আজ সব হা’রিয়ে নিঃস্ব স্মৃ’তি!

0
158

একদিন সবই ছিল স্মৃ’তির। বাবা মায়ের আদরের ছোট মে’য়ে ছিল স্মৃ’তি আক্তার। আদরে আ’নন্দে কাটছিল স্মৃ’তির শৈশবকাল। কিন্তু বিধিবাম। হঠাৎ করে স্মৃ’তির মা রীনা আক্তার মানুসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

বেশ কিছুদিন পর স্মৃ’তির বাবা আঃ মালেক এক পর্যায়ে তার মাকে বিদায় করে আবার বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৮ সালে আঃ মালেক মৃ’ত্যুবরণ করেন। তখন থেকে স্মৃ’তি ও তার বড় বোন প্রীতির উপর নেমে আসে কাল বৈশাখী ঝড়। এসময় স্মৃ’তির ২য় মা স্বা’মীর সংসার ছেড়ে চলে যায়। তখন চাচা-চাচীরাই তাদের একমাত্র আশ্রয় দাতা হয়ে উঠে।

স্মৃ’তি আক্তার সাংবাদিকদের জানায়, একমাত্র আশ্রয়দাতা চাচা-চাচীরাই আমাদের দিয়ে নিজেদের ঘরের কাজ করাতে থাকে। চাচা-চাচীদের অ’ত্যাচারে একে একে স্কুল থেকে পা’লিয়ে যেতে বা’ধ্য হই আমরা দুই বোন। প্রীতি ও স্মৃ’তি পা’লিয়ে গিয়ে খালার কাছে আশ্রয় নেয় বলে জানায়।

স্মৃ’তির খালু নারিকেলতলা গ্রামের মো. আবু তাহের পাটওয়ারী ও মামা জাকির হোসেন জানান, স্মৃ’তির বাবা আঃ মালেক বিদেশে (কাতারে) থাকতেন। তার তিন ভাই কাশেম, কামাল, কালাম বাড়িতে থাকতেন।

সেই সুযোগে আঃ মালেকের স্ত্রী’কে (স্মৃ’তির মা) বিভিন্ন অযুহাতে মানুষিক ও শারিরীক ভাবে নি’র্যাতন করতেন। এক সময় আঃ মালেক দেশে এসে ঢাকায় কারওয়ান বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। স্ত্রী ছেলে মে’য়ে বাড়ীতে বসবাস করতো।

ভাইদের প্রলোভনে আঃ মালেক’ও স্ত্রী’র সাথে খা’রাপ আচরণ করতে থাকে। আঃ মালেকের এক ছেলে প্রতিব’ন্ধী পানিতে পড়ে মা’রা যায়। সেই মৃ’ত্যু নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। একের পর এক মানুষিক যন্ত্রনায় আঃ মালেকের স্ত্রী রীনা আক্তার মানুষিক বিকারগ্রস্থ্য হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আঃ মালেক স্ত্রী’কে বিদায় করে আবার বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৮ সালের আঠার অক্টোবর আঃ মালেক মৃ’ত্যুবরণ করেন। এক সময় ২য় স্ত্রীও স্বা’মীর সংসার চেড়ে ছলে যায়। চাচা-চাচীরাই তাদের একমাত্র আশ্রয় দাতা।

কিন্তু চাচা-চাচীদের অ’ত্যাচারে একে একে স্কুল থেকে পা’লিয়ে যেতে বা’ধ্য হয় তারা। উপায় না দেখে তারা উভ’য়ই খালার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এক সময় খালা সামাজিক ভাবে প্রীতির বিয়ে দেয়। চাচাদেরকে অবহিত করলেও তারা তাদের কোন সহযোগীতা করতে আসেনি। এমনকি কখনো খোঁজও রাখেনি। ভাগ্যের নি’র্মম পরিহাসে স্বা’মীর বাড়ীতে প্রীতির র’হস্যজনক মৃ’ত্যু হয়।

স্মৃ’তির বাবা আঃ মালেকের ঢাকায় ২টি প্লাট, ৫ কাঠা জায়গা, বাড়ীর বিশাল সম্পদ সব কিছুই চাচাদের দ’খলে। তারাই ভোগ দ’খল করে আসছে। এই এতিম মে’য়েদের কিছুই দেয়নি।

স্মৃ’তির চাচা আবুল কাশের পাটওয়ারী জানান, তাদের বাবার মৃ’ত্যুর পর আমাদের কাছেই থাকতো। প্রীতি ও স্মৃ’তি আমাদের না জানিয়ে স্কুল থেকে তার খালার বাড়ীতে চলে যায়, আমরা আনতে গেলেও তারা না আসায় আমরা আর খোঁজ খবর নেই নি।

স্মৃ’তি আক্তার আরো জানান, চাচা-চাচীরা আমাকে কাজের জন্য মা’রধর করতো, ঠিক মতো খেতে দিতো না, পড়ালেখা করতে দিতো না, শুধু কাজ করাতো। তাই আমি স্কুল থেকে পা’লিয়ে খালার বাড়ীতে চলে আসি। আমার একমাত্র বোন ছিল, সেও চলে গেল, আমি এখন বড়ই একা, খালাই আমার সব, আমি কখনো চাচা-চাচীদের কাছে যাবো না। আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। আমার বাবার অনেক সম্পদ আছে কিন্তু বর্তমানে তা চাচাদের দ’খলে। আমাকে কিছু দিচ্ছে না । আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য ও বাবার সম্পদ ফিরে পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করি।

আজ সব হা’রিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী স্মৃ’তি আক্তার। উপজে’লার ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বাগপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ীর মৃ’ত আঃ মালেকের কন্যা স্মৃ’তি আক্তার। গল্লাক নোয়ব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী স্মৃ’তি।

এক ভাই দুই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। ভাই প্রতিব’ন্ধী থাকায় পানিতে পড়ে মা’রা যায়, বড় বোন গত কিছুদিন পূর্বে স্বা’মীর বাড়ীতে র’হস্যজনক মৃ’ত্যু হয়। এখন স্মৃ’তির চোখের সামনে শুধুই অতীত স্মৃ’তি ছাড়া আর কিছুই নেই। আপন বলতে খালাই আছে। তবুও বুকে সাহস নিয়ে লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় সে। তার নিজের কথা বলতে গিয়েই কা’ন্নায় ভেঙ্গে পড়েন সে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here