খেজুর খেলে যেসব রো’গ দূরে থাকে

0
65

অতি প্রাচীনকাল থেকেই খেজুর অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। প্রায় সবাই এটি খেতে অনেক পছন্দ করে। কারণ খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু ও রুচিশীল একটি ফল যা ফ্রুকটোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ।

খেজুরে রয়েছে শ’রীরের রো’গ প্রতিরোধ ক্ষ’মতা। খেজুর র’ক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এতে রয়েছে উপকারী তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, কপার এবং আরও নানাবিধ খনিজ। রয়েছে উপকারী ভিটামিনও।

খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্প’র্কে বলা হয়- চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। খেজুর শ’ক্তির একটি ভালো উৎস।

তাই খেজুর খাওয়ার স’ঙ্গে স’ঙ্গেই শ’রীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। আছে প্রচুর ভিটামিন বি, যা ভিটামিন বিসিক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষ’মতা বৃ’দ্ধিতে সহায়ক। খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শ’রীরে রো’গ প্রতিরোধের ক্ষ’মতা বাড়ায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন খেজুর।

প্রতিটি খেজুরে রয়েছে ২০ থেকে ২৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, যা উচ্চ র’ক্তচা’প কমাতে সাহায্য করে। র’ক্তস্বল্পতায় ভোগা রো’গীরা প্রতিদিন খেজুর খেতে পারেন। একজন সুস্থ মানুষের শ’রীরে যতটুকু আয়রন প্রয়োজন, তার প্রায় ১১ ভাগ থাকে খেজুরে। যারা চিনি খান না তারা খেজুর খেতে পারেন।

চিনির বিকল্প খেজুরের রস ও গুড়। কোষ্ঠকাঠিন্যের স’মস্যায় রাতে জলে খেজুর ভিজিয়ে রাখু’ন। পর দিন সকালে খেজুর ভেজানো পানি খান। দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য। খেজুরে থাকা নানা খনিজ হৃদস্পন্দনের হার ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া খেজুর বিভিন্ন রো’গ প্রতিরোধের হাত থেকে রক্ষা করে:

এনার্জির ঘাটতি দূর করে
এই ফলটিতে থাকা প্রাকৃতিক সুগার র’ক্তে মেশার পর এমন মাত্রায় শ’ক্তি জোগায় যা শ’রীর একেবারে চনমনে হয়ে ওঠে। সেই স’ঙ্গে মা’নসিক ক্লান্তি দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দৃষ্টিশ’ক্তির উন্নতি ঘটায়

খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি যদি নিয়মিত এই ফলটির পাতা খাওয়া যায়, তাহলে শ’রীরের এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃ’দ্ধি পেতে শুরু করে যে দৃষ্টিশ’ক্তির উন্নতি ঘটে চোকে পরার মতো! সেই স’ঙ্গে নাইট ব্লাইন্ডনেসসহ অন্যান্য চোখের রোগের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

হা’র্টের ক্ষ’মতা বাড়ে
ডায়াটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত খেজুর খেলে শ’রীরে “এল ডি এল” বা খা’রাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হঠাৎ করে হা’র্ট অ্যা’টাক এবং স্ট্রোকের আ’শঙ্কা হ্রাস পায়। সেই স’ঙ্গে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম আরও সব হা’র্টের রোগে আ’ক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমায়।

পেটের রোগের প্রকোপ কমায়
প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এই ফলটি খেলে বাওয়েল মুভমেন্টে মা’রাত্মক উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের পেটের রোগই আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। প্রতিদিন ৩টি করে খেজুর খেলে শ’রীরে উপকারি ব্যাকটেরিয়ায় মাত্রা বৃ’দ্ধি পায়। ফলে বদ-হজম, কোলাইটিস এবং হেমোরয়েডের মতো রোগে আ’ক্রান্ত হওয়ার আ’শঙ্কা হ্রাস পায়।

হাড়ের স্বা’স্থ্যের উন্নতি ঘটে
খেজুরে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন হাড়কে এতটাই শ’ক্তপোক্ত করে দেয় যে ব’য়স্কালে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আ’ক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। এই ফলটিতে উপস্থিত সেলেনিয়াম, ম্য়াঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়
খেজুরে সালফার কম্পাউন্ড অ্যালার্জির মতো রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যারা সারা বছরই এই রোগে ভুগে থাকেন, তাদের রোজের ডায়েটে এই ফলটি অবশ্যই রাখবেন।

অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখে
শ’রীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলেই মূ’লত এই ধরনের রোগের প্রকোপ বৃ’দ্ধি পায়। শ’রীরে যাতে এই খনিজটির ঘাটতি কোনও সময় দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। এই ছোট্ট ফলটি আয়রণ সমৃদ্ধি। অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here