রেড জোনে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে!

0
116

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বসবাসকারী নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকা অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিতে এলাকাভিত্তিক রেড জোনে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের বিকল্প ভাবছে স’রকার।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক’রোনা সং’ক্র’মণের উচ্চ ঝুঁ’কিপূর্ণ এলাকায় রেড জোন ঘোষণা করে গোটা এলাকা পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের চিন্তাভাবনা করা হলেও এখন সে সি’দ্ধান্ত থেকে স’রকার সরে আসতে চায়। এজন্য আংশিক কিংবা নির্দিষ্ট বাড়িঘর লকডাউন করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায় সে বি’ষয়ে করণীয় ঠিক করতে বিশেষজ্ঞরা দফায় দফায় আলোচনায় বসছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, আপাতত রাজধানীর অন্যান্য এলাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জে’লায় পূর্ণাঙ্গ লকডনের চিন্তা করছেন না তারা। এর পরিবর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে ক’রোনা সংক্রমিত রো’গীর জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশে আইসোলেশন থাকার ব্যবস্থা করা, সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের নমুনা পরীক্ষার সুযোগ করে দেয়ার পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইনে রাখা এবং নি’য়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার সহজ উপায় খোঁজা হচ্ছে।

তারা বলেন, রেড জোনে আ’ক্রান্ত ব্যক্তির কারণে লকডাউন ঘোষণা করা হলে ওই এলাকায় বসবাসকারী নিম্নআয়ের ব্যবসায়ী, বেস’রকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীসহ অন্যান্য পেশার মানুষজন যেন আর্থিক ক্ষ’তির কবলে না পড়ে, ওই বি’ষয়টি প্রাধান্য দিয়ে সং’ক্র’মণ প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তাহলে কেন আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা রেড জোনে তালিকাভুক্ত হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই তালিকা নিজেদের কাজের সুবিধার জন্য তৈরি করা হলেও কোনো না কোনোভাবে তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

এ বি’ষয়ে স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ‘গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশের অর্থনীতি কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। এতে লাখ লাখ মানুষ আর্থিক সং’কটে পড়েছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে এখন মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাস্তাঘাটে লোকজন চলাফেরা করছে, স’রকারি-বেস’রকারি প্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় শপিংমল ও মার্কেট খুলেছে। এখন আবার কোনো এলাকা পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করা হলে তার প্রভাবে অনেকেই ক্ষ’তিগ্রস্ত হবেন।’

এদিকে দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে রেড জোনভুক্ত এলাকার সুনির্দিষ্ট তালিকা পেলে এবং কী কী উপায়ে লকডাউন করা হবে তা জানানো হলে তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে লকডাউন কার্যকরের ব্যবস্থা নেবেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করে ক’রোনাভা’ইরাসে সং’ক্র’মণ রোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করা হবে।

এ বি’ষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, যেকোনো এলাকা লকডাউন করার আগে ওই এলাকা সম্পূর্ণরূপে লকডাউন করার আ-দৌ প্রয়োজন আছে কি-না, লকডাউন করা হলে ওই এলাকায় অবস্থিত অফিস-আ’দালতে উপস্থিতিজনিত সমস্যা হবে কি-না বা বা নিম্নআয়ের মানুষের আয়-রোজগারের ও’পর বিরূপ প্রভাব ফেলবে কি-না তা বিবেচনা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অধিক সংক্রমিত এলাকায় কী উপায়ে সং’ক্র’মণ প্রতিরোধ করা যায় সে বি’ষয়টি বিশেষজ্ঞরা রিভিউ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here