বকশিশ না দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলেন নার্স-আয়া! শি’শুর মৃ’ত্যু

0
81

হাসপাতালের নার্স ও আয়াকে বকশিশ না দেওয়ায় নাক থেকে অক্সিজেন খুলে নেওয়ায় এক শি’শুর মৃ’ত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘ’টনায় শনিবার (৮ আগস্ট) শি’শুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে বি’ষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। দুপুরের পর ঘ’টনাটি ঘটলেও বি’ষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধা.মাচা’পা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের থেকে জানা গেছে,

গতকাল শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজে’লার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন তাঁর এক মাসের শি’শুস’ন্তান আব্দুর রহমানের শ্বাসক’ষ্ট দেখা দিলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসক শি’শুটিকে ভর্তি করাতে বলেন এবং দ্রু’ত অক্সিজেন দিতে বলেন।

মোশারফ হোসেন শি’শুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করান। ভর্তি করার পর অক্সিজেন দেওয়া হলে শি’শুটি সুস্থ হয়। এরপর শি’শুটির বাবার কাছে নার্স রিমা আক্তার, রেহেনা বেগম, মনিকা বেগম এবং আয়ারা বকশিশ দাবি করেন। তখন শি’শুটির বাবা মোশারফ হোসেন নার্স ও আয়াদের জোহরের নামাজ পড়ে এসে বকশিশ দেওয়ার কথা বলেন।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে মোশারফ নামাজ পড়ার জন্য হাসপাতালের মসজিদে যান। তাঁর আসতে বিলম্ব হওয়ায় নার্স ও আয়ারা শি’শুটির মা, খালা, দাদি ও নানির কাছে বকশিশ দাবি করেন। শি’শুটির মা ও খালা তাঁদের জানান শি’শুর বাবা নামাজ থেকে এলেই বকশিশ দেওয়া হবে। কিন্তু নার্স ও আয়ারা তাতে রাজি না হয়ে শি’শুটির নাক থেকে অক্সিজেনের পাইপ খুলে নেন।

অক্সিজেন খুলে দেওয়ার সাথে সাথে শি’শুটির শ্বাসক’ষ্ট দেখা দেয়। তখন শি’শুটির মা, খালা, দাদি নার্স ও আয়াদের হাতে-পায়ে ধরে আবারও অক্সিজেন লাগাতে বলেন। কিন্তু তাঁদের স’ঙ্গে নার্স ও আয়ারা দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে শি’শুটি মা’রা যায়।

শি’শুর পরিবার দাবি করে, বি’ষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ থেকে দেখা গেলেও তত্ত্বাবধায়ক বের হয়ে সেখানে উপস্থিত হননি।

শি’শুটির মা আনিছা বেগম বলেন, আমরা একাধিকবার নি’ষেধ করার পরও নার্স ও আয়া জো’র করে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই আমার স’ন্তানের মৃ’ত্যু হয়। আমি এ ঘ’টনার বিচার চাই।

শি’শুটির বাবা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, হাসপাতালের নার্স ও আয়ার অবহেলায় আমার স’ন্তানের মৃ’ত্যুর ঘ’টনা ঘটেছে। আমি দোষীদের বিচার দাবি করছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নার্স রিমা আক্তার বলেন, বকশিশ চাওয়ার ঘ’টনা সত্য নয়। মূ’লত অন্য একটি গু’রুতর অ’সুস্থ শি’শুর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারটি স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগে থেকেই শি’শুটির অবস্থা খা’রাপ ছিল। তাকে রংপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

এ ব্যাপারে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নবিউর রহমান বলেন, অভিযোগের বি’ষয়ে রবিবার ৩ সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি করা হয়েছে। এতে শি’শু বিশেষজ্ঞ ডা. খায়রুন্নাহারকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনর রশিদ ও মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন কুমার প্রামাণিককে সদস্য করা হয়েছে। ত’দন্তে হাসপাতালের কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বি’রুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনর রশিদ বলেন, বকশিশ নেওয়ার মতো ঘ’টনা এর আগে ঘটেনি। এজাতীয় কোনো অভিযোগও আসেনি। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই বি’ষয়টি ত’দন্ত হওয়া দরকার। কমিটি ত’দন্ত শুরু করেছে। ত’দন্ত শেষে বলা যাবে প্রকৃত ঘ’টনা কী।

একইভাবে শনিবার সকালে গাইবান্ধা সদর উপজে’লার উজির ধরণী গ্রামের ইয়াকুব আলীর দুই মাস ব’য়সের শি’শুর পরিবারের কাছ থেকে বকশিশ না পাওয়ায় তারও নাক থেকে অক্সিজেনের পাইপ খুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই শি’শুটিও অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসক’ষ্টে হাসপাতালে মা’রা যায় বলে পরিবার দাবি করে। এ ব্যাপারে আবাসিক চিকিৎসক বলেন, শি’শুটিকে মৃ’ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এই অভিযোগের সত্যতা নেই। এটি ত’দন্তের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here