যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে মুসল্লিদের ও’পর হা’মলা

0
87

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অ’ঙ্গরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বায়তুল মামুর মসজিদে কমিটির কতিপয় সদস্য কর্তৃক নিরীহ মুসল্লিদের ও’পর হা’মলা ও অপ্রীতিকর ঘ’টনা ঘটেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে তিন বছর মেয়াদি নতুন কমিটি গঠন করার সময় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ‘শয়তান’ বলাকে কেন্দ্র করে কমিটির সদস্য ও মুসল্লিদের মাঝে হট্টগোল ও অপ্রীতিকর ঘ’টনা ঘটে।

একই মসজিদে এর আগেও কয়েক দফা অপ্রীতিকর ঘ’টনাসহ কোষাধ্যক্ষের হাতে মসজিদের ইমাম লা’ঞ্ছিত হবার ঘ’টনা ঘটেছে। মা’র্কিন সংবাদ মাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লিরা জানান, মসজিদের নতুন কমিটি গঠনের করার জন্য গত শুক্রবার সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। বাদ আছর সভা শুরু হলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিক রহমান শান্তিপূর্ণভাবেই সভা পরিচালনা করছিলেন। মাগরিব নামাজের পূর্ব পর্যন্ত কোনও প্রকার সমস্যা দেখা যায়নি। বাদ মাগরিব আবারও সভা কার্য শুরু হয়।

মুসল্লিদের পক্ষ থেকে চাঁ’দা ভিত্তিক মসজিদের সদস্য ভোটারের মেয়াদ ৩ বছর থেকে ১ বছর করে সংবিধানের কিছু নিয়মকানুন পরিবর্তনের দাবি উঠে। এ প্রস্তাবটির পক্ষে উপস্থিত মুসল্লিদের শতকরা ৯৫ ভাগ মুসল্লি তাদের সমর্থন দিলেও কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদধারী তারেক আম্বিয়া ও তার ভাই তৌফিফুল আম্বিয়ার সমর্থক ও নিকটাত্মীয়রা উক্ত প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেন।

ওই সাধারণ সভায় সংবিধান সংশোধ’ন ও সংবিধান বহির্ভূত কাযর্ক্রমের ও’পর মুসল্লিগণ বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। মুসল্লিগণের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারায় তারেক আম্বিয়ার ঈশারায় তার চাচাত ভাই মইনুল, এনাম, নাজমুল প্রশ্নকারীদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে নাজেহাল করে তোলেন।

মইনুল ইসলাম এক পর্যায়ে মুস্ললিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখানে অনেক শয়তানও আছে। তার কথা অন্য সদস্য/ মুসল্লি হারুন আহমেদের কানে গেলে তিনি পাল্টা জবাব দেন। উপয় পক্ষের মধ্যে কথা কা’টাকাটি শুরু হয়।

মারমুখি হয়ে আ’ক্রমণ ও পাল্টা আ’ক্রমণের চেষ্টা চলে উভ’য় পক্ষে। — এক পর্যায়ে প্রচুর হট্টগোল শুরু হয়। হা’মলা ও হট্টগোলের সময় মসজিদে বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোশিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক) এর বেশ কিছু কর্মকর্তাদের দেখা গেছে।

ইতোপূর্বে মসজিদ কমিটির সাধারন সভায় বেশ কয়েকবার বাক-এর এসব কর্মকর্তাদেরকে হট্টগোল করার জন্য কেবা-কারা ভাড়া করে এনেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।’

মসজিদ কমিটির সদস্য/মুসল্লি হারুন আহমেদ ও স’রকার মামুন জানান, কমিটির কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়া ও তৌফিফুল আম্বিয়া’র তাদের চাচাত ভাই মইনুল,নাজমুল ও এনাম উক্ত শান্তিপূর্ণ সভায় বিশৃংখলার সৃষ্টি করেন এবং বাংলা সিনেমার খল নায়কদের মতো দুই দফা মুসল্লিদের উপর আ’ক্রমণ করেন। এতে মুসল্লিগন খিপ্ত হয়ে ওঠেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে তারেক-টিপু তাদের লা’ঠিয়াল চাচাত ভাইদেরকে মসজিদ থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। কমিটির সাধারন সম্পাদক আশিক রহমান হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

পরে অন্যান্যদের সহায়তায় পরিস্থিতি নি’য়ন্ত্রণে আসে। কমিটি গঠনের এ সভা ভুন্ডুল হলেও অধিকাংশ মুসল্লিদের অনুপস্থিতিতেই জো’রপুর্বক এবং অ’বৈধভাবে আগামী ৩ বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিক রহমানের কাছে শুক্রবারের উক্ত ঘ’টনার বর্ণনা জানতে চাওয়া হলে তিনি অপ্রীতিকর ঘ’টনার কথা স্বীকার করে বলেন, উক্ত ঘ’টনার জন্য তিনিই দায়ী।

কারণ পদাধিকার বলে তিনি উক্ত সভাটি পরিচালনা করছিলেন। সভার কার্য চলাকালীন সময় দুই গ্রুপের লোকজনই উপস্থিত ছিলেন। একসময় মইনুল ইসলাম নামের এক মুসল্লি/সদস্য বলে ওঠেন, এখানে অনেক শয়তানও আছে। এর পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে সদস্য/ মুসল্লি হারুন আহমেদ বলেন শয়তান তোমাদের মধ্যেও রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here