ক’রোনায় বাংলাদেশি গবে’ষণা: দুই ও’ষুধে সেরে উঠছেন ব’য়স্ক রো’গী

0
106

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : কো’ভিড-১৯ চিকিৎসায় সফলতা আনতে পারে বাংলাদেশের অ্যালার্জি অ্যাজমা এন্ড এনভায়রমেন্টাল রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (প্রাইভেট) প্রধান বিজ্ঞানী এবং সভাপতি ডা. এম এ হাসানের গবে’ষণা।

তার গবে’ষণায় দেখা যায়, টেনোফোভির এবং ফ্যাভিপিরাভির একত্রে ব্যবহারের ফলে ৫০ থেকে ৭০ বছর ব’য়স্ক রো’গীরা সর্বোচ্চ ৯ দিন সময়ের ব্যবধানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও চার পাঁচ দিনের মধ্যে ২৫ থেকে ৫৫ বছর ব’য়স্ক রো’গীরা ঐ ও’ষুধে সেরে উঠেছেন।

বিশিষ্ট অ্যাজমা ও ইমার্জিং ডিজিজ গবেষক ডা. এম এ হাসান জানান, পৃথিবীর আরো অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানীর মত ক’রোনা ম’হামা’রির শুরু থেকেই এর চিকিৎসা নিয়ে গবে’ষণা করছেন তিনি। এর চিকিৎসা ও ভাই’রাস প্রতিরোধে সার্স, মার্স এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার ও’ষুধ নিয়েও গবে’ষণা চালান তিনি। কো’ভিড-১৯ প্রতিরোধে কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়ার আগে মার্চের শেষের দিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করা এবং বেশি ঝুঁ’কিতে থাকা সম্ভাব্য তথা আ’ক্রান্ত রো’গীদের জন্য আরো কিছু অ্যান্টিভাইরাল ও’ষুধ বাছাই করা হয়। ওই ও’ষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে রিবাভিরিন, অসেল্টামিভির এবং ফ্যাভিপিরাভির। এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় টেনোফোভির নামক একটি ও’ষুধকে নির্বাচন করা হয়।

এমন গবে’ষণায় এইচআইভি ও বি হেপাটাইটিসে আ’ক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে কো’ভিড-১৯ এর খুব কম সং’ক্র’মণ লক্ষ্য করেন এইচআইভি ও সার্স সংক্রান্ত গবে’ষণায় অভিজ্ঞ ডা. এম এ হাসান। এ প্রেক্ষিতে গত এপ্রিলের শুরু থেকে এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস বি রো’গীদের জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিভাইরাল ও’ষুধ টেনোফোভির নিয়ে পরীক্ষা চালান ডা. এম এ হাসান।

নিয়মিত টেনোফোভির পাচ্ছে এমন কিছু ছোট গ্রুপের মাঝে দেখা যায় ওই ও’ষুধ নেয়া কোনো রো’গীই ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়নি। টেনোফোভির ও’ষুধটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস বি রো’গীদের চিকিৎসার জন্য আগেই অনুমোদন দিয়েছে।

গবেষক ডা. এম এ হাসান ক’রোনা রো’গীদের চিকিৎসায় টেনোফোভির ও ফ্যভিপিরাভির এবং টেনোফোভির ও রিভাভিরিন-এই দুই যুগল ও’ষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবে’ষণা শুরু করেন। ওই গবে’ষণায় দেখা যায়, দুটো অ্যান্টিভাইরাল যুগলভাবে ক’রোনা রো’গীদের চিকিৎসায় বেশী কার্যকর হচ্ছে।

ডা. এম এ হাসানের গবে’ষণায় দেখা যায়, টেনোফোভির এবং ফ্যভিপিরাভির অথবা টেনোফোভির এবং রিবাভিরিন একত্রে ব্যবহারের ফলে চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ২৫ থেকে ৫০ বছর ব’য়স্ক রো’গীরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া ৫০ থেকে ৭০ বছর ব’য়স পর্যন্ত রো’গীদের ওই ও’ষুধে ক’রোনা থেকে সেরে উঠতে ৯-১০ দিন সময় লেগেছে।

২০০২-০৪ সালে এইচআইভি ও সার্স নিয়ে কাজ করেছেন ডা. হাসান। তার কাজ পর্যালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের এনআইএআইডি’র প্রধান ড. অ্যানথনি ফাউসি।

ডা. এম এ হাসানের গবে’ষণাটি আরো পরীক্ষা ও পর্যালোচনার জন্য ২৫ এপ্রিল ২০২০-এ নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় পাঠানো হয়।

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ডেভিড ক্লার্ক এবং স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় নিয়োজিত গবেষক দল এর ফলাফলের বি’ষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য পেশ করেছেন।

গত ১৩ জুলাই লিখিতভাবে তারা ডা. এম এ হাসানকে জানিয়েছেন টেনোফোভির কো’ভিড -১৯ এর সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে ভাল তবে এর অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসার ভূমিকা অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

এতে এই আবি’ষ্কারে বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বিজ্ঞানির অগ্রণী তথা মৌলিক অবদান প্রমাণিত হয়েছে।

টেনোফোভির ৩০০ মি.গ্রাম. ট্যাবলেট বা পাউডার যা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যারেড (Viread) নামে এবং বাংলাদেশে জাইলোভির নামে পরিচিত।

ডা. এম এ হাসান জানান, দীর্ঘমেয়াদে টেনোফোভির নিরাপদ হলেও এটি ভ্যাকসিনের বিকল্প নয়। তবে ভ্যাকসিন কার্যকর হবার আগে এটি রো’গ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বিশেষ করে হাইরিস্ক গ্রুপের মধ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here