এখনো মাকে খোঁ’জে তুবা

0
162

বাবা থেকেও নেই। মা তাসলিমা বেগম রেনুই ছিল সব। কিন্তু সেই মাকে নি’র্মমভাবে পি’টিয়ে হ’ত্যা করা হয় গত বছরের এই দিনে। পাঁচ বছরের তুবা এখনো জানে তার মা বিদেশ গেছে। ফিরে আসবে কিছু দিনের মধ‌্যে।

ঘুরে ফিরে সে মাকে খোঁজে। ২০১৯ সালের ২০ জুলাই স’ন্তানদের ভর্তি করার খোঁজখবর নিতে গেলে বাড্ডায় প্রাইমারি স্কুল গেটে ছেলেধরা স’ন্দে’হে রেনুকে গণপি’টুনি দিয়ে হ’ত্যা করা হয়। এ ঘ’টনায় অ’জ্ঞাত ৫০০ জনের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা মা’মলা করেন রেনুর ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু। রেনুর তাহসিন আল মাহির নামে ১২ বছরের একটি ছেলেও আছে।

তুবা আর মাহির এখন তাদের খালা নাজমুন নাহার নাজমার কাছেই থাকে। মাহির বনানী বিদ্যানিকেতনে পঞ্চম শ্রেণিতে ও তুবা শি’শুমেলা স্কুলে প্লেতে পড়ছে।

তুবার খালা নাজমা বলেন, ‘তুবা সব সময় তার মার কথা বলে। ঠিক মতো ঘুমায় না। মন খা’রাপ করে থাকে। এমন হয় যে রাত ২টা বা ৩টার সময় ঘুম থেকে উঠে মাকে খোঁজে। ওর এই ক’ষ্ট আর সহ‌্য হয় না।’ মাহির বি’ষয়ে নাজমা বলেন, ‘ও বোঝে মা আর নেই। মাঝে মাঝে সেও মায়ের জন্য কা’ন্নাকাটি করে। মাহি তো ঘ’টনার সব কিছু টিভিতে দেখছে। সে অনেকটা রাগি।

ওকে নিয়েই চিন্তাই আছি।’ বোনের স্মৃ’তি মনে করে কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে নাজমা বলেন, ‘১৮ জুলাই রাতে রেনুর স’ঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। আমরা ওই দিন সাভারে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম। বিয়েতে রেনুরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আম্মা অ’সুস্থ থাকায় সে যেতে পারেনি। সেদিন যদি রেনু আমাদের স’ঙ্গে যেতো তাহলে এমন হয়তো হতো না।’

তিনি বলেন, ‘১৯ জুলাই রাতে মা আর বড় বোনের স’ঙ্গে রেনুর কথা হয়। বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলে দুই ছেলে-মে’য়েকে ভর্তি করার বি’ষয়ে কথা বলতে যাবে বলে জানায়। আমাকেও বলে, আপা স্কুলটা আমার ভালোই লাগছে। আর খরচও কম হবে।

ওদের দুইজনকে স্কুলে ভর্তি করে দিব। সকালে ও হাঁটাহাঁটি করতো। ঘ’টনার দিন সকালে হাঁটতে যাওয়ার আগে বড় আপাকে বলে, আপা আমি সকালে রুটি খাবো না। ছোলা সিদ্ধ করে রেখেছি। বাইরে থেকে এসে রান্না করে খাবো। কিন্তু সেই ছোলা তার আর খাওয়া হলো না। সাভার থেকে এসে দেখি ছোলাগুলো টেবিলের ও’পরই রয়েছে।’

নাজমা জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের পর মায়ের স’ঙ্গেই ছিল রেনু। অ’সুস্থ মায়ের দেখাশোনা করতো সে। মাও রেনুর জন‌্য কা’ন্নাকাটি করে। রেনুর শো’কে মা আরও অ’সুস্থ হয়ে বিচানায় পড়ে আছে। এ হত‌্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চান রেনুর স্বজনরা। এখনো মাকে খোঁজে তুবা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here