ্রেইটিস বলেছিলেন, মার্ক ভু’ল করেছেন। আমি তার সি’দ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা চালাব। তিনি ৫০ জনের বেশি সমমনা কর্মীকে এ কাজে পাশে পাচ্ছেন বলে জানান। প্রয়োজনে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা পরিবর্তনের জন্য লবিং চালাবেন।

ফেসবুকের পণ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জেসন টফ বলেছিলেন, আমি ফেসবুকে কাজ করি। আমাদের যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, এতে আমি গর্বিত নই। বেশির ভাগ সহকর্মী একই রকম অনুভূতির কথা বলেছেন। আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর জো’রালো করব।

একই সময় মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার ডোনাল্ড ট্রা’ম্পের এক টুইটে সতর্কীকরণ লেবেল সেঁটে দিয়েছিল। ওই টুইটে ট্রা’ম্প বলেন, লু’টতরাজ হলে গু’লিও চলবে। টুইটার জানায়, ট্রা’ম্পের ওই টুইট তাদের স’হিংস নীতিমালা ভে’ঙেছে। নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় সতর্কীকরণ লেবেল সেঁটে দেয়া হয়েছে। টুইটারের এমন সাহসী পদক্ষেপের প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা গেছে অনেক ফেসবুক কর্মীকে।

সম্প্রতি আমেরিকার মিনেপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পু’লিশের নি’র্যাতনে জর্জ ফ্লয়েড (৪৬) নামে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃ’ত্যু হয়। নি’হত ব্যক্তি একজন সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় ছিলেন। জর্জ ফ্লয়েডের মৃ’ত্যুতে বি’ক্ষো’ভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো আমেরিকা। বর্ণবাদবি’রোধী ক্ষু’ব্ধ মানুষের উত্তাল বি’ক্ষো’ভ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকার অন্তত ৪০টির বেশি শহরে কারফিউ জারি করতে হয়েছিল। বি’ক্ষো’ভ দ’মনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here