তিরিশ বছর পর জানা গেল তারা দু’বোন আসলে পুরু’ষ

0
178

এত দিন নিজেকে না’রী বলেই জানতেন তিনি। তিরিশ বছর ব’য়সে পৌঁছে ক্যা’ন্সারে আ’ক্রান্ত হওয়ার পরে জানলেন, আসলে তিনি পুরু’ষ! দে’হে ক্যা’ন্সার বাসা না বাঁধলে সেই সত্য হয়তো জানা সম্ভব ছিল না।

তার চিকিৎসকরাও এমন ঘ’টনাকে বিরল এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের দিক দিয়ে লক্ষ্যণীয় বলে মনে করছেন। শুধু ওই রো’গী নন, স’ন্দে’হ হওয়ায় তার ছোট বোনেরও জিন পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা। দেখা গিয়েছে, আসলে তিনিও পুরু’ষ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাস নাগাদ নিউ গড়িয়ার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্যা’ন্সার হাসপাতা’লে বীরভূমের এক রো’গী আসেন। বিবা’হিতা এবং যথেষ্ট সুদর্শনা। তার তলপেটে অসহ্য যন্ত্র’ণা হচ্ছিল বেশ কিছু দিন ধরে। হাসপাতা’লের সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট সৌমেন দাস এবং ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট অনুপম দত্ত তাকে পরীক্ষা করেন।
তার দৈহিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি মে’য়েদের মতোই। গ’লার স্বর থেকে শুরু করে স্ত’ন সবই মে’য়েদের মতো। যো’নির গঠনও বহিরঙ্গে না’রীসুলভ। বিয়ে হয়েছে ৯ বছর আগে।

তবে জ’ন্ম থেকেই তার জরায়ু ও ডিম্বাশয় ছিল না। পিরিয়ড হয়নি। সিটি স্ক্যানে তার তলপেটে ১৫-১৫ সেন্টিমিটারের একটি টিউমা’র পাওয়া যায়। সৌমেন দাস বলেন, পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার যো’নি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটি ‘ব্লাইন্ড এন্ডেড’। অর্থাৎ শুরু হয়েই শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের তখন স’ন্দে’হ হয়। রো’গীর ‘কেরিওটাইপিং’ অর্থাৎ ক্রোমোজোম পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, তার শ’রীরের কম্বিনেশন হল ‘XY’ ক্রোমোজোম, যা পুরু’ষদের থাকে। না’রীদের শ’রীরে থাকে XX ক্রোমোজোম।

চিকিৎসকরা আরো জানান, ওই রো’গীর তলপেটের টিউমা’রটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি আসলে অণ্ডকোষ। যা শ’রীরের বাইরের বদলে তার শ’রীরের ভে’তরে রয়েছে। বায়োপসি করে টিউমা’রে ক্যা’ন্সার মেলে।

অনুপম দত্ত বলেন, পুরু’ষদের যে ক্যা’ন্সার হয়, এটি সেই ধরনের টেস্টিকিউলার ক্যা’ন্সার। একে চিকিৎসার পরিভাষায় সেমিনোমা বলা হয়। ওই রো’গীর এখন ২১ দিন অন্তর কেমোথেরাপি চলছে। অবস্থা আশ’ঙ্কাজনক।

তা হলে প্রশ্ন ওঠে, বহিরঙ্গে তিনি কী’ করে মে’য়েদের মতো? সৌমেন দাস জানান, ওই রো’গীর ‘টেস্টিকিউলার ফেমিনাইজেশন সিনড্রোম’ রয়েছে। তার অণ্ডকোষ যেহেতু শ’রীরের ভে’তরে ছিল এবং সুগঠিত ছিল না, তাই পুরু’ষ হরমোন ‘টেস্টোস্টেরন’ ঠিকভাবে ক্ষরণ হয়নি। বরং তার দে’হে না’রীদের হরমোন তুলনামূ’লক বেশি ছিল। তাই তার দে’হ একেবারে না’রীর মতো।

চিকিৎসকরা জানতে পারেন, ওই রো’গীর একমাত্র বোনেরও জ’ন্ম থেকে জরায়ু ও ডিম্বাশয় নেই। বোনেরও কেরিওটাইপিং করেন। দেখা যায়, তার শ’রীরেও ‘XY’ জিনের কম্বিনেশন। তারও দে’হের ভিতরে অণ্ডকোষ রয়েছে। চিকিৎসকদের কথায়, অণ্ডকোষের কথা আগে জানা গেলে ওটা অ’স্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া যেত। তা হলে ক্যা’ন্সার পর্যন্ত গড়াত না। তাই এখন ওই রো’গীর বোনের অণ্ডকোষ অ’স্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, ওই রো’গীর দুই খালাম্মা’র একই সমস্যা ছিল। এমনিতে না’রী বলে মনে করা হলেও তাঁদের জরায়ু ও ডিম্বাশয় ছিল না। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা তেমন হয়নি বলে জিনগতভাবে তারা কী’ ছিলেন, জানা যায়নি।

ওই রো’গীর বোন জানান, কৈশোরে যখন আমাদের পিরিয়ড হলো না, তখন ডাক্তার দেখানো হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন, আমাদের ওভা’রি আর ইউটেরাস নেই, ফলে কোনো দিন স’ন্তান হবে না। সেটা জানিয়েই বোনের বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কখনো কেউ বলেননি যে, আম’রা আসলে ম’হিলাই নই, বা আমাদের শ’রীরের ভিতরে অণ্ডকোষ রয়েছে।

সূত্র: আ’নন্দবাজার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here