সাবালিকা হবার পর কম বা বেশি প্রত্যেক রা’তেই আমাকে ধ’র্ষণ ক’রা শুরু হলো

0
341

সাবালিকা হয়েই বদলে গেলো সবকিছু-রুবি মেরির জ’ন্ম হয়েছিল ব্রিটেনের সাউথ ওয়েলসে, যেখানে তার চমৎকার শৈশব কে’টেছে। কিন্তু সবকিছুই বদলে গেলো যখন সে সাবালিকা হলো। যখন তার বয়স ১৫ বছর, তখন ১৯৯৮ সালের একদিন ছুটি কা’টানোর কথা বলে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসলেন তার বাবা-মা।মাত্র ছয় সপ্তাহ আমাদের বাংলাদেশে থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়ে গেলো দুইমাস। এরপরে তিনমাস, তারপরে ছয়মাস। আমরা সবাই বাড়ি আসার জন্য অ’স্থির হয়ে উঠলাম।

বিবিসি বাংলা অনলাইনকে বলছেন মেরি।আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি বাড়ি যেতে চাই, স্কুলে যেতে চাই, বন্ধুদের স’ঙ্গে দেখা করতে চাই। তিনি বলতেন, আমরা অনেক টাকা খরচ করে এখানে এসেছি…এইসব। কিন্তু সেটি ছিল অ’জুহাত, কারণ তখন তিনি আসলে আমার বিয়ের প’রিকল্পনা করছিলেন। রুবি মেরি, ব’য়স যখন পাঁচ বছর। ২০১৪ সাল থেকে ‘ফো’র্সড ম্যা’রেজ’ বা জো’র করে বি’য়ে দেয়ার বি’ষয়টি ব্রিটেনে ‘অ’পরাধ’ হিসাবে তা’লিকাভুক্ত করা হয়েছে।

কিন্তু এরপরে ওয়েলসে এ ধরণের মাত্র একটি অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে আর পুরো যুক্তরাজ্য জু’ড়ে চা’রটি ঘ’টনায় শা’স্তি হয়েছে। যদিও যুক্তরাজ্যের স্ব’রা’ষ্ট্র দপ্তরের হিসাবে, প্রতি বছর ওয়েলসে অন্তত ১০০টি জো’রপূর্বক বি’য়ের ঘ’টনা ঘটছে। এ বি’ষয়ে ক্যা’ম্পেইনাররা বলছেন, এই আ’ইনে বাবা-মা কা’রাগারে যেতে পারে, এ রকম স’ম্ভাবনা থাকায় হয়তো অনেক ভু’ক্তভোগী বা ঘ’টনার শি’কার মে’য়ে সা’মনে এগিয়ে আ’সতে চান না।যেমন বাংলাদেশী বং’শোদ্ভূত ৩৫ বছরের রুবি

মেরি বলছেন, এটা ক’ঠিন, কারণ সবাই তার প’রিবারকে ভা’লোবাসে…কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে’কোনো নি’র্যাতন আ’সলে নি’র্যাতনই। জো’রপূ’র্বক বিয়ের শি’কার হওয়ার সেই পরিস্থিতি নিয়ে রুবি মেরি বর্ণনা করছিলেন যে, প্রায় প্রতিদিনই তিনি ধ’র্ষণের শি’কার হ’তেন, যাতে তার নতুন স্বা’মী দ্রু’ত একটি বাচ্চার পিতা হতে পারেন এবং যু’ক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পান। এখনো সেই দিনের কথা মনে আছে রুবি মেরির, যেদিন প্রথম তিনি নি’জের বি’য়ের কথা জানতে পারেন।একদিন যখন আমরা পরিবারের স’ঙ্গে বসে রাতের খাবার

খাচ্ছিলাম, তিনি (বাবা) বাইরে থেকে এসে খাবার টেবিলে বসে খেতে শুরু করলেন। এখনো আমার সেই দিনের কথা মনে আছে, যেন সেটা গতকালের ঘ’টনা। তার বাবা বলেন, ‘এটা কি চ’মৎকার হবে না, যদি আমরা রু’বির বি’য়ে দি’য়ে দেই? আমি খুবই বি’ব্রত হয়ে গিয়েছিলাম।আমার বয়স তখন খুবই ক’ম, আমার খাবারের প্লে’টটি মেঝেতে ছুঁ’ড়ে ফে’ললাম, চি’ৎকার করে কাঁ’দতে কাঁদতে নিজের রুমে ছুটে গেলাম। আমি আসলে বুঝতে পারছিলাম না, এই খবর আমি

কীভাবে নেব- কীভাবে এর স’ঙ্গে নি’জেকে মে’লাবো?’ বলছেন রুবি মেরি।আমি এরপর যেন একটা দ’রাদরির পণ্যে প’রিণত হলাম। বললেন রুবি মেরি। আমি এরপর যেন একটা দরাদরির পণ্যে প’রিণত হলাম। একজন করে আমার চাচারা এসে আমাকে দেখে যেতে লাগলো আর তারা যেন আমার দর ক’রতে লা’গলো। এটা ছিল ভ’য়াব’হ একটা ব্যাপার।একজন ক্রী’তদাসীর মতো ব্য’বহার করা হচ্ছিল আমার সাথে।আমি ছিলাম একটা অ’পরিচিত দেশে, সেখানে কার কাছে যেতে হবে, তা জানতাম না।

দ্বিগুণ বয়সের একজন ব্যক্তির স’ঙ্গে জো’র করে মেরির বি’য়ে দেয়া হলো। বিয়ের দিন অনেক মানুষ তাকে দেখতে এসেছিল।আমাকে পুতুলের মত সাজানো হল। সবাই উঁকি মে’রে হাসিমুখে নতুন বউ দেখতে এল। শুধুমাত্র বসে বসে আমি ভাবছিলাম, আমি কি একটি ব’স্তু? তখন যেন যা করতে বলা হচ্ছে, তাই করছি। আমার মাথায় তখন শুধু ছিল ব্রিটেনে ফিরে আসার চিন্তা। ব্রিটেনে আসার জন্য যা কিছু করা দরকার, তাই করা।বিয়ের পরেই তার নতুন স্বা’মী

একটি স’ন্তানের জন্য অ’স্থির হয়ে উঠলেন। কম বা বেশি, প্রায় প্রত্যেক রাতেই আ’মাকে ধ’র্ষণ করা শুরু হলো, আমি যাতে তা’ড়াতাড়ি গ’র্ভবতী হতে পারি, যাতে তার (স্বা’মী) ব্রিটেনে আসার একটি পথ তৈরি হয়। এটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা।’রুবি মেরি গ’র্ভবতী হন এবং বাচ্চা জ’ন্ম দেয়ার জন্য ওয়েলসে ফিরে আসেন। শি’শুটির জ’ন্মের পরেই তিনি বাড়ি থেকে পা’লিয়ে যান।এটা তাদের জন্য ল’জ্জাজনক বলে আমার পরিবারের মনে হয়েছে। এরপর অনেক দিনের জন্য আমার পরিবার আমাকে অ’স্বীকার করে গেছে।

এখন জো’রপূ’র্বক বিয়ের বি’রুদ্ধে মানুষজনকে স’চেতন করার জন্য একজন দূ’ত হিসাবে কাজ করছেন রুবি মেরি।কি বলছে ব্রিটিশ স্ব’রা’ষ্ট্র দপ্তর এসব ঘ’টনা ঠে’কাতে এখন যুক্তরাজ্যের স্ব’রা’ষ্ট্র দপ্তর ভাবছে যে, এমন একটি বি’ধান জারি করা হবে, যাতে কি’শোরীদের স’ঙ্গে যারা কাজ করেন, যেমন শিক্ষক বা স’মাজকর্মী, তারা এ ধরণের যেকোনো স’ন্দে’হজনক ঘ’টনা নজরে প’ড়লে ক’র্তৃপক্ষকে জা’নাবেন।

ব্রিটেনের স্ব’রা’ষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা জানি, জো’রপূর্বক বি’য়ে দেয়ার বি’ষয়টি একটি লু’কানো অ’পরাধ। সুতরাং ভু’ক্তভো’গীদের সা’হায্যের সামনে এগিয়ে আসার মতো আ’ত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। বা’ধ্যতামূ’লক ত’থ্য দেয়ার একটি বি’ধান চালু করলে তা ভু’ক্তভো’গীদের অধিকার রক্ষায় আরো বেশি স’হায়ক এবং দা’য়ীদের বি’চারের আ’ওতায় আ’নতে স’হায়তা ক’রবে কিনা, এ বি’ষয়ে আমরা সবার ম’তামত জানতে চাইছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here