ভারতের পাশে আমেরিকা দাঁড়ালে, পাকিস্তান-উত্তর কোরিয়া দাঁড়াবে চিনের পক্ষে, তৃতীয় বিশ্বযু’দ্ধের সম্ভাবনা!

0
1660

ভারত-চিন সীমা’ন্ত সং’ঘা’তকে কেন্দ্র করে, তৃতীয় বিশ্বযু’’দ্ধ বেধে যাওয়া বিচিত্র নয়। চিনের অনমোনীয় আগ্রাসন নীতির কারণে ঘ’টনার গতিপ্রকৃতি কিন্তু সেদিকেই এগোচ্ছে। পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন দু’পক্ষই সে’না বাড়ানোয় এমনিতেই চ’রম উ’ত্তেজনা রয়েছে। এর পর যদি আমেরিকা ভারতের পাশে দাঁড়ায়, তা হলে অবধারিত ভাবেই কিন্তু তৃতীয় বিশ্বযু’’দ্ধ বেধে যাব’ে। গলওয়ান সং’ঘা’ত পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বযু’’দ্ধের যে সমূহ সম্ভাবনা

রয়েছে, তা বিশ্বের অন্যান্য শ’ক্তিধর দেশগু’লোও বুঝছে। কিন্তু, কেউ-ই প্রকাশ্যে চিনকে তার আগ্রাসন নিয়ে কিছু বলছে না। রাশিয়া এখনও পর্যন্ত মুখ বন্ধই রখেছে। গলওয়ান সং’ঘা’তের পর ভারত-চিন দু-পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যায় রাশিয়া। কারণ, না ভারত, না চিন কেউ-ই তৃতীয়পক্ষের হস্ত’ক্ষেপে রাজি হয়নি। বর্তমান প’রিস্থিতি রাশিয়া কাকে শেষ পর্যন্ত সমর’্থন করবে, কার পাশে গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায়

রয়েছে গোটা বিশ্ব। এমনকী রাশিয়া নিজেও ধ’ন্দে রয়েছে। তার কারণ ভারত তার পুরনো বন্ধু। অন্য দিকে, চিনের স’ঙ্গেও রাশিয়ার সম্প’র্ক এখন ভালো। তাই রাশিয়া পুরনো মিত্র নাকি নয়া মিত্রের পাশে দাঁড়াবে তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি। ভারতের পাশে আমেরিকা দাঁড়ালে, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া দাঁড়াবে চিনের পিছনে। ভারত-চিন যু’’দ্ধ যদি শেষ পর্যন্ত বাধেই সে ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকা নয়, জাপান, অস্ট্রেলিয়াও

ভারতের পক্ষ নিয়ে যু’’দ্ধের ময়দানে নেমে পড়বে। এখনও পর্যন্ত যা প’রিস্থিতি তাতে ভারত-চিন যু’’দ্ধ এড়ানো কিন্তু এ বার মুশকিল। কৃটনৈতিক ও সামর’িক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে ভারত মীমাংসায় আ’গ্রহ দেখালেও চিন কিন্তু ভারতের জমি আঁকড়ে বসে রয়েছে। গলওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নি’য়ন্ত্রণরেখা থেকে তারা ৮০০ মিটার দূরে রয়েছে বলে দাবি করলেও, উপগ্রহ চিত্র কিন্তু সে কথা বলছে না। ভারতীয় ভূ-খণ্ডের যে অংশ চিন অবৈ’ধ

ভাবে দ’খল করে, স্থায়ী কাঠোমো গড়ে তুলেছে, সেখান থেকে সরার নাম করছে না। ভারত যে চিনের এই দখ’লদারি এ বার মানবে না, তা লাদাখ সীমা’ন্তে যু’’দ্ধের প্রস্তুতিতেই পরিষ্কার। শুধু গলওয়ানের জমি নয়, লাদাখ থেকে কেড়ে নেওয়া আকসাই চিনের জমিও ভারত এ বার বুঝে নিতে চায়। ১৯৬২ সালের যু’’দ্ধের পর থেকেই আকসাই চিন তাদের দ’খলে রেখেছে বেজিং। বিশেষত, এমন একটা প’রিস্থিতিতে যখন আমেরিকার মতো

শ’ক্তিধর বন্ধু পাশে রয়েছে। তবে, আমেরিকার শ’ক্তিতে ভরসা করেই যে ভারত যু’’দ্ধে নামবে, তা কিন্তু নয়। চিনকে মো’কাবিলায় ভারতের শ’ক্তি কিন্ত কম নেই। লাদাখে ইতিমধ্যে তিন বাহিনীর ১৫ হাজারেরও বিশে সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। পার্বত্য এলাকায় ভারতের এই ১৫ হাজার সৈন্যের মো’কাবিলায় চিনের অন্তত ৫ লক্ষ সে’না লাগবে। এমনটাই মনে করেন সমর’ বিশেষজ্ঞরা। চিনের বি’রু’দ্ধে তোপ দাগতে ভারতের অত্যন্ত শ’ক্তিধর ভীষ্ম ট্যাংকও লাদাখে অ’পেক্ষা করছে। লাদাখ সীমা’ন্তের অবহ চাক্ষুষ করতে সে’নাপ্রধান নিজে কয়েক দিন আগে ঘুরে গিয়েছেন। ফিল্ড কম্যান্ডারদের স’ঙ্গে কথা বলেছেন। এখন উপরতলা থেকে খালি নির্দেশের অ’পেক্ষা। এর মধ্যে চিন আর একবার কোনও ভাবে প্ররোচানা দিলে, তা বা’রুদে আ’গু’ন পড়ার মতোই হবে। সে’নাকে ফ্রি-হ্যান্ড দিয়েই রেখেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। অবস্থা বুঝে সি’দ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষ’মতা সে’নার হাতেই ছাড়া রয়েছে। এর পর তো আমেরিকা রইল। চিনকে বারবার সতর্ক করে থেমে নেই আমেরিকা। মা’র্কিন সে’না কিন্তু ইউরোপ ছেড়ে এদিকেই আসছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে বড় সংখ্যক মা’র্কিন সে’না চলে আসবে বলে নিশ্চিত করেছেন মা’র্কিন বিদেশস’চিব মাইক পম্পেও। আমেরিকার মাথায় শুধু ভারত নয়। একইস’ঙ্গে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সও রয়েছে। ভারতের মতো এই দেশগু’লিও কিন্তু চিনা সে’নার অবিরাম হু’মকির শি’কার। ফলে,

চিনকে শায়েস্তা করতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সকেও সুরক্ষা দেবে আমেরিকা। চিনের পিপল’স লিবারেশন আ’র্মির (PLA) মো’কাবিলায় কতসংখ্যক মা’র্কিন সে’না এশিয়ায় মোতায়েন করা হবে, সে হিসেব কষতে বসেছে আমেরিকা। বছরের পর বছর ধরে রাশিয়ার আগ্রাসন সামল দিতে ইউরোপের একাধিক দেশে সামর’িক ঘাঁ’টি গড়ে তুলেছে আমেরিকা। এখন রাশিয়া নয়, চিন ও চিনের কমিউনিস্ট পার্টিকেই বিশ্বের জন্য হু’ম’কি স্বরূপ মনে হয়েছে মা’র্কিন যুক্তরাষ্ট্রর। তাই জার্মানিতে মা’র্কিন ফোর্স ৫২ হাজার থেকে কমিয়ে ২৫ হাজারে নামিয়ে আনবে আমেরিকা। বাকি ২৭ হাজার মা’র্কিন সে’না আসছে এশিয়ায়। জার্মানির স’ঙ্গে এ নিয়ে আমেরিকার কথাও হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ চিন সাগর এবং পূর্ব চিন সাগর উভ’য় ক্ষেত্রেই আঞ্চলিক বি’রোধে জড়িয়ে রয়েছে চিন। সীমা’ন্ত নিয়েও ভারতের মতো একাধিক দেশের স’ঙ্গে চিনের সং’ঘা’ত রয়েছে। একাধিক দেশের স’ঙ্গে চিনের সং’ঘা’ত রয়েছে। অনেক কটটি দ্বীপপুঞ্জ বেআইনি ভাবে চিনের নি’য়ন্ত্রণাধীন। গলওয়ানে চিনাসে’না ভারতের বিরু’’দ্ধে হিং’সাত্মক সামর’িক সং’ঘা’তে জড়ানোর পরেই আমেরিকার কিন্তু, ধৈ’র্যের বাধ ভে’ঙেছে। ১৫ জুন রাতে ওই সং’ঘর্ষে বিহার রেজিমেন্টের এক অফিসার-সহ ২০ ভারতীয় সে’না শহিদ হন। দক্ষিণ চিন সাগরে ক্রমাগত চিনাসে’নার আগ্রাসনও চ’টিয়েছে আমেরিকাকে। তাই শুধু সে’না নয়, তিন তিনটি মা’র্কিন রণতরিও চলে এল বলে। প্রশ্ন

উঠছে, তৃতীয় বিশ্বযু’’দ্ধের মতো এমন একটা প’রিস্থিতি এল কেন? কেন, গোটা বিশ্ব এক হয়ে চিনের সম্প্রসারণবা’দী নীতি এবং সামর’িক কার্যক্রমের বিরু’দ্ধে প্রশ্ন করছে না? যদি সত্যিই তৃতীয় বিশ্বযু’’দ্ধ বেধে যায়, তার প্রভাব কিন্তু ভারত-চিন গণ্ডি বা শুধু এশিয়ার মধ্যে সীমাব’দ্ধ থাকবে না। চিনকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখাই যে আমেরিকার কৌশল, মা’র্কিন বিদেশস’চিব মাইক পম্পেও সে ই’ঙ্গিত আগেই দিয়েছেন। পম্পেওর আভাস থেকেই পরিষ্কার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকেই চিন আসল অ’বরোধ মুখে পড়তে চলেছে। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপিন্সের মতো দেশগু’লি দক্ষিণ চিন সাগরে বারবার চিনের সামর’িক আগ্রাসনের মু’খোমু’খি হচ্ছে। আমেরিকা যে তা মানবে না, স্পষ্ট করে দেন পম্পেও। ১৯৮৮ সাল থেকেই ফিলিপিন্সের স’ঙ্গে আমেরিকার চুক্তি রয়েছে। চিনের ক্রমাগত হু’মকির প্রেক্ষিতে ভিয়েতনামও আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। উপকূলরেখার সুরক্ষায় মা’র্কিন নৌসে’না ভিয়েতনামকে সাহায্য পাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার স’ঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে আমেরিকা। সি’ঙ্গাপুরের বিমান ও নৌঘাঁটি ব্যবহারেও আমেরিকা চুক্তি করে রেখেছে। এই দেশগু’লিতে মা’র্কিন সে’না সমা’রোহ বাড়লে চিন কিন্তু চারদিক থেকে ঘেরাটোপের মধ্যে পড়বে। এ ছাড়া সরাসরি যু’’দ্ধবিমান পাঠিয়ে, তাইওয়ানকেও হু’মকি দিয়েছে চিন। তাইওয়ানে মা’র্কিন সে’নার পাকাপাকি কোনও ঘাঁ’টি না-থাকলেও প্র’শিক্ষণ ও ন’জরদারি চালাতে প্রায়শই যাতায়াত রয়েছে। তিন মা’র্কিন বিমানবাহী ক্যারিয়ার তাইওয়ানের কাছেই অ’পেক্ষায় রয়েছ। চিন এবং তার দোসর উত্তর কোরিয়ার মো’কাবিলায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, মা’র্কিন সামর’িক ঘাঁ’টিগু’লি রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে। শুধু দক্ষিণ কোরিয়ায় তিন বাহিনী মিলিয়ে ২৮ হাজার মা’র্কিন সে’না রয়েছে। জাপানে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৩ ঘাঁটি রয়েছে আমেরিকার। রয়েছে ৫৪ হাজার সৈন্য। সেখানে ৫০টি মা’র্কিন যু’’দ্ধজাহাজ এবং ২০ হাজার মা’র্কিন নৌসে’না সবসময় তৈরি রয়েছে। এ ছাড়া গু’য়াম নামে ছোট্ট একটা দ্বীপে আরও ৫০০০ সৈন্য রয়েছে আমেরিকার। সূত্র: বিপ্লব রায়, এই সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here