প’রকীয়ার বানে ভেসে গেল সংসার, স’ন্তান হলো খু’নি

0
65

স্বা’মী ও তিন স’ন্তান নিয়ে পারভীন আক্তারের সংসার। প্রায় ১০ বছর আগে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ফজলুল হক রিপন নামে ১৬ বছর ব’য়সী এক কিশোরের স’ঙ্গে প’রকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন পারভীন।

পরিবারের সদস্যরা টের পেতে থাকেন যে, পারভীনের স’ঙ্গে রিপনের অ’নৈতিক সম্প’র্ক রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পারভীনকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এদিকে ১০ বছরের ব্যবধানে কিশোর রিপন হয়ে যান যুবক। এরই মধ্যে পারভীনের দুই মে’য়ের বিয়েও হয়েছে। কিন্তু রিপনের স’ঙ্গে পারভীনের অ’নৈতিক সম্প’র্ক বন্ধ হয়নি।

ছেলে মো. নয়নের (২২) সামনেই প্রে’মিক রিপনের স’ঙ্গে অ’নৈতিক সম্প’র্কে লি’প্ত হন পারভীন। এ নিয়ে রিপন ও নয়নের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জেরে রিপনকে ছু’রিকাঘাত করেন নয়ন। গু’রুতর আ’হত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃ’ত্যু হয় রিপনের। গত শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের কনসালক্যাম্পে নয়নের ছু’রিকাঘাতে খু’ন হন রিপন।

এ ঘ’টনায় গত মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ থেকে নয়নকে গ্রে’প্তার করে ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা পু’লিশের (ডি’বি) মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিম। পরে তাকে এক দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করে ডি’বি। জি’জ্ঞাসাবাদে নয়ন জানায়, তার মায়ের প’রকীয়ায় তাদের পুরো পরিবারটি ত’ছনছ হয়ে গেছে। স’ন্তানদের ভবি’ষ্যৎ ও মান-সম্মানের কথা ভেবে তার বাবা সব মেনে নিয়েছিলেন।

ডি’বির মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের এডিসি আহসান খান গণমাধ্যমকে বলেন, পল্লবীতে রিপন খু’নের ঘ’টনায় মূ’ল অ’ভিযুক্ত নয়নকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তাকে রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি হ’ত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

ডি’বি কর্মকর্তাদের নয়ন জানিয়েছেন, তার বাবা একজন রিকশাচালক। তারা মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের কনসালক্যাম্পে একটি ছোট্ট কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। ওই একটি কক্ষেই নয়ন ও তার দুই বোন ছোট থেকে বড় হয়েছেন। পরিবারের হাল ধরতে কিশোর ব’য়স থেকেই বিভিন্ন কাপড়ের দোকানের কর্মচারীর কাজ করছিলেন নয়ন।

বেতনের পুরো টাকা তিনি মায়ের হাতেই তুলে দিতেন। এর পরও তার মা পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা করতেন। সেই দেনাও শোধ করতে হতো নয়নের বাবাকে। শৈশব থেকেই নয়ন ও তার দুই বোন তাদের মায়ের প’রকীয়ার বি’ষয়টি জানতেন। বাবার কথা ভেবে তাদের অনেক ক’ষ্ট হতো। বাবার মতো তিনিও পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে এত দিন চুপ ছিলেন।

রিপনকে ছু’রিকাঘাত করার ঘ’টনা প্রস’ঙ্গে ডি’বিকে নয়ন জানান, সেদিন দুপুরে তার মায়ের স’ঙ্গে দেখা করতে বাসায় আসেন রিপন। নয়ন তখন ঘরেই ঘুমে ছিলেন। তার বাবা পানি আনতে বাইরে গিয়েছিলেন। এ সময় অ’নৈতিক সম্প’র্কে জড়িয়ে পড়েন পারভীন ও রিপন। নয়নের ঘুম ভে’ঙে যায়। তিনি এর প্র’তিবাদ করেন। এ কারণে নয়নকে মা’রধর করেন রিপন। পারভীন তখন রিপনের পক্ষ নেন। পরে নয়নের বাবা বাসায় এসে পুরো ঘ’টনা জানতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে আসেন এবং নয়ন ও রিপনের মধ্যে মিটমাট করে দেন। তবে নয়ন তা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। এর পর সন্ধ্যায় নয়নের বাবা তার রিকশায় করে রিপনকে এগিয়ে দিতে যান। এ সময় চলন্ত রিকশার আরোহী রিপনের বুকে ছু’রিকাঘাত করে পা’লিয়ে যান নয়ন।

ডি’বি সূত্র জানায়, নয়ন জি’জ্ঞাসাবাদে বলেছেন, রিপনকে ভ’য় দেখাতে ছু’রিকাঘাত করেছিলেন তিনি। খু’ন করার কোনো ইচ্ছে তার ছিল না। এ কারণেই ছু’রিকাঘাত করে পা’লিয়ে যান। তবে রিপনের বুকের স্পর্শকাতর স্থানে আ’ঘাতটি লাগায় তার মৃ’ত্যু হয়। এ ঘ’টনায় রিপনের ভাই নাজমুল হক পল্লবী থানায় হ’ত্যা মা’মলা করেছেন। রিপন কারওয়ানবাজারের একটি বেস’রকারি প্রতিষ্ঠানে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here