রেড জোনে ক’রোনা প্রতিরোধে ‘যে কোনো ব্যবস্থা’ নেবে পু’লিশ

0
274

দীর্ঘ দুই মাস সাধারণ ছুটি থাকার পরও দেশে হুহু করে বাড়ছে ক’রোনাভা’ইরাসেে (কোভিড-১৯) আ’ক্রান্তের সংখ্যা। শনিবার (৬ জুন) পর্যন্ত দেশে ভাই’রাসটিতে আ’ক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ২৬ জন। মা’রা গেছেন ৮৪৬ জন।

ক’রোনাভা’ইরাসে সং’ক্র’মণ পরিস্থিতির লাগাম টানতে এবার এলাকাভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ নিয়েছে পু’লিশ। আ’ক্রান্তের সংখ্যা বিচারে রেড জোন, ইয়েলো জোন এবং গ্রিন জোনে চিহ্নিত করা হবে এলাকাগুলোকে। বেশি আ’ক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আ’ক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো ও একেবারে কম আ’ক্রান্ত বা সং’ক্র’মণমুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। গ্রিন জোনে সতর্কতা এবং ইয়েলো জোনে সং’ক্র’মণ যেন আর না বাড়ে সেজন্য পদক্ষেপ থাকলেও রেড জোনকে করা হবে লকডাউন। এই জোনে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ও জনসাধারণের চলাচল রোধে ক’রোনার বিশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী ক’ঠোর হবে পু’লিশ।

ঢাকা মহানগর পু’লিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, এসওপি ছাড়া এ পর্যন্ত অন্য কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে প্রকৃত লকডাউনে যা যা করতে হয় পু’লিশ তাই করবে। রেড জোনে সার্বক্ষণিক টহল, চেকপোস্ট, অকারণে ঘোরাঘুরি করা ব্যক্তিদের জি’জ্ঞাসাবাদ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ ইত্যাদি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বি’ষয়ে পু’লিশ সদরদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, ক’রোনাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও পু’লিশিং কার্যক্রমের জন্য আমাদের একটি প্যান্ডেমিক এসওপি রয়েছে। এসওপিতে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে, ক’রোনাকালে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পু’লিশ সদস্যরা কখন কীভাবে কাজ করবেন। এই এসওপির সাথে সংগতি রেখে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়ার মতো এলাস্টিক সক্ষ’মতা রয়েছে এই এসওপির। যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো সময়ে এমনকি স্বল্প সময়ের নোটিশে আমরা এসওপি সংশোধ’ন বা এরই সঙ্গে নতুন কোনো প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি সংযোজন করার সুযোগ রেখেছি।

সোহেল রানা আরও বলেন, স্বাভাবিক পু’লিশিংয়ের পাশাপাশি স’রকারের নির্দেশিত যেসব স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে, সেসব বিশেষ নির্দেশনাও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে পু’লিশ।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ ম’ন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আগামীকাল রবিবার (৭ জুন) থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার কিছু স্থানে জোনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লকডাউন শুরু হবে। রেড জোনে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে, একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না। ওই এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রো’গতত্ত্ব, রো’গ নিয়ন্ত্রণ ও গ’বেষ’ণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, ঢাকায় ২০ হাজার ৭০৭ জন ক’রোনাভা’ইরাসেে আ’ক্রান্ত রো’গী শনাক্ত হয়েছেন। রেড জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি সং’ক্র’মণ ছড়ানোর মাপকাঠিতে এখন পর্যন্ত এমন ২৩টি এলাকা রয়েছে, যেখানে ক’রোনায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা একশ’র বেশি।

এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক’রোনা সংক্রমিত রো’গী পাওয়া গেছে মিরপুর এলাকায়। সেখানে ৯৬৯ ক’রোনায় আ’ক্রান্ত রো’গী শনাক্ত হয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আ’ক্রান্ত রো’গী পাওয়া গেছে মহাখালীতে। সেখানে এখন পর্যন্ত আ’ক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৫৭ জন। আ’ক্রান্তের তালিকায় এর পরে আছে উত্তরা, মুগদা ও মোহাম্মদপুর। এ তিন এলাকায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৩৩, ৪২৮ ও ৩৯৪।

বাকি যেসব এলাকায় সংক্রমিত রো’গী বেশি, সেসব এলাকা হলো- যাত্রাবাড়ী (৩৮৭ জন), কাকরাইল (৩০০ জন), ধানমন্ডি (২৯৪ জন), মগবাজার (২৫৫ জন), তেজগাঁও (২৫১ জন), রাজারবাগ (২২১ জন), খিলগাঁও (২১৯ জন), লালবাগ (২০৬ জন), রামপুরা (১৯৭ জন), বাড্ডা (১৯৫ জন), মালিবাগ (১৬৪ জন), গুলশান (১৬৩ জন), বাবুবাজার (১৬২ জন), গেন্ডারিয়া (১৪২ জন), ওয়ারী (১২৪ জন), বাসাবো (১২২ জন), বংশাল (১০৯ জন) এবং আগারগাঁও (১০৮ জন)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here