সৃষ্টিক’র্তার কোনোকিছুই নি’ষিদ্ধ নয়, নি’ষিদ্ধ করে মানুষ তার চিন্তা কর্ম দিয়ে

0
96

শায়লা কবির: সে’ক্স! কি চ’মকে গেলেন বুঝি.. যেন এটি একটি নি’ষিদ্ধ বি’ষয়.. যেন ছিঃ ছিঃ এই শব্দটি আমি কি করে লিখলাম..

না, মোটেও এটি একটি নি’ষিদ্ধ বি’ষয় নয়। এটা নি’ষিদ্ধ তখনই হয় যখন এটা সঠিক এবং সুস্থভাবে মানা না হয়।

যখন এটা সঠিক সময়ে, সঠিক স’ম্পর্কের মাধ্যমে, সঠিক স’ঙ্গীর সাথে, সঠিক পদ্ধতিতে রক্ষা করা না হয়, তখন এটা করতে নি’ষেধ করা হয় এবং শুধু তখনই এটা নি’ষিদ্ধ,

তা না হলে আর সব স্বাভাবিক কাজকর্মের মতো এটাও একটা স্বাভাবিক কাজ বা প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে সবাইকেই যেতে হয়। কেন আজ এই বি’ষয়টি নিয়ে কথা বলছি..

কয়েকবছর আগে আমা’র এক বান্ধবীর কাছ থেকে শোনা একটি ঘ’টনা আমি আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করবো। বান্ধবীর মুখ থেকে যা শুনেছি তা এখানে প্রায় হুবুহু তুলে ধরলাম।

“আমা’র দুই ছে’লেমে’য়েই তখন টিনএজার। ঘরের ঝুল পরিষ্কার করার সময় বেডের নিচে ঝাড়ু দিতে গিয়ে একটা দলামোচা করা কাগজ বেড়িয়ে এলো।

কাগজটা হাতে নিয়ে খুলে দেখি তাতে না’রী-পুরু’ষের নানান ভ’ঙ্গিমায় জড়িয়ে ধ’রা ছবির স্কেচ আঁকা। না’রী-পুরু’ষ একজন আরেকজনকে চুমু দেওয়ার ভ’ঙ্গিরও স্কেচ রয়েছে তাতে।

কাগজটা হাতে নিয়ে দেখিয়ে প্রথমে মে’য়েকে জিজ্ঞেস করলাম, তারপর ছে’লেকে, “কে এঁকেছে এটা?”দুজনেই অস্বীকার করলো এবং দুজনেই বল্ল, “আমি আঁকি নাই।”

অথচ আমি ছবিতে মানুষের মুখের আদল আঁকার ধরণ দেখে অনেকটাই আঁচ করতে পারছিলাম যে দু’জনের মধ্যে কার আঁকা হতে পারে এই স্কেচগু’লি। আমা’রইতো বাচ্চা ওরা এবং ছোটবেলা থেকেই ওদের দু’জনেরই আঁকার হাত খুব ভালো। কার আঁকার ধরণ কেমন তা আমা’র খুব ভালো করেই জানা। সুতরাং ওরা দুজনেই অস্বীকার করলেও আমি ভালো করেই টের পেয়েছিলাম ছবিগুলো কে আঁকতে পারে, যদিও সেটা আমি প্রমাণও করতে যাইনি এবং পরে সেটা নিয়ে আর কথাও বাড়াইনি।

আমি শুধু খুব ভালো করে আঁকা ছবিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছিলাম এই জন্য যে, যে এঁকেছে সে এই ছবিগুলো কি মনে করে এঁকেছে বা তার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণটা বোঝার চেষ্টা করেছিলাম ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে। সেদিন টনক নড়লো আমা’র, ওরা বড় হচ্ছে। ধীরে ধীরে ওদের আরও বেশি বন্ধু হতে হবে আমা’র। আরও বেশি সহ’জ, স্বাভাবিক এবং ফ্রি হতে হবে ওদের সাথে।

সে’ক্স নিয়ে বেশি নি’ষিদ্ধ নি’ষিদ্ধ ভাব দেখালে আরও বেশি কৌতুহলী হয়ে উঠবে ওরা এবং মানুষের সহ’জাত প্রবৃত্তি হিসেবে নি’ষিদ্ধ বি’ষয়ের প্রতি নি’ষিদ্ধ আকর্ষণবোধ থেকে হয়তো এই বি’ষয়টি নিয়ে আরো বেশি সময় এবং মা’থা ন’ষ্ট করবে ওরা। এবং ওরা হয়তো এই বি’ষয়টির প্রতি কোনো ভ্রান্ত ধারণা থেকে বি’ভ্রান্ত হয়ে কোনো ভু’লও করে ফেলতে পারে বৈকি।

সুতরাং নিজেকে সচেতন ও সতর্ক করলাম এবং ছে’লেমে’য়েদের সাথে গল্পে বা আলাপে কখনো এই প্রস’ঙ্গে কোনো কথা উঠলে মা হিসেবে সীমা এবং মাত্রা বজায় রেখে যতটুকু সম্ভব বি’ষয়টি স’ম্পর্কে কিভাবে একটি স্বচ্ছ, সুস্থ এবং সুন্দর ধারণা দেওয়া যায় সেটা ভেবে নিয়ে ঠিক করে নিজের ভে’তর কথাগুলো গুছিয়ে রাখলাম।”

বান্ধবীর বাস্তব জীবনের গল্পটি শুনে আমা’র মনে হলো, আসলে এক্ষেত্রে আপনার সাথে আপনার স’ন্তানের স’ম্পর্ক কেমন তার উপর নির্ভর কোরে আপনাকে খুব সচেতন এবং সতর্কভাবে আপনার স’ন্তানদের সাথে কথা বলতে হবে এবং কখন, কিভাবে বা কি ভাষায় অথবা কি কথা বলে বোঝালে আপনার আলোচনা বা বোঝানো থেকে ভু’ল না বুঝে বা মনের মধ্যে কোনো ভু’ল ধারণা পোষণ না করে আপনার স’ন্তান বি’ষয়টি স’ম্পর্কে একটি সঠিক, সুস্থ এবং স্বচ্ছ ধারণা নিতে পারবে সেটি আপনাকেই বুঝে শুনে ঠিক করে নিতে হবে।

আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থার জন্য আমাদের টিনএইজ ছে’লেমে’য়েদের সাথে সে’ক্স বা সে’ক্সুয়াল রিলেশনশীপ বি’ষয়টি স’ম্পর্কে অস্বচ্ছ ধারণাগুলোকে স্বচ্ছ করে দেওয়ার জন্য সুস্থ আলোচনা এবং এর ভালো মন্দ দিকগুলো নিয়ে পরিষ্কার করে কথা বলাটাকে যেন ভীষণ লজ্জার এবং অনেকটা যেন বিরাট অ’প’রাধ বলে মনে করা হয়।

কেন!?

আমি মা হয়ে স’ন্তানকে পৃথিবীর সব বি’ষয়ে ভালো-মন্দ জ্ঞান দিতে পারবো আর এই বি’ষয়টি যেন একটি নি’ষিদ্ধ বি’ষয়, এটা নিয়ে কথা বল্লে পাপ হয়ে যাবে! কে বলেছে এটা, কোথায় লেখা আছে যে এই বি’ষয়টি নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলা বা জানাটা পাপ?সে’ক্স প্রাকৃতিক এবং অ’তি স্বাভাবিক একটি বি’ষয়। এটি স্বয়ং সৃষ্টিক’র্তা না’রী-পুরু’ষের স’ম্পর্কের মধ্যে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। সুতরাং এটা নি’ষিদ্ধ কেন হবে যে এটা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক আলোচনা করা যাবে না।

আসলে সৃষ্টিক’র্তার কোনোকিছুই নি’ষিদ্ধ নয়, নি’ষিদ্ধ করে তোলে মানুষ তার নি’ষিদ্ধ চিন্তা আর কর্ম দিয়ে। মানুষই সৃষ্টিক’র্তার মঙ্গলময় এবং সুন্দর সৃষ্টিগুলোকে কুৎসিত করে তোলে তার কুৎসিত এবং বি’কৃত চিন্তাভাবনা দিয়ে।

আমাদেরকে সৃষ্টিক’র্তা মন ও শ’রীরের যে মি’লিত ভালবাসা থেকে সৃষ্টি করেছেন তা কি করে কুৎসিত হতে পারে। বরং আম’রা মানুষরাই আমাদের বি’কৃত কামনা, বাসনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এই সে’ক্স নামক বি’ষয়টিকে নোং’রামীর পর্যায়ে নিয়ে যাই যা একসময় নি’ষিদ্ধ হয়ে ওঠে এবং সেই মানুষরাই একদিন নিমজ্জিত হয় পঙ্কিলতায়।

সুতরাং মা এবং বাবারা আসুন আম’রা আমাদের টিনএইজ ছে’লেমে’য়েদের good parenting এর ক্ষেত্রে এই সে’ক্স বি’ষয়টি নিয়ে কড়াকড়ি এবং নি’ষিদ্ধ মনোভাব পোষণ না করে এবং ওদের মনে ভ’য় ঢুকিয়ে না দিয়ে ওদেরকে বি’ষয়টি প্রকৃতির অন্য আর সব স্বাভাবিক বি’ষয়ের মতোই স্বাভাবিকভাবে নিতে সাহায্য করি। প্রয়োজনে স্বচ্ছ, সুন্দর এবং সুস্থ একটি ধারণার বী’জ বুনে দেই ওদের কচি মনের জমিতে।

আমাদের ভবি’ষ্যৎ প্রজ’ন্ম ওরাই সুতরাং আসুন আম’রা আমাদের ভবি’ষ্যৎকে কোনোরকম অন্ধকার ধারণা বা নি’ষিদ্ধ কৌতুহলের মধ্যে না রেখে সুস্থ ধ্যানধারণার আলোকে আলোকিত করে তুলি এবং ওদেরকে সবরকম ক্ষ’তিকর নি’ষিদ্ধ আকর্ষণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে মা-বাবা হিসেবে সবসময় সব পরিস্থিতিতে ওদের পাশে থাকি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here