সাবরিনার যে সাজা হতে পারে

0
160

শুরু থেকে ডা. সাবরিনাকে জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান বলা হলেও ত’দন্ত সংস্থা বলছে, প্রতিষ্ঠানটির আহ্বায়ক হিসেবেই জাল-জালিয়াতিতে তার সম্পৃক্ততার ত’থ্য মিলেছে। মা’মলার অন্য আ’সামিদের স্বী’কারোক্তিমূ’লক জবানব’ন্দিতেও প্র’তারণার নেপথ্য নাম হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে ডা. সাবরিনার কথা।

ডি’বির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডা. সাবরিনাসহ আ’সামিদের বি’রুদ্ধে দ্রু’ত চার্জশিট দেয়া হবে। আর এ মা’মলায় যে শা’স্তি হয়, সাবরিনা ও তার সহযোগীদের জন্য তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চা’লানো হবে বলে জানাচ্ছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

জানা গেছে, ক’রোনাভা’ইরাসেের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ এনে গত ২৩ জুন তেজগাঁও থানায় মা’মলাটি দা’য়ের করেন কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। মা’মলায় পেনাল কোডের ১৭০/২৬৯/৪২০/৪০৬/৪৬৬/৪৭১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে একাধিক ধারায় সর্বোচ্চ শা’স্তি সাত বছরের কা’রাদ’ণ্ড।

সেজন্য আইনজীবীরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে ডা. সাবরিনার সাত বছরের কা’রাদ’ণ্ডও হতে পারে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সর্বোচ্চ তৎপরতা চেষ্টার কথাই বলছেন।

এ বি’ষয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম আ’দালতের অতিরিক্তি পাবলিক প্রসিকিউর (এপিপি) হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন বলেন, ডা. সাবরিনা একজন প্র’তারক হিসেবে গ্রে’ফতার হয়েছেন। তিনি প্র’তারণা করে অনেক মানুষকে বি’পদে ফে’লেছেন। মানুষের জীবন-মৃ’ত্যু নিয়ে খেলেছেন। তার বি’রুদ্ধে যে ধারায় মা’মলা করা হয়েছে তার সর্বোচ্চ শা’স্তি সাত বছরের জে’ল। তার যেন সর্বোচ্চ শা’স্তি নিশ্চিত হয় আমরা সে দিকে নজর রাখবো।

ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা পু’লিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, মা’মলা ত’দন্তে জেকেজির চেয়ারম্যান নয়, আহ্বায়ক হিসেবে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা পু’লিশ। আশা করছি এ মা’মলায় আমরা দ্রু’তই চার্জশিট দিতে পারব। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার পদে থাকার কোনো ডকুমেন্ট আমরা পাইনি। তবে আহ্বায়ক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকার কাগজ পাওয়া গেছে।

মা’মলার বা’দী কামাল হোসেন বলেন, আমরা জেকেজি হেলথকেয়ারে গিয়ে ক’রোনা পরীক্ষা করে প্র’তারিত হয়েছি। তাই আমি বা’দী হয়ে একটি মা’মলা করেছি। দোষীরা শা’স্তি পাক এটা আমি চাই। ডা. সাবরিনাসহ মা’মলার অপর আ’সামিরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। তাদের বিচার হওয়া উচিত।

ডা. সাবরিনার বি’রুদ্ধে করা মা’মলায় যে শা’স্তি
আইনজীবীদের স’ঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডা. সাবরিনার বি’রুদ্ধে পেনাল কোডের ১৭০/২৬৯/৪২০/৪০৬/৪৬৬/৪৭১/৩৪ ধারায় যে মা’মলা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শা’স্তি সাত বছরের কা’রাদ’ণ্ড। এছাড়া আরও নানা শা’স্তি রয়েছে।

মা’মলার ১৭০ ধারা মোতাবেক, ‘ভুয়া স’রকারি কর্মচারী বলিয়া পরিচয় দেয়া যদি কোনো স’রকারি কর্মচারী হিসেবে কোনো বিশেষ সম্পত্তি ক্রয় বা ক্রমের জন্য দরকষাকষি না করতে আইনতঃ বা’ধ্য থাকা সত্ত্বেও নিজের নামে অথবা অন্য কারও নামে অথবা যুক্তভাবে অথবা অন্যান্যের সাথে অংশ নিয়ে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন বা ক্রয় করার জন্য দরকষাকষি করেন, তবে তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্ৰম কা’রাদ’ণ্ডে অথবা অর্থদ’ণ্ডে অথবা উভ’য়বিধ দ’ণ্ডেই দ’ণ্ডিত হবেন; এবং সম্পত্তিটি ক্রয় করা হয়ে থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হবে।’

২৬৯ ধারা মোতাবেক, ‘কোনো কার্য দ্বারা জীবনের পক্ষে বি’পজ্জনক কোনো রো’গের সং’ক্র’মণ ছড়াইতে পারে জানিয়াও অবহেলাবশতঃ উহা করা কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনিভাবে বা অবহেলামূ’লকভাবে এমন কোনো কার্য করে যা জীবন বিপন্নকারী মা’রাত্মক কোনো রো’গের সং’ক্র’মণ ছড়াতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে-সেই ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে, অথবা অর্থদ’ণ্ডে, অথবা উভ’য়বিধ দ’ণ্ডেই দ’ণ্ডিত হবে।’

৪২০ ধারা মোতাবেক, ‘প্র’তারণা ও সম্পত্তি সমর্পণ করিবার জন্য অ’সাধুভাবে প্রবৃত্ত করা কোনো ব্যক্তি যদি প্র’তারণা করে এবং অ’সাধুভাবে অপর কোনো ব্যক্তিকে কোনো সম্পত্তির অংশ বা অংশবিশেষ প্রণয়ন, পরিবর্তন বা বিনাশ সাধ’নে প্রবৃত্ত করে অথবা অ’সাধুভাবে প্র’তারিত ব্যক্তিকে এমন কোনো স্বাক্ষরিত বা সিল মোহরযুক্ত বস্তুর সমুদয় অংশ বা অংশবিশেষ প্রণয়ন পরিবর্তন বা বিনাশ সাধ’নে প্রবৃত্ত করে যা মূ’ল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রমের কা’রাদ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেওও দ’ণ্ডিত হবে।’

৪০৬ ধারা মোতাবেক, ‘কোনো ব্যক্তি যদি অ’পরাধমূ’লক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কা’রাদ’ণ্ডে, অথবা অর্থদ’ণ্ডে, অথবা উভ’য়বিধ দ’ণ্ডেই দ’ণ্ডিত হবে।’

৪৬৬ ধারা মোতাবেক, ‘আ’দালতের নথিপত্র বা স’রকারি রেজিস্টার ইত্যাদি জালকরণে কোনো ব্যক্তি যদি এমন একটি দলিল জাল করে যা কোনো বিচারালয়ের নথি অথবা প্রসিডিং কিংবা কোনো বিচারালয়ে উত্থাপিত নথি বা প্রসিডিং বলে অথবা কোনো জ’ন্ম, খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিবাহ কিংবা সমাধিকরণের রেজিস্টার বলে অথবা কোনো স’রকারি কর্মচারী কর্তৃক স’রকারি কর্মচারী হিসেবে রক্ষিত রেজিস্টার বলে অথবা কোনো স’রকারি কর্মচারী দ্বারা তার স’রকারি পদমর্যাদা বলে কৃত সার্টিফিকেট বা দলিল বলে, অথবা কোনো মা’মলা দায়ের করার বা উহাতে পক্ষ সমর্থনের কিংবা উহাতে কোনো কার্যক্রম গ্রহণের রায় মানার কিংবা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বলে প্রতিভাত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দ’ণ্ডেও দ’ণ্ডিত হবে।’

৪৭১ ধারা মোতাবেক, ‘কোনো ব্যক্তি যদি প্র’তারণামূ’লকভাবে বা অ’সাধুভাবে এমন একটি দলিলকে খাঁটি দলিল হিসাবে ব্যবহার করে, যে দলিলটি একটি জাল দলিল বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি যেন সে নিজে দলিলটি জাল করেছে, এমনভাবে দ’ণ্ডিত হবে।’

দুই দফা রি’মান্ড শেষে গত ২০ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম আ’দালতে সাবরিনাকে হাজির করে পু’লিশ। ত’দন্তকারী কর্মকর্তা ডি’বি পু’লিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী মা’মলার ত’দন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কা’রাগারে আ’টক রাখার আবেদন করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু ত’দন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মা’মলার ত’দন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডা. সাবরিনাকে জে’লহাজতে আ’টক রাখা একান্ত প্রয়োজন। তার নাম ঠিকানা যাচাই করা হয়নি বিধায় ডা. সাবরিনা জা’মিনে গেলে চিরতরে প’লাতক হওয়ার আ’শঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ‘রি’মান্ডে থাকাবস্থায় সাবরিনাকে দফায় দফায় মা’মলার বি’ষয়ে বিশদ জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি মা’মলা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত’থ্য দিয়েছেন। যা যাচাই-বাছাই চলছে। সাবরিনা তার সহযোগীদের (যাদের অনেকে আ’সামি) নিয়ে স’রকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্র’তারণার মাধ্যমে ক’রোনাভা’ইরাসেের পজিটিভ ও নেগেটিভ রিপোর্ট সরবরাহ করেছিলেন। নিরীহ লোকদের টাকা আত্মসা’ৎ এবং অবহেলার মাধ্যমে রো’গের সং’ক্র’মণ বিস্তারে সহায়তা করে আসছিলেন সাবরিনা। তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে স্বা’মী আরিফুল চৌধুরীর জেকেজি হেলথকেয়ারকে বিভিন্ন স’রকারি কাজের আদেশ পাইয়ে দিতেন। ফলে জেকেজি হেলথকেয়ার বে’পরোয়াভাবে সমাজের ক্ষ’তিসাধ’ন করে এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ডা. সাবরিনা তার অপরাপর সহযোগীদের সহায়তায় ক’রোনাভা’ইরাসে ম’হামা’রির সময় অ’বৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে সমাজবি’রোধী এবং ধবংসাত্মক কার্যকলাপ চা’লিয়ে আসছিলেন। ডা. সাবরিনার প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ার ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার সংক্রমিত রো’গীদের টাকার বিনিমিয় স্যাম্পল কালেকশন করে তা পরীক্ষা না করে হাজার হাজার ভুয়া সার্টিফিকেট (নেগেটিভ/পজিটিভ) দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসা’ৎ করে। এছাড়া বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের যাত্রার আগে জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ক’রোনাভা’ইরাসেের ভুয়া রিপোর্ট দেয়া হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে মিথ্যা মর্মে প্রমাণিত হয়েছে। এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।’

‘মা’মলায় গ্রে’ফতার আ’সামি বিপ্লব দাস, মামুনুর রশীদ, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, আরিফুল চৌধুরী ও সাদি চৌধুরীর নিকট থেকে ক’রোনা আ’ক্রান্ত রো’গীদের জাল সার্টিফিকেট (নেগেটিভ/পজিটিভ) উ’দ্ধার করা হয়। ডা. সাবরিনা জেকেজি হেলথ কেয়ারের অফিসে রক্ষিত ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইসের মাধ্যমে স’রকারি লোগো ব্যবহার করে জাল সার্টিফিকেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসা’ৎ করেছেন বলে ত’থ্য পাওয়া যাচ্ছে। মা’মলার এজহারনামীয় আ’সামি তানজিলা পাটোয়ারী ও হুমায়ূন কবির হিমু নিজেদের জবানব’ন্দিতে ডা. সাবরিনার নাম প্রকাশ করেছেন এবং তারা সাবরিনার জাল-জালিয়াতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ডা. সাবরিনাকে জি’জ্ঞাসাবাদে প্রা’প্ত ত’থ্য যাচাই-বাছাই শেষ মা’মলার প্রকৃত র’হস্য উদঘাটনের নিমিত্তে প্রয়োজনে আবার তাকে রি’মান্ডে নেয়ার আবেদন করা হবে’—বলা হয় প্রতিবেদনে।

গত ১২ জুলাই দুপুরে সাবরিনাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পু’লিশ (ডিসি) কার্যালয়ে এনে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়। জি’জ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ক’রোনাভা’ইরাসেের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে তেজগাঁও থানায় করা মা’মলায় গ্রে’ফতার করে পু’লিশ। গত ১৩ জুলাই তাকে তিনদিনের রি’মান্ডে নেয়া হয়। ১৭ জুলাই আরও দুদিনের রি’মান্ডে নেয় ডি’বি। দুই দফা রি’মান্ড শেষে ২০ জুলাই তাকে কা’রাগারে পাঠান আ’দালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here