এইমাত্র পাওয়া: আর না বেড়ে দেশে করো’না ধীরে ধীরে কমতে থাকবে

0
285

বাংলাদেশে গত ১৫ দিন যাবত করো’না সং’ক্র’মণ পরিস্থিতি একইরকম। সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজারের মধ্যে করো’না আ’ক্রান্তের সংখ্যা ঘোরাফেরা করছে এবং ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে প্রতিদিন মৃ’ত্যু ঘটছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেকে উ’দ্বেগ প্রকাশ করলেও কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, করো’না বাংলাদেশে এখন পিক সিজন পার করছে।

সামনে আম’রা সু’খবর পেতে যাচ্ছি যে, বাংলাদেশের করো’না পরিস্থিতি আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। এর কারণ হিসেবে তাঁরা যে যু’ক্তিগুলো দিচ্ছেন তাঁর মধ্যে রয়েছে-

সং’ক্র’মণ বাড়লে এখন জ্যামিতিক হারে বাড়ত: বাংলাদেশে করো’না সং’ক্র’মণ গত দুই সপ্তাহ যাবত একই রকম চলছে। শতকরা হিসেবে ২০ থেকে ২২ শতাংশের ভে’তরে ঘোরাফেরা করছে। অর্থাৎ এইরকম পরিস্থিতিতে যদি করো’না পিকে না থাকতো তাহলে বাংলাদেশে এই সং’ক্র’মণের হার এবং সংখ্যা দুটোই অনেক বাড়তো।

সাধারণত দেখা যায় যে, সং’ক্র’মণ তিন হাজার অ’তিক্রম করার পর একটা উলম্ফন দেখা যায়। একদিনে পাঁচ হাজার বা সাত হাজার এভাবে সং’ক্র’মণ বাড়তে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু গত ১৫ দিন যাবত একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেই কারণে এটা বলা যায় যে, বাংলাদেশে এখন পিক সময় চলছে। তবে পিক সময় কতদিন পর্যন্ত থাকবে তা বলা সম্ভব নয়। হয়তো এই মাসের পুরো সময় থাকবে বা আরো ৭ দিন থাকবে, এরপরে সং’ক্র’মণের হার আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে।

কম পরীক্ষা: বাংলাদেশের কম পরীক্ষার কারণে সং’ক্র’মণের মাত্রাটা বোঝা যাচ্ছে না। অনেক মানুষ পরীক্ষা করছে না, অনেকে নিজেদের পরীক্ষা থেকে দূরে রাখছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে আসলে কত সং’ক্র’মণ বা কি পরিমাণ আ’ক্রান্ত তা বোঝার কোন উপায় নেই। এই কারণে মনে করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে হয়তো অনেক করো’না আ’ক্রান্ত আছে যারা পরীক্ষা করাতে পারছে না বা আ’ক্রান্ত হয়েও উপসর্গ না থাকায় নিজেরাও বুঝতে পারছে না।

এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে একটি ব্যাপক সামাজিক সং’ক্র’মণ ছড়িয়ে গেছে। এখন আম’রা লকডাউন দেই বা না দেই সামাজিক সং’ক্র’মণ আর খুব বেশি বাড়তে পারবে না। কিছু কিছু মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পর নিজের অজান্তেই সেরে উঠেছেন এবং এক ধরণের হার্ড ইম্যুউনিটি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতাকে করো’না সং’ক্র’মণ কমা’র লক্ষণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৃ’ত্যুর হার একই: বাংলাদেশে করো’না সং’ক্র’মণ জ্যামিতিক হারে বৃ’দ্ধি পেলেও মৃ’ত্যুর হার একই আছে। অন্যান্য দেশগুলোতে শনাক্তের সংখ্যা ১ লাখ অ’তিক্রম করার পর যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে মৃ’ত্যুর সংখ্যা বেড়েছিল, বাংলাদেশে সেভাবে বাড়ছে না।

এটাকে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এটার মানে হলো যে, বাংলাদেশে করো’না সং’ক্র’মণের হার যাই হোক না কেন মৃ’ত্যুর সংখ্যায় আর উলম্ফন হবেনা। হঠাৎ করে মৃ’ত্যুর হার বেড়ে যাবেনা। অর্থাৎ বাংলাদেশে মৃ’ত্যুর হার এটাই চূড়ান্ত। এরপর বাংলাদেশে মৃ’ত্যুর হার আস্তে আস্তে কমতে থাকবে কারণ আম’রা আমাদের সং’ক্র’মণের চূড়ান্ত সীমায় চলে এসেছি।

এই সমস্ত বাস্তবতাগুলোকে বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বাংলাদেশে আসলে কতজন আ’ক্রান্ত বা মৃ’ত্যুবরণ করেছে তাঁর থেকেও বড় কথা হচ্ছে আমাদের পরীক্ষার বাইরে একটি বিরাট জনগোষ্ঠী আছে। যেহেতু এপ্রিলে আম’রা সবকিছু খুলে দিয়েছিলাম, ঈদে দোকানপাট খোলা হয়েছে- সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশে ব্যাপক সামাজিক সং’ক্র’মণ ছড়িয়ে পড়েছে।

এখন নতুন করে সামাজিক সং’ক্র’মণ বিস্তারের সম্ভাবনা কম এবং একটি পর্যায়ে গিয়ে সামাজিক সং’ক্র’মণের চূড়ান্ত সীমা অ’তিক্রম করবো এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে সং’ক্র’মণের হার কমতে থাকবে।

সেই বাস্তবতায় মনে করা হচ্ছে যে, আগামী জুলাই মাস জুড়ে করো’না সং’ক্র’মণ এই রকম অবস্থায় বা এর থেকে একটু কম থাকবে এবং আগস্ট থেকে তা কমতে থাকবে। সেপ্টেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে করো’না পরিস্থিতি একটি স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে বলে অনেকেই আশা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here