আসছে ক’রোনার ভ্যাকসিন, লকডাউন দরকার নেই’

0
323

ম’হামা’রি ক’রোনা নিয়’ন্ত্রণে আর বিস্তৃত লকডাউন প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স’রকারি বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি।
ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক বলেও ফাউসি জানান।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, তিনি আশাবা’দী যে শিগগিরই বিশ্ব একটি ভ্যাকসিন পাবে, যা ম’হামা’রির অবসান ঘটাবে। ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক।

ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের মতো এলাকায় যেখানে সং’ক্র’মণের হার বাড়ছে, সেখানে লকডাউনের প্রয়োজন আছে কি না, সে প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের পরিচালক ফাউসি বলেন, ‘আমি মনে করি না, আমরা লকডাউনে ফিরে যাওয়ার বি’ষয়ে আর কথা বলব।’

আমেরিকা সং’ক্র’মণের নিশ্চিত সংখ্যা ও মৃ’ত্যুর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষে। সেখানে প্রা’ণহা’নি ১ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি।

কখন আবার স্কুল চালু করা উচিত? এ প্রশ্নের জবাবে এ বিশেষজ্ঞ দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় স্থানীয়করণ পদ্ধতির ও’পর জো’র দেয়ার কথা বলেন। যেখানে ক’রোনাভা’ইরাসে সং’ক্র’মণের ঘ’টনা নেই, সেখানে স্কুল খুলে দিতে কোনো সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যেসব অঞ্চলে সং’ক্র’মণ এখনো চলছে, সেখানে অপেক্ষা করতে বলেছেন তিনি।

সীমান্ত কবে নাগাদ খোলা হতে পারে—এমন প্রশ্নে ফাউসি বলেন, ‘স্পষ্টতই অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের কিছুটা স্বাভাবিকতার ফিরে আসার আ’গ্রহ রয়েছে। প্রতিদিনই বি’ষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না।’

ফাউসি বলেন, ‘ক’রোনাভা’ইরাসেের টিকার সঙ্গে এইচআইভির টিকার তুলনা করা যাবে না। ক’রোনার টিকার বি’ষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী, কারণ ক’রোনা আ’ক্রান্ত অধিকাংশ রো’গী এ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধী ক্ষ’মতা ভাই’রাসটিকে পরাস্ত করতে পেরেছে। এ থেকে বোঝা যায়, প্রকৃতি আপনাকে এটি দূর করা সম্ভব, সে প্রমাণ দেয়।’

যেহেতু আ’ক্রান্ত ব্যক্তিরা সেরে ওঠার পর তাদের শ’রীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী যে এই অ্যান্টিবডি মানবসৃষ্ট অ্যান্টিজেন দ্বারাও তৈরি হতে পারে।

মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে পশুর ও’পর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের প্রাথমিক গ’বেষ’ণা স’ম্পর্কে তিনি সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেন ফাউসি।

মডার্নার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেদের তৈরি ভ্যাকসিন সাময়িকভাবে এগিয়ে গেলেও এটি চূড়ান্তভাবে সফল হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ও’ষুধ নিয়ে ফাউসি বলেন, যুক্তরাজ্যে স্টেরয়েড ডেক্সামেথাসনের পরীক্ষার ফলাফলে তিনি মুগ্ধ। ও’ষুধটি পরীক্ষায় ভেন্টিলেশনে থাকা কোভিড-১৯ রো’গীদের মৃ’ত্যুঝুঁ’কি এক–তৃতীয়াংশ কমাতে স’ক্ষম হয়েছে। তবে এ ও’ষুধ রো’গীর সং’ক্র’মণের পরপরই না দিতে পরামর্শ দেন যুক্তরাষ্ট্রের এ বিশেষজ্ঞ।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত ক’রোনায় আ’ক্রান্ত যেসব রো’গীর ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেনের প্রয়োজন, সেই রো’গীদের জীবন বাঁচাতে ডেক্সামেথাসন অত্যন্ত কার্যকর বলে দেখা গেছে। এটা এক ধরনের স্টেরয়েড। তবে মৃদু উপসর্গযুক্ত রো’গীদের জন্য এই ও’ষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

বিবিসির খবরে বলা হয়ে, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই গ’বেষ’ণা চা’লিয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় দুই হাজার ক’রোনা রো’গীর দেহে ডেক্সামেথাসন পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। তা থেকে প্রা’প্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভেন্টিলেশনে থাকা রো’গীদের ক্ষেত্রে মৃ’ত্যুঝুঁ’কি ৪০ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে কমে আসে। আর যেসব রো’গীর অক্সিজেন গ্রহণের প্রয়োজন হয়, তাদের মৃ’ত্যুঝুঁ’কি ২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে কমে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃদু উপসর্গ থাকা ক’রোনা রো’গীদের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসন খুব একটা কার্যকর নয়। অর্থাৎ, যেসব ক’রোনারো’গীর শ্বাসক’ষ্টের সমস্যা হয় না, তাদের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসন প্রয়োজন নেই। এ বি’ষয় নিয়েই সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রো’গ গবেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here