কাবা শরিফের আদলে নির্মাণ হতে পারে অযোধ্যার মসজিদ’

0
117

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভে’ঙে ফেলা মা’মলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় অনুযায়ী বাস্তবায়িত হতে যাওয়া মসজিদটি প্রচলিত আঙ্গিকে নয় বরং ভিন্ন আদলে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের (আইআইসিএফ) সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র আতহার হুসেইন।

আতহার হুসেইন জানান, মসজিদের প্রথাগত আদলের বাইরে গিয়ে নির্মাণ হবে এটি। সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফের আদলে এটি নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আতহার জানান, নতুন মসজিদটি কোনও সম্রাট বা বাদশাহের নামে নামকরণ করা হবে না।

রাম জ’ন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন বি’বাদের আইনি ইতি টেনে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর অযোধ্যা মা’মলার রায় ঘোষণা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সর্বোচ্চ আ’দালতের রায়ে বলা হয়, অযোধ্যার বি’তর্কি’ত ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। আর অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ৫ একর জমি। মন্দির ও মসজিদ নির্মাণে হিন্দু ও মু’সলমান ধর্মাবলম্বীদের আলাদা দুটি সংস্থাকেও দায়িত্ব দেয় আ’দালত।

রায় অনুযায়ী দায়িত্বপ্রা’প্ত শ্রী রাম জ’ন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গত আগস্টে অযোধ্যার বি’তর্কি’ত জমিতে শুরু করেছে রাম মন্দির নির্মাণ। আর আ’দালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য অযোধ্যার ধ’ন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেয় রাজ্য স’রকার। সেখানে মসজিদ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করতে ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড।

ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন জানান, ধ’ন্নিপুর গ্রামে নির্মাণ হবে ১৫ হাজার বর্গফুটের মসজিদ। এটি বাবরি মসজিদের আকারের সমান।

তিনি বলেন, মসজিদটির আদল হবে অন্য মসজিদগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্থপতি এসএম আখতার ইঙ্গিত দিয়েছেন এটির আদল মক্কার কাবা শরিফের মতো বর্গাকৃতির হতে পারে।

কাবা শরিফের মতো ধ’ন্নিপুরের মসজিদটিও গম্বুজ ও মিনার ছাড়াই নির্মাণ হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আতহার হুসেইন বলেন, সেটা একটা সম্ভাবনা হতে পারে। এই বি’ষয়ে স্থপতিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন বলেন, মসজিদটির নাম বাবরি মসজিদ হবে না। কোনও বাদশাহ কিংবা সম্রাটের নামেও এটির নামকরণ হবে না। আমার ব্যক্তিগত মত হলো এটিকে ধ’ন্নিপুর মসজিদ নাম দেওয়া উচিত হবে।

মসজিদ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে জাদুঘর, হাসপাতাল ও গবে’ষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানান আতহার হুসেইন। এজন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্দেশে ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট বানানোর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। ওই ওয়েবসাইটে ভারতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের লেখা থাকবে বলেও জানান আতহার।

তিনি বলেন, পোর্টালের কাজ এখনও কিছুটা বাকি রয়েছে আর সে কারণে অনুদান সংগ্রহ শুরু করা যায়নি।

উল্লেখ্য, অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবা’দী ‘করসেবকেরা’ ভে’ঙে ফে’লে। তাদের দাবি, ওই স্থানেই ছিলো প্রাচীন রাম মন্দির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here