কিশোরের স’ঙ্গে নিয়মিত শা’রীরিক সম্প’র্কে বা’ধা হওয়ায় স্বা’মীকে মে’রে ফেলল স্ত্রী

0
45

ভৈরবে রেলওয়ে কর্মচারী মাহবুবুর রহমান (৩৮) খু’নের ঘ’টনার র’হস্য উম্মোচন হয়েছে। নি’হতের স্ত্রী রোকসানা আক্তার (২৮) এবং তার প্রে’মিক হাসিব মিয়া (১৯) কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জু’ডিশিয়াল ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতের বিচারক শহীদুল আলম চৌধুরীর খাস কামরায় জবানব’ন্দিতে খু’নের ঘ’টনার বিস্তারিত কাহিনী জানায়।

জবানব’ন্দিতে তারা স্বীকার করে প’রকীয়ার কারণেই পরিকল্পনা করে গভীর রাতে ঘুমের ও’ষুধ খাইয়ে অ’চেতন অবস্থায় তাকে একাধিক ছু’রিকাঘাতে হ’ত্যা করে। হ’ত্যার পর নাটক সাজাতে প্রে’মিক হাসিব তার স্ত্রী’কে হালকা ছু’রিকাঘাত করে আ’হত করে এবং স্ত্রী রোকসানা ঘ’টনাটি ডাকাতি বলে প্রচার করে।

প্রে’মিক হাসিব নি’হত মাহাবুবুরের প্রতিবেশী। তার বাবার নাম বাবুল মিয়া এবং সে উপজে’লার শিমুলকান্দি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। এলাকাবাসীর মতে হাসিব ল’ম্পট ছেলে। তার ই’ভটিজিং ও অ’ত্যাচারে আরেক প্রতিবেশী সেলিম মিয়া নিজের মে’য়ে রুমাকে নিয়ে বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে এমন অভিযোগ প্রতিবেশীদের।

হ’ত্যার ঘ’টনার একদিন পর গত শুক্রবার দুপুরে ভৈরব থানা পু’লিশ তাকে তার পাসপোর্টসহ স’ন্দে’হমূ’লকভাবে আ’টক করে। আ’টকের কথা প্রথমে মিডিয়াকে জানায়নি পু’লিশ। এরপর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আ’টকের ঘ’টনা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়।

হ’ত্যার কথা পু’লিশের কাছে সে স্বীকার করার পর পু’লিশ গতকাল রাতেই হাসিবের স্বী’কারোক্তি অনুযায়ী তার র’ক্তমাখা প্যান্ট ও শার্ট তাদের বাড়ির কাছে একটি জমি থেকে উ’দ্ধার করে।

এদিকে বাজিতপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আ’হত রোকসানা আক্তারকে শনিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে আ’টক করে থানায় নিয়ে আসে পু’লিশ।
এরপর রাতে পু’লিশ দুজনকে মুখোমুখি করে জি’জ্ঞাসাবাদ করলে তারা অকপটে হ’ত্যার কথা স্বীকার করে পু’লিশের কাছে।

কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জু’ডিশিয়াল ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতের বিচারক শহীদুল আলম চৌধুরীর কাছে জবানব’ন্দিতে হাসিব বলেন, রোকসানার স’ঙ্গে ছয়মাস যাবৎ আমার প্রেমের সম্প’র্ক। তার স’ঙ্গে প্রায় সময় শা’রীরিক মেলামেশা হতো।

তার স্বা’মী প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে ভৈরবের বাসায় এলে আমাদের শা’রীরিক মেলামেশার ডিস্টার্ব হতো। রোকসানা আমাকে খুব ভালবাসতো। এ কারণে দুজনে মিলে পরিকল্পনা করি একদিন রাতে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেব।

পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার রাতে আমি বাজারের ইসা ফার্মেসি থেকে কয়েকটি ঘুমের ট্যাবলেট কিনে তার স্ত্রী’কে দেয়। রাতে তার স্ত্রী ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়াইয়া তাকে অ’চেতন করে।

গভীর রাতে খবর দিয়ে বাসার গেট ও রুমের দরজা খুলে দিলে আমি রুমে প্রবেশ করে তাকে একাধিকবার ছু’রিকাঘাত করে হ’ত্যা করি। এসময় ঘরে রাখা ছু’রি রোকসানা আমার হাতে তুলে দেয়। হ’ত্যার পর পর আমার র’ক্তমাখা প্যান্ট ও শার্ট জমিতে ফে’লে দেই। তারপর আমি আমার ঘরে চলে আসি।

রোকসানা জবানব’ন্দিতে বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি হাসিবকে দিয়ে মাহাবুবুরকে হ’ত্যার পর ডাকাতরা রুমে ঢুকে তাকে হ’ত্যা করেছে একথা প্রচার করি। প্রথমে আমার বড় ছেলে আজিজুলকে (১০) ঘুম থেকে ডেকে তুলে ঘ’টনাটি জানাই।

এসময় হাসিবের ঘরে খবর দিতে বলি ছেলেকে। এটা ছিল আমার মিথ্যা সাজানো ঘ’টনা। তারপর দু’তলায় থাকা আমার জা কা’ন্নার আওয়াজ শুনে আমার রুমে এলে তাকে বলি রুমে ডাকাত ঢুকে তাকে হ’ত্যা করে এবং আমাকে আ’হত করে ডাকাতরা পা’লিয়ে যায়।

মাহবুবুরকে রাতে কয়েকটি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ানোর পর সে অ’চেতন হয়ে পড়েছিল বলে তিনি জানান। ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হাসিব খু’ন করে। এভাবেই তারা দুজন আ’দালতে জবানব’ন্দি দিয়ে খু’নের অ’পরাধের কথা স্বীকার করে।

বুধবার গভীর রাতে রেলওয়ের কর্মচারী মাহবুবুর রহমান নিজ বাসায় খু’ন হন। তিনি ঢাকায় কর্মরত থাকলেও প্রতি সপ্তাহে ভৈরবে নিজ বাসায় আসতেন। তার পরিবার স’ন্তানসহ ভৈরবের বাসায় থাকতেন।

তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী রোকসানা আক্তার প্রতিবেশী হাসিবের স’ঙ্গে প্রেমের সম্প’র্ক গড়ে তুলে। ঘ’টনার রাত সাড়ে তিনটায় তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় খু’ন করে। এরপর বড় ভাই সাংবাদিক এ ঘ’টনায় থানায় ৩/৪ জনকে অ’জ্ঞাত আ’সামি করে বুধবার রাতেই মা’মলা করেন।

ভৈরব থানা পু’লিশের অফিসার ই’নচার্জ (ওসি) মো. শাহীন জানান, তার স্ত্রী রোকসানা ও প্রে’মিক হাসিব হ’ত্যার কথা পু’লিশের কাছে স্বীকার করার পর তারা দুজন রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জ আ’দালতে ১৬৪ ধারায় জবানব’ন্দি দিয়ে হ’ত্যার পরিকল্পনাসহ সব ঘ’টনা স্বীকার করে।

আ’দালতে খু’নের অ’পরাধের কথা তারা স্বীকার করেছে। ক্লুবিহীন একটি হ’ত্যা ছিল এটি। মাত্র দুদিনের মধ্যই পু’লিশের প্রচেষ্টায় হ’ত্যার অ’পরাধীদের গ্রে’ফতারসহ খু’নের ঘ’টনাটি উম্মোচন হলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here