রেড জোনে আসছে ছুটির প্রজ্ঞাপন, ১৬ জুন থেকে নতুন নির্দেশনা

0
302

ক’রোনা ভাই’রাসের সং’ক্র’মণের কারণে টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস খোলা এবং গণপরিবহন চলাচলের সময় শেষে নতুন নির্দেশনা দিচ্ছে স’রকার।

গত ৩০ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চলাচল ও গণপরিবহন চালুর নির্দেশনা দেয় স’রকার। এখন ১৬ জুন থেকে নতুন নির্দেশনা মানতে হবে।

রোববার (১৪ জুন) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সারাদেশে যে অবস্থায় ছিল, ঠিক একই অবস্থা চলমান থাকবে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, এখন আমরা ক’রোনা ভাই’রাসের সং’ক্র’মণের ভিত্তিতে জোনিং করেছি। অধিক সংক্রমিত এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে এসব স্থানে স’রকারি, আধা-স’রকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেস’রকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

জনপ্রশাসন ম’ন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আজকেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রেড জোনে সাধারণ ছুটি থাকবে। যাতে মানুষ বাইরে না যায়, ভেতরে না আসে। স’রকারি, আধা-স’রকারি এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে নির্দেশনা দেবে জনপ্রশাসন ম’ন্ত্রণালয়। সাধারণ ছুটির প্রস্তাবনা করেছি, আশা করি আজকের মধ্যে দিতে পারবো। আর বেস’রকারি অফিসের ছুটির বি’ষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারি করা হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা স্পেসিফিক এরিয়া লকডাউন করবো। ১৪-২১ দিন লকডাউন থাকবে। সেখানে খাবার পৌঁছানো, অন্য রো’গী থাকলে তার সেবা প্রা’প্তির জন্য কমিটি এবং হেল্প লাইন থাকবে। এছাড়াও ক’রোনার বার্তা পেতে মোবাইল ট্রেসিং ও মোবাইল অ্যাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লকডাউন এলাকায় সংক্রমক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করা হবে জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় থেকে আমরা এ সংক্রান্ত রেজুলেশন পেয়েছি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একাধিক ওয়ার্ড এবং তিন জে’লার বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির গতকাল শনিবারের সভায় এসব এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়। সভার একটি কার্যবিবরণী থেকে এসব ত’থ্য জানা গেছে।

সভার সি’দ্ধান্তে বলা হয়েছে, জে’লার জে’লা প্রশাসক, সিভিল সার্জন এবং পু’লিশ সুপার মিলে এসব জোনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে লাল এলাকা চিহ্নিত করবেন।

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মোট ৪৫টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৭ এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকা আছে। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ১১টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে পড়েছে।

ঢাকার বাইরে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জে’লার একাধিক উপজে’লাকে রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সেন্ট্রাল টেকনিক্যাল গ্রুপের সভায় এই সি’দ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি:

উত্তর সিটি করপোরেশনের যে ১৭ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো: বসুন্ধরা, বাড্ডা, ক্যা’ন্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্ম’দপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রায়েরবাজার, রাজাবাজার, উত্তরা, মিরপুর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি:

দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকার মধ্যে আছে: যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরিবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সেগুনবাগিচা।

চট্টগ্রাম সিটি:

চট্টগ্রাম সিটির ১০ এলাকাকে রেড জোনের মধ্যে রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো, চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

আরও তিন জে’লা:

ঢাকার বাইরের তিন জে’লার মধ্যে গাজীপুরের সব কটি উপজে’লাকে রেড জোনের আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জে’লার আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর এবং পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রামের যেসব এলাকায় প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় ১৪ দিনে ৬০ জন আ’ক্রান্ত হয়েছে সেসব এলাকাকে রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে এই অনুপাত লাখে ১০।

নারায়ণগঞ্জ জে’লার সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাস্তব পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সি’দ্ধান্ত নেব কোন এলাকার কোন অঞ্চলকে রেড জোন করা হবে। পুরো অঞ্চলকে লকডাউন করা সম্ভব না। যে পয়েন্টে রোগী সংখ্যা বেশি সেটিকে চিহ্নিত করা হবে। সিভিল সার্জন বলেন, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে এখন সং’ক্র’মণ বাড়ছে। তবে সিটি এবং সদরে পরিস্থিতি নিয়’ন্ত্রণে আছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী অবশ্য মনে করেন, সিটি এলাকার পুরোটাই এখন লকডাউন করা উচিত বলেন মনে করেন তিনি।

আর নরসিংদীর সদর মডেল থানা, মাধবদী ও পলা’শ এলাকা।

গতকালের সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল গ্রুপ তাদের এলাকায় রেড জোন চিহ্নিত করতে সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া তারা স্থানীয় প্রশাসনের সি’দ্ধান্তগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। গতকাল টেকনিক্যাল কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। তবে সি’দ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি।

কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল গ্রুপের সদস্য ও স’রকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়’ন্ত্রণ ও গ’বেষ’ণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা বলেন, কিছু কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করা হচ্ছে। ঢাকার এলাকাগুলোতে আমরা সহযোগিতা করছি। কিন্তু নির্দেশনা হচ্ছে, সিভিল সার্জন মহোদয়েরা নিজেরাই ঘোষণা করবেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করব। এটা স্থানীয়ভাবেই নিয়’ন্ত্রণ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সি’দ্ধান্ত হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

গতকালের সভায় রেড জোনের আওতায় যেসব এলাকাকে ফেলা হয়েছে সে বি’ষয়ে জানতে চাইলে মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ‘এই তালিকা কিন্তু আমরা প্রকাশ করিনি।’ ঢাকা উত্তর সিটির ১৭ এলাকার একটি তালিকা রেড জোনের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার বি’ষয়টি দাপ্তরিকভাবে এখনো তাঁকে জানানো হয়নি বলে জানান উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তবে তিনি ম’ন্ত্রণালয় মারফত বি’ষয়টি জানতে পেরেছেন। আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৭টি এলাকার বি’ষয়টি জেনেছি। কিন্তু এখানে যেসব এলাকার কথা বলা হয়েছে সেগুলো সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যেমন আগে বলা হয়েছিল রাজাবাজার। পরে দেখা গেল, শুধু পূর্ব রাজাবাজারকে লকডাউন করতে হবে। এখন কোনো এলাকা যদি রেড জোনের মধ্যে ফে’লে তা লকডাউন করতে হয় তবে আমাকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় দিতে হবে। কারণ আমাদের প্রস্তুতির দরকার আছে।’

ঢাকা উত্তর সিটির পূর্ব রাজাবাজের গত ৯ জুন রাত ১২টা থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজে’লার তিনটি ওয়ার্ড, মাধবদীর বিরামপুর এলাকা ও পলা’শের চরসুন্দর এলাকা এখন লকডাউন আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here