রোববার থেকেই ঢাকায় জোনভিত্তিক লকডাউন

0
311

ক’রোনাভা’ইরাসে (কোভিড-১৯) সং’ক্র’মণের মাত্রার ও’পর ভিত্তি করে রাজধানীসহ সারাদেশকে তিনটি জোন- রেড, ইয়েলো ও গ্রিন ভাগে ভাগ করে কর্মপন্থা গ্রহণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে স’রকার। শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় থেকে এ ত’থ্য জানা গেছে। রোববারই (৭ জুন) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বেশি ক’রোনা আ’ক্রান্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে তা লকডাউন করে দেয়া হবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, সং’ক্র’মণের মাত্রা বাড়লেও আর সাধারণ ছুটির সি’দ্ধান্তে ফিরছে না স’রকার। জোন ভাগ করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করা হবে। রোববার থেকেই রাজধানীতে জোন ভাগের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোনভিত্তিক লকডাউনে দেরির চড়া মাশুল গুণতে হবে।

দেশে গত দু’সপ্তাহে আ’শঙ্কাজনকহারে বেড়েছে ক’রোনা আ’ক্রান্ত ও মৃ’তের সংখ্যা।

এ পরিস্থিতিতে শনিবারও দফায় দফায় বৈঠক করেছে স্বাস্থ্য, স্ব’রা’ষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও আইসিটি ম’ন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর। বৈঠক শেষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, আর পুরো দেশে ছুটি ঘোষণার চিন্তা নেই স’রকারের। ঝুঁ’কি বিবেচনায় রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার দিকেই এগুচ্ছেন তারা।

স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইসিটি ম’ন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিয়ে রোববার থেকেই ঢাকায় জোন ভাগের কাজ শুরু হবে।

অতিরিক্ত স্বাস্থ্য স’চিব হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকার একাধিক জায়গায় কালকেই (রোববার) ভাগ করার একটি প্রচেষ্টা হাতে নেয়া হয়েছে। রেড জোনগুলোতে সব কিছুই বন্ধ করা হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরো দু’মাস আগেই শুরু করা উচিৎ ছিলো জোন ভাগের কাজ। ডা. রিদওয়ান বলেন, আজকে করলে এটা কতটুকু সুফল পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত নই। এটা দুমাস আগে করলে অনেক ভাল ফল পাওয়া যেত।

জানা গেছে, ক’রোনা মো’কাবিলায় বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে জোনিং ব্যবস্থা পুরোদমে বাস্তবায়ন করবে স’রকার। এজন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে।
ক’রোনাভা’ইরাসে সং’ক্র’মণের ক্রম অবনতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ১ জুন স’চিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মন্ত্রিপরিষদ স’চিবসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় বসেন। ওই সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক’রোনা সং’ক্র’মণের ও’পর ভিত্তি করে বিভিন্ন এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার কথা জানান।

স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে- বেশি আ’ক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আ’ক্রান্ত এলাকাকে ইয়েলো ও একেবারে কম আ’ক্রান্ত বা মুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রেড জোনকে লকডাউন করা হবে, ইয়েলো জোনে যেন আর সং’ক্র’মণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।

রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনের মধ্যে কোন কোন এলাকা পড়ছে তা মানুষ কীভাবে জানবে- এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত স’চিব বলেন, ‘অ্যাপ নিয়ে যারা কাজ করছে, তারা জোনিংটা ইতিমধ্যে করে ফে’লেছে, তবে তা প্রকাশ করা হয়নি। পরে হয়তো মিডিয়ায় যাবে, আর যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সেখানে মাইকিং হবে, বিভিন্নভাবে প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে জানানো হবে।

স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সি’দ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি এক লাখে যদি ৩০ জন বা এর বেশি মানুষ ক’রোনায় আ’ক্রান্ত থাকে তবে সেটাকে রেড জোন বলা হবে। ৩ জনের বেশি কিন্তু ৩০ জনের কম থাকলে তবে সেই এলাকাকে ইয়েলো জোন বলা হবে। এক বা দু’জন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হবে।

তবে জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে আ’ক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। রেড জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে এক লাখে আ’ক্রান্তের সংখ্যা ২০, ৩০ ও ৪০- তিন ধরনেরই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় থেকে আরও জানা গেছে, অ্যাপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা থাকবে কোন এলাকা রেড জোন, কোন এলাকা ইয়েলো জোন এবং কোনটি গ্রিন জোন। আ’ক্রান্তরা সুস্থ হয়ে গেলে, রোড জোন পর্যায়ক্রমে ইয়েলো ও গ্রিন হবে। প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজটি করছে ত’থ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও এটুআই। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআর (রো’গতত্ত্ব, রো’গ নিয়ন্ত্রণ ও গ’বেষ’ণা প্রতিষ্ঠান) ত’থ্য সরবরাহ করবে।

ক’রোনা সং’ক্র’মণের ঝুঁ’কির মধ্যেই টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্দেশনা মানার সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে স’রকারি-বেস’রকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ থাকা গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ, ট্রেন) চালু হয়। কিন্তু ক’রোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

দেশে নতুন করে আরও ২ হাজার ৬৩৫ জনের শ’রীরে ক’রোনাভা’ইরাসেের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মা’রা গেছেন ৩৫ জন। ক’রোনাভা’ইরাসে নিয়ে নিয়মিত অনলাইন বু’লেটিনে শনিবার (৬ জুন) দুপুরে এ ত’থ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বু’লেটিনে সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯০৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৪৮৬টি। এখন পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে গেল ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৫ জন এবং মোট শনাক্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ২৬ জন।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত শনাক্তকৃতদের মধ্যে ৭১ শতাংশ পু’রুষ এবং বাকী ২৯ শতাংশ না’রী। শনাক্তদের মধ্যে গেল ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫২১ জন এবং এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৩২৫ জন। বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মা’রা গেছেন ৩৫ জন এবং এখন পর্যন্ত মা’রা গেছেন ৮৪৬ জন। নতুন মা’রা যাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ২৮ জন পু’রুষ এবং ৭ জন না’রী।

এর আগে শুক্রবার ২ হাজার ৮২৮ জনের আ’ক্রান্ত ও ৩০ জনের মৃ’ত্যুর ত’থ্য দেয় অধিদপ্তর। এই সংখ্যার মাধ্যমে বাংলাদেশ শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here