হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করে বাবা-মা উধাও! দায়িত্ব নিলেন এসপি

0
212

‘ভূমিষ্ঠ হয়েছিল দুটি শি’শু। জ’ন্মের পরপর মা’রা যায় একজন, কিন্তু প্রসূতি মায়ের অনুরোধে অপর ন’বজাতককে ভর্তি করা হয় নগরীর বেস’রকারি একটি হাসপাতালের এনআইসিইউতে। এরপর বিল পরিশোধ না করেই উধাও হন ন’বজাতকের বাবা।

অর্থের জোগাড় না হওয়ায় হাসপাতালে আর আসেননি হতদরিদ্র বাবা-মা। কিন্তু মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে গত ৭ দিন ধরে শি’শুটির সকল চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বি’ষয়টি নজরে আসায় মানবিক দিক বিবেচনায় চিকিৎসার সার্বিক ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব নিলেন কুমিল্লা পু’লিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ই’সলাম।’

রবিবার (১২ জুলাই) বিকালে নগরীর ঝাউতলা এলাকার ‘কুমিল্লা মা ও শি’শু স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ কর্তৃপক্ষ এসব ত’থ্য জানিয়েছেন। জানা যায়, গত ৫ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জে’লার আদর্শ সদর উপজে’লার আড়াইওরা গ্রামের হতদরিদ্র মিজানুর রহমান ও শিরীন আক্তার দম্পতির ঘরে জমজ দুটি শি’শুর জ’ন্ম হয়।

জ’ন্মের পর একটি শি’শু মা’রা যায় এবং অপর মে’য়ে শি’শুটির জীবন সং’কটাপন্ন হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ওই শি’শুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এদিকে শি’শুর মা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুমিল্লা মা ও শি’শু স্পেশালাইজড্ হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘শি’শুর বাবা মিজানুর রহমান ৫ জুলাই রাতে শি’শুটিকে এই হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। এরপর থেকে তিনি উধাও হয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তির সময় একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়ে ছিল।

কিন্তু ওই নম্বরটি কখনো বন্ধ থাকে, আবার কখনো খোলা থাকলেও কেউ রিসিভ করে না। পরে শি’শুর বাবাকে খুঁজে না পেলেও মায়ের সন্ধান পাই এবং শি’শুর শা’রীরিক অবস্থার বি’ষয়ে জানাই। পরে ৮ জুলাই শি’শুর মা হাসপাতালে আসেন।

কিন্তু শি’শুটিকে নেওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা নেই বলে তিনি বিভিন্ন স্থানে সহযোগিতা পাওয়ার আসায় বেড়িয়ে পড়েন। বি’ষয়টি কুমিল্লা পু’লিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ই’সলামের নজরে আসার পর তিনি চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ দিনে এ শি’শুর চিকিৎসার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর আগেও ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এই হাসপাতালে বিল পরিশোধ না করে উধাও হয়ে যান আরেক দম্পতি। পরে পু’লিশ সুপার (সৈয়দ নুরুল ই’সলাম) ওই দম্পতিকে খুঁজে বের করে আনাসহ হাসপাতালের বিল পরিশোধ করার ব্যবস্থা করেন।

আবারও শি’শুর দায়িত্ব নিয়ে তিনি মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।’ কুমিল্লা মা ও শি’শু স্পেশালাইজড্ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এমরান বলেন, ‘মেডিক্যাল সায়েন্সের ভাষায় এটি প্রি-ম্যাচিউর শি’শু। জ’ন্মের সময় ওজন ছিল সাড়ে ৭শ গ্রাম। শি’শুটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়লেও শি’শুর চিকিৎসা চা’লিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’

এদিকে খরচ বহনের খবর পেয়ে শি’শুর বাবা-মা ও স্বজনরা রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালে ছুটে আসেন। ন’বজাতকের বাবা মিজানুর রহমান জানান, ‘আমি গরীব মানুষ। তাই টাকা না থাকায় শি’শুটিকে নেওয়ার জন্য হাসপাতালে আসিনি, লজ্জায় পা’লিয়ে ছিলাম। এসপি স্যার খরচের দায়িত্ব নেওয়ায় আমরা আ’নন্দিত। আ’ল্লাহর নিকট আমরা দুই হাত তোলে আমরা স্যারের জন্য দোয়া করি।’

কুমিল্লা পু’লিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ই’সলাম বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত উদার হয়ে শি’শুর চিকিৎসা দিয়েছে। এজন্য তাদের ধ’ন্যবাদ জানিয়েছি। আমি একজন মানুষ হিসেবে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে শি’শুটির দায়িত্ব নিয়েছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here