না’রীকে বি’ব’স্ত্রের ঘ’ট’নায় নতুন মোড়, চাঞ্চল্যকর ত’থ্য ফাঁ’স

0
153

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে না’রীকে বি’বস্ত্র করে নি’র্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘ’টনার পর একে একে বেরিয়ে আসে বিভিন্ন ধরনের চাঞ্চল্যকর ত’থ্য। তবে এবার নতুন ত’থ্য জানালেন নি’র্যাতনের শি’কার না’রীর বোন।

তিনি অ’ভিযোগ করে বলেন, এ ব’র্বরতার পেছনে আমার বোনের সাবেক স্বা’মী সুমন মিয়ারও হাত আছে বলে আমি ধারণা করছি৷ কারণ, ১২ বছর আগে আমার বোনের স’ঙ্গে তার সম্প’র্ক ভে’ঙে গেছে৷ আর ওই দিন রাতে সে আমার বোনের স’ঙ্গে দেখা করতে আসার কয়েক মিনিট পরই স’ন্ত্রাসীরা ঘরে ঢোকে৷

তিনি আরো অ’ভিযোগ করেন, নি’র্যাতনের পর আশপাশের কয়েকজন ব’য়স্ক লোকও এসেছিলেন৷ তারাও কোনো কথা বলেননি৷

নি’র্যাতিতার বোন জানান, ২ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে নি’র্যাতনের শি’কার হয়ে পা’লিয়ে তার বোন নোয়াখালীর মাইজদীতে তার বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন ৷ ৪ অক্টোবর ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এর আগে তারা দুই নি’র্যাতনকারীর মা-বাবা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে ঘ’টনাটি জানান। ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ ৩২ দিনে নি’র্যাতনের শি’কার না’রী ও তার পরিবারকে হু’মকি-ভ’য়ভীতি দেখানো হয়।

নি’র্যাতনের শি’কার না’রীর জানান, মাইজদীতে তার বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার পর তাকে সেই রাতের নি’র্যাতনের বিস্তারিত জানিয়েছিলেন ওই না’রী৷ এছাড়া বছরখানেক আগে তাকে ধ’র্ষণ করা হয় বলেও বোনকে জানান তিনি৷ এরপর তার ছোট বোন একলা’শপুরে তার বোনকে নিয়ে ফেরেন৷

ওই না’রীর বোন জানান, প্রথমে দেলোয়ার বাহিনীর দেলোয়ার এবং আরো এক সদস্য বাদলের পরিবারের কাছে তারা নালিশ দেন৷ কিন্তু তাদের বাবা-মা বি’ষয়টি আমলে না নিয়ে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়৷ তারা দাবি করেন, তাদের ছেলেরা ‘ভালো’৷ ওই না’রীই ‘মি’থ্যা’ অ’ভিযোগ করছে৷ এরপর তিনি তার বোনকে নিয়ে সোহাগ মেম্বারের কাছে যান। সোহাগ মেম্বার প্রথমে বি’ষয়টি দেখার আশ্বাস দেন তবে সময়ক্ষেপণ করছিল৷ প্রথমে অনেক সহানুভূতি দেখালেও পরে চোখ উলটায়৷ একপর্যায়ে দুই বোন থানায় অ’ভিযোগ করার কথা বললে মেম্বার তাদের ভ’য় দেখায়৷ বলে, ‘থানায় গিয়ে কাজ হবে নেই। উল্টো তোমরাই বি’পদে পড়বে৷’

নি’র্যাতিতার বোন বলেন, এরপর তো ভিডিও প্রকাশ পেলো৷ পু’লিশ তৎপর হলো৷ পু’লিশ এসে মাইজদীতে আমার বাসা থেকে বোনকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে যায়৷ এখন তিনি পু’লিশের নিরাপত্তার মধ্যেই থানায় আছেন৷

মাইজদীতে পা’লিয়ে যাওয়ার পরও দেলোয়ার বাহিনী ওই না’রীর পিছু ছাড়েনি বলে জানান তার বোন৷ তারা তাকে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য নানাভাবে চা’প দিতো৷ ফোন করতো৷ ফিরে না এলে ভিডিও ছেড়ে দেয়ার হু’মকি দেয়৷ এরপর ফোনে আবার ওই না’রী সোহাগ মেম্বারকে অনুরোধ করেন তারা যেন এখন তাকে মুক্তি দেয়৷ যেন আর ঝামেলা না করে৷ এতেও কোনো কাজ হয়নি৷ সোহাগ মেম্বার শুধু বলেছেন ওদের অনেক ক্ষ’মতা, ওরা যা বলে তা করাই ভালো৷

তারা ১০ হাজার টাকা চাঁ’দাও দাবি করে, নয়তো ওই ব’র্বর নি’র্যাতনের ভিডিও ফাঁ’স করে দেয়ার হু’মকি দেয়৷ কিন্তু নি’র্যাতিত না’রীর কাছে টাকা না থাকায় দিতে পারেননি৷ তখন তিনি বোনের বাড়িতে থাকেন, টাকা দেবেন কোথা থেকে৷ এমন পরিস্থিতিতেই ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে৷

পু’লিশকে জানাননি কেন- জবাবে তিনি বলেন, মেম্বার জানাতে দেয়নি৷ আর পু’লিশকে জানালে আরো ভ’য়ংকর পরিণতি হবে বলে তারা হু’মকি দেয়৷ তারা বলে পু’লিশ কিছুই করবে না৷

তিনি বলেন, এখন যা হয়েছে ভালো হয়েছে৷ এই ভিডিও প্রকাশ না পেলে আমার বোন আরো নি’র্যাতনের শি’কার হতো৷ বিচার তো দূরের কথা৷ এখন আশা করছি আমরা বিচার পাবো৷ স’ন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শা’স্তি চাই৷

এ ঘ’টনায় এ পর্যন্ত দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার এবং ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগসহ ১১ জনকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে৷ এরমধ্যে নয়জন বিভিন্ন মেয়াদে রি’মান্ডে রয়েছে। এরইমধ্যে পাঁচজন স্বী’কারোক্তিমূ’লক জবানব’ন্দি দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here