এক শর্তে বেফাকের মহাস’চিব মামুনুল হকের ভাই মাহফুজুল হক !

0
69

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান। এছাড়া, ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা মাহফুজুল হক। তবে সংস্থাটির সভাপতি ও মহাসচিব পদে কোনও রাজনৈতিক দলের পদধারী থাকতে পারবেন না।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব পদ ছাড়তে হচ্ছে নবনির্বাচিত মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হককে।শনিবার (৩ অক্টোবর) যাত্রাবাড়ীতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন মিলনায়তনে মজলিসে আমেলার এক জরুরি বৈঠকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হয়।

অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদের স্বীকৃতির জন্য সরকার অনুমোদিত সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেফাকের সভাপতিই হবেন আল-হাইয়াতুল উলইয়ার সভাপতি এবং বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি হবেন হাইয়াতুল উলইয়ার সিনিয়র সহসভাপতি। ফলে মাহমুদুল হাসান আল-হাইয়াতুল উলইয়ার সভাপতি ও মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী হাইয়াতুল উলইয়ার সিনিয়র সহসভাপতির পদে আসবেন।

মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আগামী কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত নির্বাচিত তিনজন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বেফাকের ১০ম কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে সময় পাঁচ বছর মেয়াদি মজলিসে আমেলায় শাহ আহমদ শফী সভাপতির পদে দায়িত্ব পান। বিগত ১০ বছর ধরে তিনি বেফাকের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সেই কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হন জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আশরাফ আলী। মহাসচিবের দায়িত্ব পান জামিয়া ইমদাদিয়া ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। মাওলানা আশরাফ আলীর মৃত্যুতে মহাসচিবের দায়িত্বের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সভাপতি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।

জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর আহমদ শফীর মৃত্যুতে বেফাকের সভাপতি পদটিও খালি হয়। অন্যদিকে বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবি তোলেন কওমি শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে মজলিসে আমেলার সভায় শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহসভাপতি ও মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস। প্রথম অধিবেশনে বেফাকের সাবেক সভাপতি শায়খুল ইসলাম শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে পদটি শূন্য হওয়ায় মাওলানা মাহমুদুল হাসান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। পরে তার সভাপতিত্বে দ্বিতীয় অধিবেশনে সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও মহাসচিব পদ থেকে মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস পদত্যাগ করায় মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এবং মাওলানা মাহফুজুল হক মহাসচিব পদে মনোনীত হন।

নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে সুশৃঙ্খলভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে।গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান ‘মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসারা মুহতামিম। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ১০ম কাউন্সিল সভায় বেফাকের সহকারী মহাসচিবের দায়িত্ব পান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক। এবার তিনি মহাসচিবের দায়িত্বে এসেছেন। বেফাকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিব পদে দলীয় পদধারী থাকতে পারবেন না, তাই পদ ছাড়ার শর্তে মহাসচিব পদে এসেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, এখানে কেউ প্রার্থী ছিলেন না। যেহেতু মুরুব্বিরা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো। এ কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে পদত্যাগ করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here