‘ওসি প্রদীপ পা দিয়ে চে’পে ধ’রে সিনহার মৃ’ত্যু নিশ্চিত করেন’

0
50

গু’লি করার পরও তিনি বেঁচে ছিলেন মেজর (অব:) সিনহা মো. রাশেদ খান। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘ’টনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত নি’র্মম ও অ’মানবিকভাবে পা দিয়ে চে’পে ধরে মাটিতে লু’টিয়ে পড়া মেজর (অব.) সিনহার মৃ’ত্যু নিশ্চিত করেন। বুধবার জাতীয় সং’সদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা ম’ন্ত্রণালয় সম্প’র্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিনহা মো. রাশেদ খানের হ’ত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

এতে সিনহাকে বহনকারী পিকআপ হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছানোর পেছনেও দায়ী ব্যক্তিদের দুরভিসন্ধিমূ’লক অ’পচেষ্টা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্ম’দ সুবিদ আলী ভূঁইয়া এ ত’থ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সে’নাবা’হিনী মেজর (অব.) সিনহার হ’ত্যাকাণ্ডের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটি এই হ’ত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রু’ত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে।’

কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসপি মাসুদ সিনহা হ’ত্যার স’ঙ্গে জ’ড়িত। তিনি ঘ’টনার শুরু থেকে ত’দন্তের কাজে অসহযোগিতা ও বা’ধা দিয়ে আসছেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘ’টনার পরপরই সিনহার পরিবার এসপি মাসুদকে বদলির দাবি জানায়। সে’নাসদরও সুষ্ঠু ত’দন্তের এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে বদলি করা দরকার বলে মত পোষণ করে।

ম’ন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে সেদিনকার ঘ’টনার বিবরণও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ‘গত ৩১ জুলাই ২০২০ তারিখ আনুমানিক ৯ টা ২৫ মিনিটের সময় টেকনাফ থানার আওতাধীন মেরিন ড্রাইভ এলাকায় শামলাপুর পু’লিশ চেকপোস্টে ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী কর্তৃক গু’লিবর্ষণে বিএ-৬৯৩১ মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নি’হত হন।’

প্রাথমিক ত’থ্য বিবরণীতে জানা যায়, ‘মেজর (অব.) সিনহা গত ৩ জুলাই ২০২০ তারিখে ঢাকা থেকে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিনজন ছাত্রছাত্রীসহ ‘জাস্ট গো’ নামে ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি ট্রাভেল ভিডিও তৈরির নিমিত্তে কক্সবাজার আগমন করেন এবং নীলিমা কটেজ নামক একটি রিসোর্টে অবস্থান করে একমাস যাবত কক্সবাজারস্থ বিভিন্ন স্থানে শুটিং করেন।’

এতে বলাহয়, ‘৩১ জুলাই ২০২০ তারিখে রাত্রিকালীন শুটিং শেষে মেজরসহ (অব.) স’ঙ্গীয় সাহেজুল ইসলাম সিফাতকে নিয়ে মারিশবুনিয়া পাহাড় থেকে নেমে নিজস্ব প্রাইভেটকার করে মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা করেন।’ পথিমধ্যে শামলাপুরের পূর্বে বিজিবি চেকপোস্টে তাদেরকে তল্লা’শি করার জন্য থামানো হয় এবং পরিচয় প্রা’প্তির পর ছেড়ে দেয়া হয়। আনুমানিক ৯ টা ২৫ মিনিটের সময় শামলাপুর পু’লিশ চেকপোস্ট অতিক্রমের সময় ইন্সপেক্টর লিয়াকত এপিবিএনের ফোর্সসহ মেজর (অব.) সিনহার গাড়ি থামায়। মেজর (অব.) সিনহা গাড়ি থামিয়ে তাদেরকে পরিচয় দিলে এপিবিএন সদস্যরা প্রথমে তাদেরকে যাওয়ার জন্য সংকেত দিলেও ইন্সপেক্টর লিয়াকত তাদের পুনরায় থামায় এবং তাদের দিকে পি’স্তল লক্ষ্য করে গাড়ি থেকে নামতে বলে। সিফাত হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নেমে পেছনের দিকে গমন করে।

মেজর (অব.) সিনহা গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পরপরই ইন্সপেক্টর লিয়াকত খুব কাছ থেকে মেজর (অব.) সিনহাকে লক্ষ্য করে গু’লি করে। ঘ’টনার আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট পর টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘ’টনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত নি’র্মম ও অ’মানবিকভাবে পা দিয়ে চে’পে ধরে মাটিতে লু’টিয়ে পড়া মেজর (অব.) সিনহার মৃ’ত্যু নিশ্চিত করে বলে জানা যায়।’

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘ’টনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় ২০-২৫ মিনিট মেজর (অব.) সিনহার আ’হত দে’হ ঘ’টনাস্থলে পড়ে ছিল এবং তিনি তখনও জীবিত ছিলেন। এখানে উল্লেখ্য, উক্ত পু’লিশ চেকপোস্টটি এপিবিএন কর্তৃক পরিচালিত এবং ঘ’টনার সময় বাহারছড়া ত’দন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের ঘ’টনাস্থলে উপস্থিতি ঘ’টনার স’ঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে বলে প্রতীয়মান।

পরবর্তী সময়ে রাত ১০ টার সময় একটি পিকআপ সহকারে মেজর (অব.) সিনহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আনুমানিক এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরে পিকআপটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে উক্ত দূরত্ব অতিক্রমে ১ ঘণ্টা সময় লাগলেও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করে মেজর (অব.) সিনহাকে বহনকারী পিকআপ হাসপাতালে পৌঁছানোর পেছনেও দায়ী ব্যক্তিদের দুরভিসন্ধিমূ’লক অ’পচেষ্টা ছিল বলে প্রতীয়মান।’

এতে বলা হয়, ‘উক্ত ঘ’টনার অব্যাবহিত পরবর্তী সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সে’নাসদস্যদের পক্ষ হতে স’শস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে একটি যৌথ ত’দন্ত আ’দালত গঠনের নিমিত্তে পত্রালাপ করা হয়। ফলশ্রুতিতে মেজর (অব.) সিনহা হ’ত্যার সঠিক কারণ নিরূপণে স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয় কর্তৃক চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোহাম্ম’দ মিজানুর রহমানকে (যুগ্ম স’চিব)’ আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি যৌথ ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে যৌথ ত’দন্ত কমিটি মেজর (অব.) সিনহা হ’ত্যা-সংক্রান্ত ত’দন্ত প্রতিবেদন স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। একই স’ঙ্গে মেজর (অব.) সিনহা হ’ত্যার কারণ উদ্ঘাটনের নিমিত্তে সে’নাবা’হিনীর পক্ষ থেকেও একটি ত’দন্ত আ’দালত গঠিত হয়। যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এখানে উল্লেখ্য যে, স্থানীয় সূত্র এবং বিভিন্ন মাধ্যম হতে মেজর (অব.) সিনহার হ’ত্যাকাণ্ডের স’ঙ্গে কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের সম্পৃক্ততার বি’ষয়ে উল্লেখযোগ্য ত’থ্য পাওয়া যায়। তিনি ঘ’টনার ত’দন্তের শুরু থেকেই অসহযোগিতা ও বা’ধা প্রদান করে আসছেন বলে জানা যায়।’

এছাড়াও ‘উপরোল্লিখিত ঘ’টনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট ২০২০ তারিখে নি’হত মেজর (অব.) সিনহার বোন কর্তৃক টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছড়া ত’দন্ত কেন্দ্রের ই’নচার্জ লিয়াকতসহ মোট ৯ জনকে আ’সামি করে একটি হ’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করা হয়। যার ত’দন্তভার র‌্যা’বের উপর ন্যস্ত করা হয়। র‌্যা’ব কর্তৃক উক্ত মা’মলার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জন আ’সামিকে (৩ জন বেসা’মরিক ও ৬ জন পু’লিশ সদস্য) পর্যায়ক্রমে রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়। রি’মান্ড শেষে এপিবিএনের তিনজন সদস্য এবং ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত ১৬৪ ধারায় স্বী’কারোক্তিমূ’লক জ’বানব’ন্দি প্রদান করেন। একই স’ঙ্গে তিন বেসা’মরিক ব্যক্তিও ১৬৪ ধারায় জ’বানব’ন্দি প্রদান করেছে বলে জানা যায়।

এখানে উল্লেখ্য, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস কোনো প্রকার জ’বানব’ন্দি প্রদান করেনি। সব আ’সামিরা বর্তমানে কক্সবাজার জে’লা কা’রাগারে রয়েছে। বর্তমানে মা’মলাটি র‌্যা’বের অধীনে ত’দন্তাধীন আছে। পু’লিশ কর্তৃক আ’টককৃত মেজর (অব.) সিনহার স’ঙ্গী শিপ্রা দেবনাথ এবং সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বি’রুদ্ধে ৩টি মা’মলা দা’য়ের করা হয়। উক্ত মা’মলাগুলোতে সিফাত এবং শিপ্রা বর্তমানে জা’মিনে আছেন।’

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পু’লিশের গু’লিতে নি’হত হন মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান। এ ঘ’টনায় গত ৫ জুলাই তার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বা’দী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আ’সামি করে হ’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেন। মা’মলায় বাহারছড়া পু’লিশ ত’দন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আ’সামি করা হয়।

সিনহার মৃ’ত্যুর পর ঘ’টনাটিকে ব’ন্দুকযু’দ্ধের ঘ’টনা বলে চা’লিয়ে দিতে চেয়েছিল পু’লিশ। পু’লিশের পক্ষে নন্দলাল রক্ষিতের মা’মলাও হয়েছিল তার ভিত্তিতে।

অন্যদিকে সিনহার বোন শারমিন সরাসরি হ’ত্যার অ’ভিযোগ এনে পু’লিশ কর্মকর্তাদের বি’রুদ্ধে মা’মলা করেন। কক্সবাজারের পু’লিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে সিনহা হ’ত্যা মা’মলায় আ’সামি করতে আ’দালতে আবেদনও করেছিলেন নি’হত সিনহার বোন। তবে বিচারক তা খারিজ করে দেন। ওই ঘ’টনার জেরে গত সেপ্টেম্বর মাসে কক্সবাজার থেকে রাজশাহী বদলি করা এসপি মাসুদ হোসেনকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here