সাহেদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগের পাহাড়

0
202

‘তোরে এতো গু’লি করবো, শ’রীরে আর জায়গা থাকবে না। লা’শ ভাসাইয়া দিবো বুড়িগঙ্গায়।’ গত ৩০ জুন পাথর ও বালু সরবরাহ বাবদ ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিল চাইতে গেলে সুনামগঞ্জের ছাতকের এখলাস খানের মাথায় পি’স্তল ঠেকিয়ে এমন হু’মকি দেন প্র’তারণার জাদুকর সাহেদ। গত কয়েকদিনে ভ’য়ঙ্কর এই প্র’তারকের বি’রুদ্ধে দেড় শতাধিক ভু’ক্তভোগী অ’ভিযোগ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

সাহেদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ রীতিমতো পাহাড়সম। বিশেষ করে র‌্যা’বের পক্ষ থেকে হটলাইন নম্বর খোলার পর গতকাল বেলা ২টা পর্যন্ত ১৪০ জন ভু’ক্তভোগী ফোনে এবং ই-মেইলে অ’ভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, শনিবার দিবাগত রাতে রি’মান্ডে থাকা সাহেদকে নিয়ে উত্তরা এলাকায় অ’ভিযান চা’লিয়ে মা’দক ও অ’স্ত্র উ’দ্ধার করেছে ডি’বি পু’লিশ। এ ঘ’টনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় পৃথক দুটি মা’মলা হয়েছে।

জানা গেছে, সাহেদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগের মধ্যে বেশিরভাগ প্র’তারণার অ’ভিযোগ। স’রকারি-বেস’রকারি ব্যাংক থেকে ঋ’ণ নেওয়া, রিজেন্টের কর্মচারীদের বেতন না দেওয়া, স’রকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল অন্যতম।

এর বাইরে বিভিন্ন দফতরে বদলির সুপারিশের আশ্বাস দিয়ে বিশাল অঙ্কের টাকা আ’ত্মসাৎ, বিভিন্ন জায়গায় বালু ভরাট, র’ড-সিমেন্ট সাপ্লাইয়ের কথা বলে টাকা আ’ত্মসাৎ,

রিজেন্ট হাসপাতালে সেবার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়, রিকশা-ভ্যানের ভুয়া লাইসেন্স দেওয়ার ত’থ্য মিলেছে সাহেদের বি’রুদ্ধে। এ ছাড়া রিজেন্টের এমডি মাসুদ পারভেজ ও সাহেদের বি’রুদ্ধে স’রকারি ও বেস’রকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে ফোন দিয়ে ঋ’ণ নেওয়া সংক্রান্ত অ’ভিযোগ মিলেছে।

র‌্যা’বের সদর দফতরের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সাহেদের বি’ষয়ে আরও ত’থ্য সংগ্রহের জন্য গত ১৭ জুলাই র‌্যা’বের একটি সেবা লাইন (হেল্পলাইন- ০১৭৭৭৭২০২১১) চালু করি।

সেবা লাইনের উদ্দেশ্য ছিল যারা রিজেন্ট হাসপাতাল বা সাহেদ করিমের হাতে প্র’তারিত হয়েছেন তাদের আইনি পরামর্শ ও আইনি সহায়তা দেওয়া। এ ছাড়া একটি অফিশিয়াল ই-মেইলে বিস্তারিত ত’থ্যের জন্য আহ্বান জানাই। রবিবার পর্যন্ত ১২০টি ফোনকল ও ২০টি ই-মেইলে তার রিরুদ্ধে অ’ভিযোগ করা হয়েছে।

সাহেদের প্র’তারণার শি’কার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই। অনেকটাই নিঃস্ব হয়ে পথে বসে গেছেন। দিনের পর দিন তার উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাননি। উল্টো সাহেদের ট’র্চার সেলে নিয়ে অ’মানুষিক নি’র্যাতনের শি’কার হতে হয়েছে অনেককে। থানায় গেলেও সাহেদের বি’রুদ্ধে মা’মলা নিতে চাইত না পু’লিশ।

ভু’ক্তভোগী উত্তরার রিয়াদ রহমান বলেছেন, ২০১৯ এর এপ্রিলের শেষে এবং মের শুরুতে পূর্বাচলে সাহেদের একটি প্রজেক্টে এসকেভেটর, ড্রাম ট্রাক, ড্রেজার এবং শ্র’মিক সরবরাহের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দেয়। বিল দেওয়ার কথা থাকে ১০ দিন পরপর। একপর্যায়ে ৪৪ লাখ টাকা বিল হওয়ার পর আড়াই মাস কাজ বন্ধ করে দেই। তার অফিসে ৬-৭ মাস ঘুরে ১৮ লাখ টাকা পাই।

রিয়াদ আরও বলেন, সাহেদ নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বি’ষয়ক এপিএস বলতেন। ফোন দিলেই বলতেন ডিজিএফআইর অফিসে মিটিংয়ে। সামনে পিছনে দুটি গাড়ি। তার স’ঙ্গে তিনটা শটগান নিয়ে থাকত দে’হরক্ষী। তার নিজের স’ঙ্গে থাকত ৯ এমএম পি’স্তল। অফিসে কথা বলার সময় সে সব সময় পি’স্তল ঘুরাত।

র‌্যা’ব কর্মকর্তা আশিক বিল্লাহ বলেন, র‌্যা’বের কাছে সাহেদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ফোন দিয়েছেন। সাহেদ তাদের বেতন দিতেন না বলে অ’ভিযোগ করেছেন ভু’ক্তভোগীরা। সাহেদ ও মাসুদের প্র’তারণার বি’ষয়ে বিদেশ থেকেও আমাদের কাছে ফোনকল আসে।

বিদেশের অনেকেই এই দুজনের কাছে প্র’তারিত হয়েছেন বলে ফোন করেছেন। যারা বিদেশ থেকে ফোন করেছেন তাদের অ’ভিযোগ অর্থ সংক্রান্ত প্র’তারণা। যেসব ফোনকল ও ই-মেইল পেয়েছি সবগুলোর মূ’ল অংশ ছিল আর্থিক লেনদেন। আমাদের কাছে আসা অ’ভিযোগ অনুযায়ী, সাহেদ আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মতো প্র’তারণা করেছেন। আগামী ৫ দিন এই হটলাইনে অ’ভিযোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সাহেদ ও রিজেন্ট সংক্রান্ত মা’মলার ত’দন্তভার নেওয়ার জন্য র‌্যা’ব পু’লিশ সদর দফতরের মাধ্যমে স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। ম’ন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে র‌্যা’ব ত’দন্তভার নেবে। যেহেতু র‌্যা’ব শুরু থেকেই এ মা’মলা করছিল, এরই ধারাবাহিকতায় আমরা ত’দন্তের কাজ করার জন্য আবেদন করি। প্র’তারকের যে ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত সবই তার মধ্যে আছে। সাধারণ মানুষ তার গুরুত্বপূর্ণ আবহ দেখে তাকে বিশ্বাস করতেন।

সাহেদের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা-নি’র্যাতনের মতো ফৌজদারি অ’পরাধের অ’ভিযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ’ত্যার মতো ফৌজদারি অ’পরাধের অ’ভিযোগ পাইনি। যেসব পেয়েছি সবই প্র’তারণার।

তবে হাসপাতালে একটি ট’র্চার সেল ছিল, সেখান থেকে আমরা কিছু জিনিস জ’ব্দ করেছি। তিনি খুব মা’রপিট করতেন। শা’রীরিকভাবে লা’ঞ্ছিত করতেন। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রা’প্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, শনিবার রাতে ডি’বি সদস্যরা সাহেদকে নিয়ে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডের ৬২ নম্বর বাসার সামনে অ’ভিযান চা’লায়। সেখানে সাহেদের নিজস্ব সাদা প্রাইভেটকার ছিল। সেই প্রাইভেটকারে তল্লা’শি চা’লিয়ে ডি’বির সদস্যরা পাঁচ বোতল বিদেশি ম’দ, ১০ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পি’স্তল উ’দ্ধার করে। একটি গু’লিও উ’দ্ধার করা হয়। এরপরই অ’স্ত্র ও মা’দক নি’য়ন্ত্রণ আইনে দুটি মা’মলা করা হয়। এই থানায় এ পর্যন্ত সাহেদের বি’রুদ্ধে পাঁচ’টি প্র’তারণাসহ সাতটি মা’মলা হলো।

অন্যদিকে প্র’তারক সাহেদের কথিত মালিকানাধীন পত্রিকার নামে করা তার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে স’রকার। একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে তিনি এই কার্ড নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

গতকাল প্রধান ত’থ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার স’রকার বলেন, এ বি’ষয়টি আমাদের নীতিমালার মধ্যেই বলা আছে। যদি কেউ প্র’তারণামূ’লক কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে তাহলে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে।

তাই আমরা তার কার্ডটি বাতিল করেছি। সাহেদ দৈনিক নতুন কাগজ নামে একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড নেন। কার্ডের নম্বর-৬৮৪৫। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর তার কার্ডটি ইস্যু করে ত’থ্য অধিদফতর। কার্ডের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অ’ভিযান চা’লায় র‌্যা’ব। অ’ভিযানে ক’রোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, ক’রোনা চিকিৎসার নামে রো’গীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে।

পরে রো’গীদের সরিয়ে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প’লাতক ছিলেন সাহেদ। তবে ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রে’ফতার করে র‌্যা’ব।

পরদিন ১৬ জুলাই সাহেদ এবং রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে ১০ দিনের রি’মান্ডে পাঠায় আ’দালত। আর সাহেদের প্রধান সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে সাত দিনের রি’মান্ডে পাঠানো হয়। মা’মলার ত’দন্তভার এখন ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা (ডি’বি) পু’লিশের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here