এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না

0
206

ক’রোনাভা’ইরাসেের বিস্তার রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। তবে আসন্ন শীতে করোনার প্র’কোপ ফের বৃ’দ্ধির আ’শঙ্কা করেছেন স্বা’স্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে ক’রোনা সং’ক্র’মণ পুরোপুরি নি’য়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা উচিৎ হবে না। শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরাও ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত বিদ্যালয় না খোলার পরামর্শ দিয়েছেন। এমন অবস্থায় এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোলা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তারা। ত’থ্যমতে, আগামী ৩১ অক্টোবর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি শেষ হবে। তবে নভেম্বর থেকে শীত শুরু হওয়ায় এই ছুটি আরও বাড়তে পারে।

শীতে দেশে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রো’গের লক্ষণ বেশি দেখা যায়। ফলে সবার মধ্যেই ক’রোনার লক্ষণ দেখা যেতে পারে। জানুয়ারিতেও শীত শেষ হবে না কিনা সেটিও বলতে পারছেন না স্বা’স্থ্য সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন স’ঙ্কটে ফেলতে চায় না স’রকার। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি নি’য়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার পক্ষেই অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

তাদের মতে, শীত শুরু হলে ক’রোনা সং’ক্র’মণ আরও বাড়তে পারে। এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সি’দ্ধান্ত হবে আত্মঘা’তী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ক’রোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সং’ক্র’মণ বৃ’দ্ধির আ’শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিপক্ষেই মত তাদের। দেশের মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেখভাল করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

তারাও বলছেন, সং’ক্র’মণ না কমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেখভাল করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁ’কির মধ্যে পড়ে এমন কোনো পদক্ষেপ তারা নেবেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বি’ষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ক’রোনা সং’ক্র’মণ পুরোপুরি কমে না আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ নেই।

শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিরাপদ মনে না হলে স্কুল-কলেজ খোলার খোলার সুযোগ নেই। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে পাঠদান অব্যাহত থাকবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ের সিনিয়র স’চিব মো. আকরাম-আল হোসেন বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীতে ক’রোনার প্র’কোপ বাড়বে। ক’রোনার প্র’কোপ বাড়লে তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সুযোগ থাকবে না।

ক’রোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেও যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না যায় তবে তো অটো প্রমোশন ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। এদিকে ক’রোনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেম্বরে ক’রোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হবে, তখন সংক্রম আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন দ্বিতীয় ঢেউ এলে, সং’ক্র’মণ বাড়লে তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সে হিসেবে এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা অনিশ্চিত। তাছাড়া শীতকালে ক’রোনার প্র’কোপ থাকলে সে হিসেবে নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ক’রোনাভা’ইরাসেের সং’ক্র’মণ না কমায় ইতোমধ্যেই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। ফলে সং’ক্র’মণ পুরোপুরি নি’য়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে খুলছে না সেটি বলার অপেক্ষাই রাখে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা হচ্ছে আমাদের ভবি’ষ্যৎ। আর আমাদের দেশ পরবর্তীতে যারা এগিয়ে নিয়ে যাবেন তাদের জীবন কোনও ভাবেই ঝুঁ’কির মধ্যে ফেলা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here