এ কী বললেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি!

0
188

দুই থেকে তিন বছরেও ক’রোনা ভাই’রাস দেশ থেকে নির্মূল সম্ভব নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের এই মন্তব্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নেটিজেনরা এনিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। করছেন সমালোচনাও। কেউ কেউ বলছেন, তবে কি আগামী দুই-তিন বছর দেশকে লকডাউনে রাখা হবে?

অনেকে আবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উক্তি নিয়ে রম্যমন্তব্যও করছেন। তুলনা করছেন মা’র্কিন প্রে’সিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা’ম্পের সঙ্গে। কেউ বললেন, এ কী বললেন তিনি? কোথায় তিনি এই সং’কট সমাধানে করণীয় স’ম্পর্কে বলবেন, তা না করে মানুষকে আরও হতাশ করলেন!

বৃহস্পতিবার ক’রোনা ভাই’রাসের পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত বু’লেটিনে উপস্থিত হয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ক’রোনাভা’ইরাসে নির্মূল করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ থেকে ক’রোনাভা’ইরাসে পুরোপুরি দূর করতে ২ থেকে ৩ বছর কিংবা আরও বেশি সময়ও লাগতে পারে।’তবে নির্মূলে সময় লাগলেও দেশে কোভিড-১৯ সং’ক্র’মণের হার ক্রমান্বয়ে কমে আসতে পারে মনে করেন তিনি।

তার এই মন্তব্যকে অনেকে দায়সারা বলেও অভিযোগ করেছেন। বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না, যা দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা হতাশার তৈরি করে।

জনপ্রিয় ছড়াকার জগলুল হায়দার লেখেন, ‘তাইলে কি আগামী দুই-তিন বছর লকডাউনে থাকবো দেশ!?’

সাংবাদিক আমানুর রহমান রনি লেখেন, ‘ওদিকে ট্রা’ম্প, এদিকে ডিজি।’
ফেসবুক ব্যবহারকারী নাহিদ তাহসান লিখেছেন, ‘আচ্ছা উনি কীসের ভিত্তিতে অথবা গ’বেষ’ণা করে এই কথা বলল? ইউরোপ সহ অনেক দেশেই লকডাউন দিয়েই সং’ক্র’মণ কমিয়ে এনেছে। রো’গীর সংখ্যা কমিয়ে এনেছে্। আর এখন ডিজি এসে এইসব প্রলাপ দিচ্ছে…। পারলে ক’ঠোর লকডাউন দিয়ে সং’ক্র’মণ কমান। নাহলে ক’রোনা জীবনেও যাবেনা বাংলাদেশ থেকে…। আর আপনার তো পদত্যাগ বহু আগেই করা দরকার ছিল…!’

তানজিলুল হাকিম নিলয় লেখেন, ‘উনি বলেছেন যাবে না, কমবে হয়তো। কিন্তু ভ্যানিস হতে আসলেই অনেক দেরি। আমি ধারনা করতেছি এটা ভ্যানিসও হবে না।’

লুৎফা বেগম জেসি নামে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ক’ঠোর লকডাউন কি তা তো দেখতেই পাচ্ছি । যেখানে ১৫/ ২০ দিন কারফিউ দিয়ে সংক্রমন কমিয়ে আনা যেত, তা না করে ক’রোনা কে স্হায়ী করার বন্দোবোস্ত করেছে।লাল জোন কালা জোন করতে করতে একমাস শেষ। কিছুই আর বলতে ইচ্ছা করেনা এখন আর। ক’রোনার কারনে দেশে এখন অন্য রো’গের / অ্যাকসিডেন্টের চিকিৎসাও বন্ধ এখন।এসব কিছু তো স’রকারকে কন্ট্রোল করতে হতো।এতো বেশি সমন্বয়হীনতা মানা যায়না।’

অপর একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ডিজি হেলথ ভবি’ষ্যদ্বাণী দিলেন, আরও দু–তিন বছর থাকবে ক’রোনা। কিন্তু সেটাকে নিয়’ন্ত্রণের কোনো পথ বললেন না। এমনকি এর থেকে পরিত্রাণের কোনো রাস্তাও তিনি দেখালেন না।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা ছড়ানো অথবা অন্ধকার দেখানোর জন্য তাঁকে নিশ্চয়ই বেতন দেওয়া হয় না।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘…এখন যখন হতাশাজনক পরিস্থিতি, যখন সবাইকে আশার বাণী শোনানো উচিত, তখন আপনারা বলছেন হতাশার কথা।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারাদিনই ফেসবুকে এনিয়ে বাক্য বিনিময় হচ্ছে। কেউ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের এই বক্তব্যকে মেনে নিতে পারছেন না। দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের গ’বেষ’ণা বহির্ভূত মন্তব্য কেউ করতে পারেন না বলেও মন্তব্য এসেছে সাধারণ মানুষের তরফে।

ক’রোনাভা’ইরাসেে আ’ক্রান্ত হয়ে কয়েক সপ্তাহ অ’সুস্থ ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। শুরুতে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন। কিন্তু শা’রীরিক অবস্থার অবনতি হলে কোনো স’রকারি হাসপাতালকে চিকিৎসার জন্য বেছে না নিয়ে তিনি সম্মিলিত সা’মরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। ভরসা রাখেন সে’নাবা’হিনীর তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হাসপাতালটিতে। ক’রোনামুক্ত হয়ে বৃহস্পতিবারই তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here