Home Blog

বেশি দিন বাঁচতে চাইলে আজই বাদ দিন এই ৪টি কাজ!

0

সব মানুষই চায় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন।এর জন্য যে কাজ গুলো করতে হয় তা করতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খান। মানুষ ভবি’ষ্যতের লাভের জন্য বর্তমানের আ’নন্দকে ত্যাগ করাটা খুব কঠিন মনে করে।

বর্তমান শতাব্দীতে উন্নত ঔষধ, উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও ব্যাক্তি সতর্কতার ফলে বিশ্বের প্রথম সাড়ির দেশ গুলুতে গড় আয়ু বৃ’দ্ধি পেয়েছে।বর্তমানে একজন পুরু’ষের গড় আয়ু ৬৮.৫ বছর এবং একজন ম’হিলার গড় আয়ু ৭৩.৫বছর।

শুধুমাত্র দীর্ঘ জীবন নয় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পাওয়ার জন্য কতগুলো পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই সেই পন্থা গুলো ও এগুলো অনুসরণের মাধ্যমে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করি:

১। প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ বন্ধ করুন: প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক বেশি চিনি, লবণ ও ফ্যাট থাকে এবং এইসব খাবারে ফাইবার/ আঁশ কম থাকে। প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে হা’র্ট অ্যা’টাক, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁ’কি বাড়ে।তাই আপনার খাদ্য তালিকা থেকে প্রসেসড ফুড বাদ দিয়ে শাকসবজি, ফলমূ’ল ও আঁশ জাতীয় খাবার খান,ধূমপানের অভ্যাস থাকলে বাদ দিন এবং প্রচুর পানি পান করুন।

২। নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন: নেতিবাচকতা আপনার ভে’তরের শ’ক্তিকে ন’ষ্ট করে দেয় এবং আপনার স্ট্রে’স লেভেল বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রাগ, হতাশা, বি’ষণ্ণতা ও উ’দ্বি’গ্নতা বৃ’দ্ধি পায় এবং অধিক খাওয়ার প্রবণতা বৃ’দ্ধি পায়। তাই নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচক হোন। আপনার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন এতে আপনার স্ট্রে’স কমবে ফলে আপনি দীর্ঘজীবী হবেন।

৩। একভাবে বসে থাকবেন না: বর্তমানের একটি গবে’ষণায় পাওয়া গেছে যে, ব্যায়ামের মাধমে দীর্ঘমেয়াদি অ’সু’খ যেমন- ক্যা’ন্সার ও স্থূলতা র সম্ভাবনা কমায়। দিনে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম আপনার আয়ু বাড়িয়ে দেবে। ২০১১ সালে The Lancet e প্রকাশিত গবে’ষণা পত্রে দেখা গেছে যে, দিনে ১৫ মিনিটের ব্যায়াম যারা করেছেন তাদের আয়ু ৩ বছর বৃ’দ্ধি পেয়েছে এবং যারা দিনে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেছেন তাদের আয়ু ৪ বছর বৃ’দ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের ৪১৬০০০ না’রী ও পুরু’ষ কে নিয়ে এই গবে’ষণাটি করা হয়। তাই দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা লাভের জন্য সারাদিনের কিছুটা সময় বেছে নিন ব্যায়ামের জন্য।

৪। রাতের ঘুম ছাড় দেবেন না: ঘুমের ব্যাপারে কার্পণ্য করবেন না। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এর জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন । ২০০৭ সালে ঘুম বি’ষয়ক একটি জার্নালে প্রকাশিত গবে’ষণা পত্র থেকে জানা যায় যে , ঘুমের হ্রাস বৃ’দ্ধি মানুষের মৃ’ত্যু হারের উপর প্রভাব বিস্তার করে। নিয়মিত কম ঘুমালে হৃদরো’গ,ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো মা’রাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। আর নিয়মিত ভালো ঘুম হলে স্ট্রে’স, ডিপ্রেশন ও হা’র্ট ডিজিজ দ্রু’ত ভালো হয়।

বড় কোন পরিবর্তন নয় ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের জীবনযাপনের ধরণের পরিবর্তন করুন। আপনার বাবা বা দাদা অনেকদিন বেঁচে ছিলেন বলে আপনিও অনেকদিন বেঁচে থাকবেন তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য আপনাকে কোন চেষ্টা করতে হবেনা এমনটা ভাববেন না। আবার আপনার পূর্ব পুরু’ষ রা দীর্ঘায়ু লাভ করেন নি বলে আপনি ও দীর্ঘজীবী হতে পারবেন না এই ধরণের ধারণা বা ভ’য় ও লালন করা ঠিক না। ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করুন এবং জীবনে সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু লাভ করে জীবনকে পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করুন।

এইমাত্র পাওয়াঃ দেখেনিন আইপিএলে সাইফুদ্দিনকে নিয়ে যে দল গুলোর কাড়াকাড়ি

0

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরেই মাঠে গড়াবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলের ১৩তম আসর। আইপিএলের প্রথম আসর থেকেই প্রায় প্রত্যেক আসরেও খেলেছেন কোন না কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। তবে এবারের আসরে বাংলাদেশী কোন প্রতিনিধি থাকছেনা। যদিও এই আসরেও খেলার কথা ছিল এক বাংলাদেশী ক্রিকেটারের।

নি’ষেধাজ্ঞায় থাকাতে এবারের আইপিএলে নাম ছিলোনা সাকিবের। অন্যদিকে মোস্তাফিজ সহ বেশ কিছু ক্রিকেটার নিলামে থাকলেও দলে নিতে আ’গ্রহ দেখায়নি কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে পেস অলরাউন্ডার মোহাম্ম’দ সাইফুদ্দীনকে দলে ভেড়াতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা ছিল দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই সময় নিজের ইনজুরির কারণে আইপিএল খেলার স্বপ্ন ছাড়তে হয়েছে এই অলরাউন্ডারকে। সম্প্রতি ক্রিকেট ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিক্রিকটাইমের ফেইসবুক পেজে লাইভে সাইফুদ্দিন জানান আইপিএলে সুযোগ পেতে পেতে হা’রিয়েছেন তিনি।

চেন্নাইয়ের কম্পিউটার বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা লক্ষ্মী নারায়ণ বিপিএল কাজ করেছিলেন ঢাকা প্লাটুনের কম্পিউটার বিশ্লেষক হিসেবে।তিনিই চেন্নাই সুপার কিংসের আলোচনায় নিয়েছিলেন সাইফুদ্দিনের নাম। শুধু চেন্নাই না, সাইফকে দলে ভেড়াতে আ’গ্রহী ছিলো হায়দ্রাবাদের মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণও।

সাইফুদ্দিন বলেন, ‘আইপিএলে খেলা তো স্বপ্ন- বলাই যায়। লর্ডসে শেষ ম্যাচ (পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৯ বিশ্বকাপে) খেলি তখন ভিভিএস লক্ষণ এসেছিলেন আমার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য। আমাদের (বাংলাদেশ জাতীয় দল) কম্পিউটার বিশ্লেষণ তো ভারতীয়- শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরন। সানরাজার্স হায়দরাবাদে কাজ করে। শ্রীনিবাসের কাছে লক্ষণ জানতে চেয়েছিলেন ও (সাইফউদ্দিন) কেমন হবে। সাজানো সবকিছুকে ন’ষ্ট করে দিয়েছে আমার ইনজুরি।’

লক্ষী নারায়ন চেন্নাই অধিনায়ক ধোনির কাছে সাইফুদ্দিনের বোলিং ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। এ নিয়ে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘প্রায় একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যেত। শুনছিলাম আমাকে নিয়ে চেন্নাই আলোচনা করছিল। লক্ষ্মী আমাদের (ঢাকা প্লাটুন) ভিডিও বিশ্লেষক ছিল। ও আমাকে বলেছিল ধোনি তোমার ব্যাপারে কথা বলেছে।

আমি বলেছি, তোমরা সবকিছু করো, শুধু আমাদের বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি। সে বলল, দেখো দেখো, আমি মিথ্যা বলছি না। আমি বলেছিলাম, এসব দিয়ে লাভ নেই। আমাদের বড় ভাই-ভাই, কিন্তু আমাদের পেছন দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফে’লে দেওয়ার মতও হয়।

পরে বলল, তোর ব্যাপারে যে ধোনির সাথে কথা বলেছি এই দেখ, বোলিং ভিডিও পাঠিয়েছি, তুই তো আমাকে বিশ্বাস করলি না। পরে দেখলাম ধোনি আমার বোলিং ভিডিও দেখে বলেছে, ঠিক আছে। ওদের পরিকল্পনা ছিল আমাকে নেওয়ার। কিন্তু চোটের কারণে যেহেতু খেলার বাইরে ছিলাম, তাই আর পরে আ’গ্রহ দেখায়নি। এরপর জশ হ্যাজলউডকে ডাকে।’

গেলবারের বিপিএলেও ইঞ্জুরির কারণে খেলা হয়নি। ইনজুরির কারণে সাইফুদ্দিন যেতে পারেননি ভারত সফরেও। সেই ইনজুরিই সাইফুদ্দিনকে পিছনে ফে’লে দিয়েছে তার স্বপ্ন আইপিএল খেলা থেকে। আক্ষেপ নিয়ে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘আসলে আমার ভাগ্যটা এমনই। ব’য়সভিত্তিক থেকেই। কখনো প্রথমবারেই আমি সফল হইনি। এটা আমার জন্য অনেক ভালো। কোনো কিছু তাড়াতাড়ি পেয়ে গেলে এর মূ’ল্যটা বুঝবো না।’

আইপিএলের নতুন নিয়মে বিপাকে তিন দল

0

ক’রোনার চা’প মাথায় নিয়েই মাঠে গড়াচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ১৩তম আসরে অবশ্য কৌশলগত অনেক পরিবর্তন আনতে বা’ধ্য হয়েছে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। একইসাথে অনেক নিয়মেও এসেছে পরিবর্তন।

তেমনই এক নিয়মের পরিবর্তনে বিপাকে পড়েছে আইপিএলের তিনটি দল- সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, রাজস্থান রয়্যালস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। আসর শুরুর আগে দল তিনটিকে একজন করে খেলোয়াড় বিয়োগ করতে হচ্ছে।

আইপিএলের এই তিন দল ২৫ জন করে খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েছে। ক’রোনা পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী, একটি দল সর্বোচ্চ ২৫ জন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে নিতে পারবে। নিজেদের বাজেট দিয়ে দল তিনটি সর্বোচ্চ সংখ্যক খেলোয়াড়ই দলে ভিড়িয়েছিল।

কিন্তু ক’রোনার কারণে বিসিসিআইকে সবকিছু করতে হচ্ছে মেপে মেপে। ভারতে ক’রোনার প্রাদুর্ভাব বেশি, তাই এবারের আইপিএলের আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত। ক’রোনার প্র’কোপ থেকে দূরে থাকতে বিসিসিআই নিয়ম করেছে, কোনো দলে সর্বোচ্চ ২৪ জন খেলোয়াড় থাকতে পারবেন।

এই পরিস্থিতি তিনটি দলকেই একজন করে ক্রিকেটার ছাঁটাই করতে হবে।তবে এখানেও আছে বিপত্তি। যে ক্রিকেটারকে ইতোমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে তাকে হুট করে দল থেকে বাদ দেওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়! আর্থিক লেনদেনের অনেক ব্যাপারও রয়েছে।

আবার নিয়ম ভে’ঙে ২৫ জন সদস্য নিয়ে আইপিএলে যাওয়ার সুযোগও নেই। এমন পরিস্থিতিতে তিনটি দলই পড়েছে দুশ্চিন্তায়।আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে আইপিএলের ১৩তম আসর। এবারের আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ নভেম্বর।

১৬ আগস্ট থেকে সব ট্রেন চালু হচ্ছে

0

ম’হামা’রি ক’রোনাভা’ইরাসেের কারণে প্রায় ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে ট্রেন চালু হয়েছে। তবে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে সব আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার সি’দ্ধান্ত এসেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল আলম গণমাধ্যমকে এ ত’থ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন রোববার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। রেলওয়েও প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে।

প্রথমে ৮ জোড়া এবং ৩ জুন আরও ১১ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু যাত্রী সং’কটে দুটি রুটের ট্রেন কিছুদিন পরই সাময়িক স্থগিত করে রেল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ১৭ জোড়া ট্রেন অর্ধেক আসন খালি রেখে চলাচল করছে।

রেলপথ ম’ন্ত্রণালয়ের ত’থ্যমতে, ক’রোনার আগে অর্থ্যাৎ স্বাভাবিক সময়ে রেলওয়ের ৩৬২টি ট্রেনের মধ্যে ১০২টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে থাকে। আর বাকি ২৬০টি লোকাল, কমিউটার ট্রেন এবং মালবাহী ট্রেন।

যে থানায় গেছেন বিতর্কের জ’ন্ম দিয়েছেন প্রদীপ

0

যে থানায় গেছেন বিতর্কের জ’ন্ম দিয়েছেন প্রদীপটেকনাফ থানার সদ্য বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ যখন যে থানায় গেছেন সেখানেই তিনি বিতর্কের জ’ন্ম দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (সিএমপি) এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে বি’তর্কি’ত কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। এরপরও অদৃশ্য ইশারায় গুরুত্বপূর্ণ থানায় একের পর এক পোস্টিং নিতে তার কোনো অসুবিধা হয়নি।

২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ঘুরে ফিরে সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী, পতেঙ্গা ও পাঁচলাইশ থানায় প্রদীপ ‘ওসিগিরি’ করেছেন। অ’পরাধ দ’মন না করে তিনি নিজেই নানা অ’পকর্মের স’ঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির একাধিক পু’লিশ কর্মকর্তা জানান, এ ‘গুণধর’ কর্মকর্তা যে থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন সেই থানায় তিনি নানা বি’তর্কি’ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স’রকার ও পু’লিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি থাকাকালে প্রদীপ দাশ ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর মিথ্যা মা’মলা দিয়ে রিফাইনারি মালিক সেলিম আহমেদকে হ’য়রানি করেন। রিফাইনারির একটি ভাউচার আ’টকে দিয়ে নানা অজুহাতে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় ওই ব্যবসায়ীর বি’রুদ্ধে মা’মলা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে পু’লিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওসি প্রদীপসহ জ’ড়িতদের বি’রুদ্ধে ওই ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ করেন। ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ত’দন্ত কমিটি অভিযোগ ত’দন্ত করে। ত’দন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রদীপসহ তিন পু’লিশ কর্মকর্তার বি’রুদ্ধে শা’স্তিমূ’লক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রদীপসহ তিন পু’লিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পু’লিশ হেড কোয়ার্টার। বরখাস্ত হওয়া অপর দুই কর্মকর্তা হলেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই সুজন বিশ্বাস ও এসআই একরামুল হক। ২০১৫ সালের ১ মে নগর যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল খু’ন হন।

বাসার সামনে মেহেদীকে পেছন থেকে গু’লি করে হ’ত্যা করে স’ন্ত্রাসী সাদ্দাম। মেহেদীর কারণে সেখানে চাঁ’দাবাজিসহ অ’বৈধ কাজে সুবিধা করতে পারছিল না একটি পক্ষ। অভিযোগ ওই পক্ষের কাছ থেকে অ’নৈতিক সুবিধা নিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ।

এ জন্য মেহেদীর প্রকৃত খু’নিদের গ্রে’ফতারে নির্লি’প্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া মেহেদীর খু’ন হওয়ার দিন র’হস্যজনক কারণে প্রদীপ ছুটিতে ছিলেন।

সূত্র জানায়, অ’পরাধ দ’মনের চেয়ে অ’পরাধীদের স’ঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে প্রদীপ নিজেই ‘অ’পরাধে’ জড়িয়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। একের পর এক বিতর্কের কারণে তাকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়। বদলির পাঁচ মাস না যেতেই ২০১৬ সালের মে আবার সিএমপিতে তাকে পদায়ন করা হয়। এরপর সিএমপি থেকে কক্সবাজারে তাকে পদায়ন করা হয়।

২০১২ সালে প্রদীপ পতেঙ্গা থানায় দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় একটি বিদেশি জাহাজকে তেল সরবরাহে বা’ধা এবং আ’টকের ১৮ দিন পর একটি বার্জ মালিকসহ ১২ জনের বি’রুদ্ধে বিশেষ ক্ষ’মতা আইনে মা’মলা দেন প্রদীপ।

হ’য়রানি ও অ’নৈতিক সুবিধা নেয়ার ঘ’টনায় তার বি’রুদ্ধে পু’লিশ সদর দফতর এবং আরও তিনটি গো’য়েন্দা সংস্থা ত’দন্ত শুরু করে। এ ঘ’টনার জেরে কিছুদিন পর তাকে পতেঙ্গা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পাঁচলাইশ থানায় ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০ জুলাই বি’রোধী দলের দুই কর্মীকে গু’লি করে হ’ত্যা করা হয়। এ দুই হ’ত্যাকাণ্ডের স’ঙ্গে প্রদীপ দাশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। পাঁচলাইশ থানার বাদুড়তলা এলাকায় বি’রোধী দলের মিছিলে বা’ধা দিতে গেলে পু’লিশের তিন সদস্যকে মা’রধর এবং পু’লিশের গাড়ি ভাং’চুর করা হয়।

ঘ’টনায় গো’য়েন্দা সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনে প্রদীপের উসকানিকে দায়ী করা হয়। স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ের গঠিত ত’দন্ত টিমের ত’দন্তে তার বি’রুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাকে পাঁচলাইশ থানা থেকে গো’য়েন্দা বিভাগে বদলি করা হয়।

এরপর নগর গো’য়েন্দা বিভাগ থেকে বদলি হয়ে টাকার খনি খ্যাত শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় যান। সেখান থেকে তদবির করে পোস্টিং নেন বায়েজিদ বোস্তামী থানায়।

২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাংলাবাজার এলাকায় রহমত উল্লাহ প্রকাশ ন্যাংটা ফকির ও তার খাদেম আবদুল কাদের প্রকাশ্যে খু’ন হন। তখন ওই থানার ওসি ছিলেন প্রদীপ। তার আমলে সেখানে অন্তত ১০টি হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটে।

এর আগে কোতোয়ালি থানার এসআই থাকাকালে নগরীর পাথরঘাটায় এক হিন্দু বিধবা ম’হিলার জমি দ’খলের অভিযোগ ওঠে প্রদীপের বি’রুদ্ধে। পাঁচলাইশ থানা এলাকায় নিজের বোনের জমি নামে থাকা একটি জমি দ’খলের অভিযোগও ওঠে তার বি’রুদ্ধে।

মেজর (অব.) সিনহা হ’ত্যাকাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন খল নায়ক ইলিয়াস কোবরা

0

সে’নাবা’হিনীর সাবেক মেজর সিনহা টানা কয়েকদিন ইয়াবা বাণিজ্যের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরিকালেও ‌বি’পদমুক্ত’ ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমারের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করাটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

ক্র’সফা’য়ারের নামে নৃ’শংসভাবে খু’ন করা অসংখ্য মানুষের র’ক্তে রঞ্জিত প্রদীপ কুমারও ভিডিও সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় বারবারই কেঁপে উঠেন। মেজর সিনহা’র ত’থ্যবহুল প্রশ্নের পর প্রশ্নে চ’রম অস্বস্তিতে পড়েন ওসি। নানা অজুহাতে ভিডিও সাক্ষাৎকার এড়ানোর সব কৌশল খাটিয়েও ব্যর্থ ওসি প্রদীপ বা’ধ্য হয়েই প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে থাকেন, ভিডিওচিত্রে মেজরের উদঘাটন করা নানা ত’থ্যের সামনে সীমাহীন নাস্তানাবুদ হন তিনি।

মেজর সিনহা হ’ত্যাকাণ্ডের দিন বিকেল চারটার দিকে টেকনাফের বহুল বি’তর্কি’ত ওসি প্রদীপ কুমার দাস ওই ডকুমেন্টারি ভিডিও সাক্ষাৎকারের ফাঁ’দে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানায়, ক্র’সফা’য়ারে অতিমাত্রায় উৎসাহী ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগিরা ইয়াবা বাজারজাত ও পা’চারের ক্ষেত্রেও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকার কথা স্বীকার করতেও বা’ধ্য হন। সফল সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেই মেজর সিনহা আর একদ’ণ্ড সময় ক্ষেপণ করেননি।

ঝড়ের বেগে থানা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসেন। তার স’ঙ্গে ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ব্যস্ত থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতও ক্যামেরা, ট্রাইপড, ব্যাগ গোছাতে গোছাতেই ছুটে গিয়ে গাড়িতে উঠতেই টেকনাফ সদর ছেড়ে গাড়িটি ছুটতে থাকে উত্তর দিকে, বাহারছড়ার পথে। বাহারছড়া সংলগ্ন মারিসঘোণা এলাকাতেই বসবাস করেন চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপ পরিচালনাকারী ইলিয়াস কোবরা। হঠাত তার টেলিফোনে করা আমন্ত্রণ পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারেননি মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খান।

এদিকে থানা থেকে মেজর সিনহা বেরিয়ে যেতেই ওসি প্রদীপ অচিরেই বড় রকমের বি’পদের আ’শঙ্কায় তৎক্ষনাত কক্সবাজারের এসপি মাসুদকে ফোন করে বিস্তারিত জানিয়ে দেন। সব শুনে এসপি নিজেও উ’দ্বি’গ্ন হয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটেই এসপির নির্দেশনায় তৈরি হয় ‌মেজর সিনহা’র নৃ’শংস হ’ত্যার নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনা। আলাপ আলোচনা শেষে এসপি-ওসি এমনভাবেই ত্রিমুখী মার্ডার মিশন সাজিয়েছিল- সেই ফাঁদ থেকে মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানের প্রা’ণে বাঁচার কোন সুযোগই ছিল না।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপের পরিচালক ইলিয়াস কোবরাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, আতিথেয়তার নামে নানা কৌশলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেজর সিনহাকে তার নিভৃত পাহাড়ি গ্রামে আট্কে রাখার। চলচ্চিত্রের স’ঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরিচিতি থাকলেও ইলিয়াস কোবরা ইদানিং ‌‍’ক্র’সফা’য়ার মিট মিমাংসার দালালি’ কাজেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

ক্র’সফা’য়ারের তালিকায় নাম থাকার গুজব ছড়িয়ে অসংখ্য মানুষকে গো’পনে ওসি প্রদীপের স’ঙ্গে সমঝোতা করিয়ে দিয়ে টেকনাফের শীর্ষ দালাল হিসেবে বেশ নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে কোবরার। তবে ক্র’সফা’য়ারের কবল থেকে জীবন বাঁচানোর সমঝোতায় ওসি প্রদীপ হাতিয়ে নিয়েছেন ১০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে দালালির কমিশন হিসেবে ইলিয়াস কোবরাকেও মাথাপিছু এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাইয়ে দিয়েছেন প্রদীপ।

ওসিসহ পু’লিশ প্রশাসনের কাছে পরীক্ষিত দালাল ইলিয়াস কোবরা ঠিকই তার উপর অর্পিত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। মারিসঘোণায় নিজের বাগানবাড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখার নামে ইলিয়াস কোবরা সেদিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নির্জন পাহাড়েই নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন মেজর সিনহাকে। এ সময়ের মধ্যে মেজরের অবস্থান, কতক্ষণ পর কোন রাস্তায় কোথায় যাবেন সেসব ত’থ্য জানিয়ে কোবরা ৯টি এসএমএস পাঠান ওসিকে।

গণপি’টুনিতে হ’ত্যার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় গ্রামবাসীকে, ওসি বাহিনী অবস্থান নেয় দক্ষিণের বড়ডিল পয়েন্টে- আর উত্তরদিকের শামলাপুর চেকপোস্টে ওৎ পেতেছিলেন খু’নি লিয়াকতের বাহিনী।

মেজর সিনহার প্রা’ণ নিয়ে ফেরার কোনো উপায় ছিল না। পরিকল্পনা মাফিক সন্ধ্যা ৭ টার দিকেই টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস তার পছন্দের দুই এসআই ও দুই কনস্টেবল নিয়ে নিজের সাদা নোহায় এবং আরো ৫/৭ জন পু’লিশ সদস্য অপর একটি মাইক্রোবাসে হন্ত’দন্ত অবস্থায় থানা থেকে মেরিন ড্রাইভওয়ে ধরে উত্তর দিকে ছুটতে থাকে।

ওসি বাহিনী বাহারছড়া-কক্সবাজারের পথে শামলাপুর পু’লিশ ক্যাম্পে যাওয়ার পথেই ইলিয়াস কোবরার নতুন খবর আসে। ওসি প্রদীপকে ফোন করে তিনি জানান, এ মুহূর্তে মেজর সিনহা ও তার ভিডিওম্যান সিফাত মারিসঘোণার পাহাড় চূড়ায় উঠছেন। পাহাড়ের উপর থেকে মেরিন ড্রাইভওয়ে, টেকনাফ সদর, নাফ নদী-মিয়ানমার সীমান্ত এবং দক্ষিণ দিকে সমুদ্রের বিস্তির্ণ অংশ দেখা যায়।

গভীর সমুদ্রের দিক থেকে ছোট বড় ইঞ্জিনবোটগুলো সার্চ লাইটের আলো ফে’লে ফে’লে সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে, আবার ডজন ডজন ইঞ্জিনবোট সমুদ্র সৈকত ছেড়ে গভীর সমুদ্রের দিকেও যেতে থাকে। পুরো দৃশ্যপটের ভিডিওচিত্র ধারন করাটাই হচ্ছে তার ডকুমেন্টারির শেষ দৃশ্য। এ দৃশ্যপটের স’ঙ্গে নেপথ্য কন্ঠ জুড়ে দিতে চান মেজর সিনহা।

তিনি বলতে চান রাত যত গভীর হয়, আধারে নিমজ্জিত হয় সমুদ্রের মাইলের পর মাইল জলরাশি, ঠিক তখনই টেকনাফ সীমান্ত ঘেষা জনপদের কয়েকশ’ মানুষ জেগে উঠেন, তারা মেতে উঠেন অন্যরকম কর্মযজ্ঞে।

শত শত ইঞ্জিনবোট হঠাত করেই যেন সমুদ্রের পানি ফুঁড়ে উঠে আসে উপরে, এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করেই ট্রলারগুলো অ’জ্ঞাত গন্তব্যে ছুটে যায় ইঞ্জনের কর্কশ শব্দ তুলে, ধোঁয়া ছেড়ে।

তখন এসব ট্রলারের প্রতিটাই হয়ে উঠে কোটি কোটি টাকার দামি। কোনো ট্রলারে থাকে পা’চারের শি’কার না’রী-পুরু’ষ, কোনোটা আবার ভরাট হয় লাখ লাখ পিস ইয়াবায়। আবার গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ মাদার ভেসেল থেকে কোনো কোনো ট্রলারে নামিয়ে আনা হয় একে-৪৭ রাইফেল, থাকে আরজিএস গ্রে’নেডের ছড়াছড়ি…

ক’রোনার টিকা পাবে বাংলাদেশও, দাম যতো টাকা হবে!

0

নভেল ক’রোনাভা’ইরাসেের (কভিড-১৯) টিকা উদ্ভাবনে এগিয়ে থাকা যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা যুক্তরাষ্ট্রের নোভাভ্যাক্স—এ দুটির কোনো একটি সফল হলেই টিকার ডোজ পাবে বাংলাদেশ। বিশ্বের নিম্ন ও নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে টিকার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) বাংলাদেশসহ ৯২টি দেশের জন্য সু’খবর দিয়েছে। গত শুক্রবার রাতে গ্যাভি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২১ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য সম্ভাব্য নিরাপদ ও কার্যকর টিকার ১০ কোটি ডোজ উৎপাদন ও বিতরণ ত্বরান্বিত করতে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই), গ্যাভি ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস একটি চুক্তি করেছে।

চুক্তির আওতায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও নোভাভ্যাক্সের ক’রোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন পাওয়ার পর ১০ কোটি ডোজ তৈরি করে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হবে। আর এই সরবরাহের দায়িত্বে থাকবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট। এ জন্য ওই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডলার তহবিল দেবে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। ‘কোভ্যাক্স অ্যাডভান্স মার্কেট কমিটমেন্ট (এএমসি)’ কাঠামোর আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের দাম পড়বে সর্বোচ্চ তিন ডলার (প্রায় ২৫৪ টাকা)।

উল্লেখ্য, ক’রোনার টিকা উদ্ভাবনে যেসব প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আছে তাদের স’ঙ্গে আগাম ক্রয় চুক্তি করে সম্ভাব্য টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। টিকার কার্যকারিতা প্রমাণ হলে ওই দেশ দুটির শুরুতেই টিকা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য টিকা উদ্ভাবনে এগিয়ে থাকা অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের স’ঙ্গে চুক্তি করেছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবার জন্য ন্যায্যভাবে টিকা পাওয়ার কথা বললেও তা কার্যকরে এত দিন দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা ছিল না। গত শুক্রবার টিকাবি’ষয়ক আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভি, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ও সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগের ফলে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছেও টিকা পৌঁছার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

গ্যাভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সেথ বার্কেল বলেন, ‘অনেকবার আমরা দেখেছি, ঝুঁ’কিপূর্ণ দেশগুলো নতুন চিকিৎসা, রো’গ পরীক্ষা ও নতুন টিকা পাওয়ার দৌড়ে পেছনে পড়ে থাকে। ক’রোনার টিকার ক্ষেত্রে আমরা এমনটি চাই না।’

তিনি বলেন, ‘যদি ধ’নী দেশগুলোই শুধু সুরক্ষিত হয় তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প ও সমাজ ম’হামা’রিতে বি’পর্যস্ত হতে থাকবে। এমনটি যাতে না ঘটে সে জন্য আমাদের এই নতুন সহযোগিতা চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু কয়েকটি ধ’নী দেশ নয়, সব দেশের জন্য টিকা উৎপাদনের জন্য সামর্থ্য তৈরির উদ্যোগ। আমরা চাই সিরামের অন্যান্য ভ্যাকসিন উৎপাদকরাও এভাবে এগিয়ে আসবে।’

গত সপ্তাহে গ্যাভির পরিচালনা বোর্ড এএমসির আওতায় সহযোগিতা দেওয়া হবে এমন ৯২টি দেশের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কার্যকরী প্রমাণ হলে গ্যাভির সহযোগিতার লাভের তালিকায় থাকা ৫৭টি দেশ তা পাবে। আর যদি নোভাভ্যাক্সের টিকা তৈরির উদ্যোগ সফল হয় তাহলে এএমসির আওতায় থাকা ৯২টি (গ্যাভির তালিকায় থাকা ৫৭ দেশসহ) দেশই তা পাবে। বাংলাদেশ গ্যাভির সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য ৫৭টি দেশের তালিকায় আছে।

সোনার দাম নিয়ে বড় সু’খবর

0

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। শুক্রবার থেকে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। এর আগে টানা বেশ কিছুদিন সোনার দাম বেড়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও বাংলাদেশের বাজারে এখনো সোনার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২ আগস্ট প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েছে ১০ ডলার। পরদিন বেড়েছে ২ ডলার, ৪ আগস্ট বেড়েছে ৩৯.৬৫ ডলার আর ৫ আগস্ট প্রতি আউন্স সোনার দাম বাড়ে ২৭.১৫ ডলার। ৬ আগস্ট সোনার বাজার থামে ২০৬৫.৪১ ডলারে। এদিন প্রতি আউন্স সোনার দাম বাড়ে ২৩.৩০ ডলার।

শুক্রবার হঠাৎ করে সোনার দাম প্রায় ৪২ ডলার কমে ২০২৮.১১ ডলারে বিক্রি হয়। এদিন একবারের জন্যও আগের দিনের দাম পার করতে পারেনি সোনা। গোল্ড প্রাইসের সরাসরি হাল নাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এই ত’থ্য পাওয়া গেছে।

মেজর (অব.) সিনহাকে হ’ত্যার আগে প্রদীপ ও লিয়াকতের আরেক কাণ্ড

0

কক্সবাজারের টেকনাফে ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গিয়েই থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীর টার্গেটে পড়েন মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খান। ঘ’টনার দিন বিকেলে তিনি সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে নিয়ে টেকনাফ থানা এলাকা, বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়া ও মারিসঘোণা এলাকায় বেশ কিছু দৃশ্য ধারণ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই কাজের ফাঁকে সিনহা রাশেদ ইয়াবা কারবারে প্রদীপের সিন্ডিকেটসহ স্পর্শকাতর কিছু প্রমাণ পেয়ে যান। সিনহা নি’হত হওয়ার পর তাঁর ভিডিওসংশ্লিষ্ট আলামতগুলো গায়েব হওয়ায় এ ব্যাপারে ব্যাপক স’ন্দে’হ তৈরি হয়েছে।

জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠের আজকের সংখ্যায় প্রকাশিত কক্সবাজার প্রতিনিধি তোফায়েল আহম’দ ও নিজস্ব প্রতিবেদক এস এম আজাদের করা একটি প্রতিবেদনে মেজর (অব.) সিনহার হ’ত্যাকাণ্ড এবং ভ’য়ংকর মা’দক ‘আইস’ উ’দ্ধার করে ধা.মাচা’পা দেওয়ার অনেক ত’থ্য উঠে এসেছে।

পু’লিশের পক্ষ থেকে টেকনাফ ও রামু থানায় দা’য়ের করা দুটি মা’মলার এজাহার ঘেঁটে দেখা গেছে, সেখানে নেই সিনহার শুটিং টিমের ল্যাপটপ ও ক্যামেরার মেমোরি কার্ড। এসব ডিভাইসে স্পর্শকাতর ভিডিও চিত্র বা মা’মলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত গায়েব করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে যে সিনহা ওসি প্রদীপের বক্তব্যসহ কিছু ভিডিও রেকর্ড করার কারণে তাঁকে অনুসরণ করে হ’ত্যা করা হয়। বলা হচ্ছে, চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপ পরিচালনাকারী অভিনেতা ইলিয়াস কোবরার স’ঙ্গে ঘ’টনার দিন ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতের কয়েকবার যোগাযোগ হয়। ওই দিন বিকেলে মেজর সিনহাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে মেরিন ড্রাইভের পাশে বাড়িতে ডেকে সময়ক্ষেপণ করেন ইলিয়াস কোবরা।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ইলিয়াস কোবরা। তিনি বলেন, ‘একটি বস্তা উ’দ্ধারের ঘ’টনায় একজনকে আ’টক করা হলে তিনি লিয়াকতের স’ঙ্গে ফোনে কথা বলেন।’ সেই বস্তার সন্ধান করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হওয়ার মতো ঘ’টনা জানা গেছে। সেই রাতে মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালীপাড়া সৈকতে বিপুল পরিমাণ ‘আইস’ (নতুন ধরনের মা’দক) উ’দ্ধার হলেও তা গায়েব করে দেন ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতরা। এই ঘ’টনার স’ঙ্গে সিনহা হ’ত্যার যোগসূত্র আছে কি না সেটাও স’ন্দে’হ করছে এলাকাবাসী। ঘ’টনার দিন সিনহা রাশেদ কোথায় কোথায় গেছেন এবং ভিডিওতে কী ধারণ করেছেন—তা ত’দন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

পু’লিশের মা’মলায় সিনহা রাশেদ ও সিফাতের কাছ থেকে ২১ রকমের আলামত জ’ব্দ দেখানো হয়েছে। এগুলো হলো একটি বিদেশি পি’স্তল, পি’স্তলের কাভার, ৯ রাউন্ড গু’লি, ৫০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁ’জা, মানিব্যাগ, দুটি পরিচয়পত্র, দুটি মোবাইল ফোন, একটি ব্লু’টুথ ডিভাইস, ছু’রি, স্ক্রু ডাইভার সংবলিত ছু’রি, দুটি কালো রঙের মাস্ক, একটি ক্যানন ব্রান্ডের ডিএসএলআর ক্যামেরা, ৯টি ডিস্কের একটি ডিসি বক্স, একটি সে’নাবা’হিনীর ক্যাপ, একটি গাড়ির ম্যানুয়াল বই, দুটি কাঁধের ব্যাগ, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, তিনটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড, একটি মাস্টার কার্ড এবং সিলভার রঙের এলিয়ন গাড়ি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিএসএলআর ক্যামেরায় মেমোরি কার্ড থাকে। তবে জ’ব্দ তালিকায় কার্ডের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে রামু থানায় শিপ্রার বি’রুদ্ধে করা মা’দকের মা’মলায় অন্য কোনো জিনিসপত্র জ’ব্দ দেখানো হয়নি। তবে জানতে চাইলে রামু থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, সিনহার কক্ষ থেকে প্রা’প্ত মাত্র তিনটি জিনিস রামু থানা পু’লিশ পৃথকভাবে জমা রেখেছে। একটি ল্যাপটপ, একটি অ’স্ত্রের লাইসেন্স ও এক জোড়া জুতা সেখানে রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে সেই সব জিনিস ফেরত দেওয়া হবে।

স্বজন ও ত’দন্তকারীরা বলছেন, হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি পু’লিশ সদস্যরা সিনহার কাছে থাকা ক্যামেরা ও ল্যাপটপে স্পর্শকাতর বা গো’পনীয় কিছু থাকলে তা সরিয়ে নিয়েছেন বা ন’ষ্ট করেছেন। এ কারণেই জ’ব্দ তালিকায় পরিষ্কারভাবে ল্যাপটপ এবং ক্যামেরার মেমোরি কার্ড দেখানো হয়নি। সিনহা যদি ইয়াবা কারবারসহ কোনো অ’পকর্মের ব্যাপারে প্রমাণসহ ভিডিও ধারণ করেন, তবে সেগুলো এই দুটি ডিভাইসেই সংরক্ষিত থাকবে। জানতে চাইলে হ’ত্যা মা’মলার বা’দী ও সিনহা রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘তাঁর (সিনহা) ব্যাকপ্যাকে ক্যামেরা, ল্যাপটপ থাকত। কী কী মিসিং আমরা যাচাই করার সুযোগ পাইনি।’

সিফাতের খালু মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সিফাতের স’ঙ্গে থাকা জিনিসপত্র কোথায় আছে তা জানা যায়নি। সে আমাদের স’ঙ্গে অল্প একটু কথা বলতে পেরেছে। সেখানে সে বলেছে, তার স’ঙ্গে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এসব ছিল।’

জানতে চাইলে র‌্যা’বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জাতীয় দৈনিকটিকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব বি’ষয় এসেছে, তা আমাদেরও নজরে এসেছে। তা ছাড়া মিডিয়াতে যেগুলো আসছে সবই আমলে নিয়ে ত’দন্ত করছি। এগুলো খতিয়ে দেখা হবে।’ তিনি আরো বলেন, চার আ’সামিকে গতকাল জে’লগেটে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারসহ দুই আ’সামিকে আজ সোমবার রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ শুরু হবে। আরেক আ’সামিকে পরে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দৃশ্যপটে ইলিয়াস কোবরা : সিনহা রাশেদকে যেদিন (৩১ জুলাই) গু’লি করে হ’ত্যা করা হয় সেদিন চলচ্চিত্রে খল চরিত্রের অভিনেতা ইলিয়াস কোবরার স’ঙ্গে বাহারছড়া ত’দন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীর কয়েকবার ফোনে যোগাযোগ হয় বলে শোনা যাচ্ছে। ইলিয়াসের বাড়ি মেরিন ড্রাইভের পাশে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালীপাড়ায়। ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে, ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতের ঘনিষ্ঠ ইলিয়াস কোবরা নি’হত সিনহা রাশেদকে আমন্ত্রণ করে তাঁর বাড়িতে নিয়ে কালক্ষেপণ করান। তাঁর কাছ থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁর দেওয়া ত’থ্যেই অনুসরণ করে সিনহাকে হ’ত্যা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজ ওয়ার্ডের মা’দক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইলিয়াস কোবরা ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতের স’ঙ্গে আঁতাত করে মানুষকে হ’য়রানি করেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইলিয়াস কোবরা তাঁকে একটি স্পর্শকাতর মা’মলায় ফাঁ’সানোর অ’পচেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন। গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি জানতামই না যে মেজর সিনহা নামে কেউ আছে। আমি জীবনে স্বপ্নেও তাকে দেখিনি। কেন জানি না এক সাংবাদিক এমন বড় একটি ঘ’টনার স’ঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে কাল্পনিক কথা লিখছে। আমি নিজেই মা’দকের বি’রুদ্ধে কাজ করি। মসজিদ কমিটিতেও আছি। এসব কারণে এলাকার কিছু লোক আমার বি’রুদ্ধে আছে।’

প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কোবরা আরো বলেন, ‘লিয়াকতের স’ঙ্গে আমার পরিচয় আছে। তার বাহারছড়া ত’দন্ত কেন্দ্রটির মধ্যেই আমাদের এলাকা। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বি’ষয়ে কথা হয়। সাবেক মেজরের মৃ’ত্যুর দিনও তার স’ঙ্গে কথা হয়েছে। আমার নামেই এখানে একটা বাজার আছে। সেখানে কমিটির অফিসে বসে ছিলাম। মোহাম্ম’দ নামে একজন সদস্য বলেন, একটি বস্তা পাওয়া গেছে। তখন লিয়াকত সাহেবকে ফোন করলে এসে নিয়ে যান। টেকনাফ থানার এসআই হাসান আমাদের সেই সদস্যকে নিয়ে গেছেন। তখন আমি তাকে বললাম, যিনি দেখে জানিয়েছে, তাকেই যদি নিয়ে যান তাহলে খবর দেবে কে? পরে দুবার ফোন দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। তারা ছেলেটিকে ৫৪-এ চালান দেয়। সে গতকাল (শনিবার) জা’মিনে ছাড়া পেয়েছে।’

স্থানীয়রা বলছে, মিয়ানমারের রাখাইনের আদি নিবাস থেকে বাহারছড়ায় আসার পর বাংলা চলচ্চিত্রে খল অভিনেতা হিসেবে নাম করেন ইলিয়াস কোবরা। বিগত বিএনপি-জামায়াত স’রকারের আমলেও টেকনাফ এলাকায় রাজনীতিসহ নানা কাজে দাপুটে ভূমিকা ছিল তাঁর। মাঝে এলাকায় দেখা না গেলেও গত পাঁচ বছর ধরে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। প্রদীপ কুমার টেকনাফ থানার ওসি হিসেবে যোগ দেওয়ার পরই ইলিয়াস কোবরা বাহারছড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মা’দক নির্মূ’ল কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। মেরিন ড্রাইভের পাশে নোয়াখালীপাড়ার পৈতৃক বসতিতে ‘ইলিয়াস কোবরা বাজার’ নামে একটি বাজারও চালু করেন। উপজে’লা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নিজের নামে এ রকম বাজার বসানোর কারণে আ’দালতে মা’মলাও চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইলিয়াস কোবরা মা’দক নির্মূ’ল কমিটির সভাপতি হলেও তাঁর পরিবারের অনেক স্বজন ইয়াবা কারবারে জ’ড়িত। এমনকি নিজের ভাই রফিক কোবরা রাজধানী ঢাকা ও টেকনাফ থানার ইয়াবা মা’মলার আ’সামি। আরেক ভাই শামশু কোবরার দুই ছেলেও ঢাকা এবং চট্টগ্রামের ইয়াবা মা’মলার আ’সামি। তাঁরা সবাই ইয়াবা মা’মলায় জে’লে আ’টক ছিলেন।

বেরিয়ে এলো আরেক র’হস্য : ৩১ জুলাই কথিত বস্তা উ’দ্ধারের ঘ’টনা খতিয়ে দেখতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর ত’থ্য। স্থানীয়রা জানায়, সেই রাতে নোয়াখালীপাড়া সৈকতে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে যে বস্তা উ’দ্ধার করা হয়েছে বলা হচ্ছে, তাতে বিপুল পরিমাণ ‘আইস’ (ইয়াবার মতোই নতুন মা’দক) পাওয়া যায় বলে তারা শুনেছে। কোটি কোটি টাকা মূ’ল্যের এই মা’দকের চালানের কিছু পরিমাণ সেই রাতে টেকনাফ থানার নিজাম নামের একজন এসআই নিয়ে যান। সেই স’ঙ্গে মোহাম্ম’দ হোসেন ওরফে মোহাম্ম’দ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। একেই ধরে নেওয়ার কথা বলেন ইলিয়াস কোবরা। কী উ’দ্ধার হয়েছিল বস্তায় জানতে চাইলে ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘আচারের মতো প্যাকেট ছিল। সাদা সাদা। কেউ জিনিসগুলো কী বলতে পারেনি।’

‘আইস’ নামের নতুন মা’দকের চালানটি বহনকারী নৌকার মালিক হচ্ছেন মোহাম্ম’দ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ কার্টন মাল টেকনাফ থানার কর্মকর্তা নেজাম নিয়ে গেলেও সেই মাল কোথায় তার হদিস নেই। ভাগ্যিস আমাকে আইস নিয়ে চালান দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, তাঁর নৌকা নিয়ে জে’লেরা সাগরে মাছ ধরার সময় জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা এসব মা’দকের কার্টন উ’দ্ধার করে তাঁর নৌকায় তুলে দেন। বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আবদুল্লাহ বলেন ‘কোটি কোটি টাকা মূ’ল্যের আইস উ’দ্ধার হলেও মোহাম্ম’দকে সেই মা’মলায় আ’টক করা হয়নি। তা ছাড়া উ’দ্ধার করা আইস নিয়ে কোনো মা’মলাও দেখানো হয়নি আজ পর্যন্ত।’

বকশিশ না দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলেন নার্স-আয়া! শি’শুর মৃ’ত্যু

0

হাসপাতালের নার্স ও আয়াকে বকশিশ না দেওয়ায় নাক থেকে অক্সিজেন খুলে নেওয়ায় এক শি’শুর মৃ’ত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘ’টনায় শনিবার (৮ আগস্ট) শি’শুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে বি’ষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। দুপুরের পর ঘ’টনাটি ঘটলেও বি’ষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধা.মাচা’পা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের থেকে জানা গেছে,

গতকাল শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজে’লার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন তাঁর এক মাসের শি’শুস’ন্তান আব্দুর রহমানের শ্বাসক’ষ্ট দেখা দিলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসক শি’শুটিকে ভর্তি করাতে বলেন এবং দ্রু’ত অক্সিজেন দিতে বলেন।

মোশারফ হোসেন শি’শুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করান। ভর্তি করার পর অক্সিজেন দেওয়া হলে শি’শুটি সুস্থ হয়। এরপর শি’শুটির বাবার কাছে নার্স রিমা আক্তার, রেহেনা বেগম, মনিকা বেগম এবং আয়ারা বকশিশ দাবি করেন। তখন শি’শুটির বাবা মোশারফ হোসেন নার্স ও আয়াদের জোহরের নামাজ পড়ে এসে বকশিশ দেওয়ার কথা বলেন।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে মোশারফ নামাজ পড়ার জন্য হাসপাতালের মসজিদে যান। তাঁর আসতে বিলম্ব হওয়ায় নার্স ও আয়ারা শি’শুটির মা, খালা, দাদি ও নানির কাছে বকশিশ দাবি করেন। শি’শুটির মা ও খালা তাঁদের জানান শি’শুর বাবা নামাজ থেকে এলেই বকশিশ দেওয়া হবে। কিন্তু নার্স ও আয়ারা তাতে রাজি না হয়ে শি’শুটির নাক থেকে অক্সিজেনের পাইপ খুলে নেন।

অক্সিজেন খুলে দেওয়ার সাথে সাথে শি’শুটির শ্বাসক’ষ্ট দেখা দেয়। তখন শি’শুটির মা, খালা, দাদি নার্স ও আয়াদের হাতে-পায়ে ধরে আবারও অক্সিজেন লাগাতে বলেন। কিন্তু তাঁদের স’ঙ্গে নার্স ও আয়ারা দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে শি’শুটি মা’রা যায়।

শি’শুর পরিবার দাবি করে, বি’ষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ থেকে দেখা গেলেও তত্ত্বাবধায়ক বের হয়ে সেখানে উপস্থিত হননি।

শি’শুটির মা আনিছা বেগম বলেন, আমরা একাধিকবার নি’ষেধ করার পরও নার্স ও আয়া জো’র করে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই আমার স’ন্তানের মৃ’ত্যু হয়। আমি এ ঘ’টনার বিচার চাই।

শি’শুটির বাবা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, হাসপাতালের নার্স ও আয়ার অবহেলায় আমার স’ন্তানের মৃ’ত্যুর ঘ’টনা ঘটেছে। আমি দোষীদের বিচার দাবি করছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নার্স রিমা আক্তার বলেন, বকশিশ চাওয়ার ঘ’টনা সত্য নয়। মূ’লত অন্য একটি গু’রুতর অ’সুস্থ শি’শুর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারটি স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগে থেকেই শি’শুটির অবস্থা খা’রাপ ছিল। তাকে রংপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

এ ব্যাপারে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নবিউর রহমান বলেন, অভিযোগের বি’ষয়ে রবিবার ৩ সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি করা হয়েছে। এতে শি’শু বিশেষজ্ঞ ডা. খায়রুন্নাহারকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনর রশিদ ও মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন কুমার প্রামাণিককে সদস্য করা হয়েছে। ত’দন্তে হাসপাতালের কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বি’রুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনর রশিদ বলেন, বকশিশ নেওয়ার মতো ঘ’টনা এর আগে ঘটেনি। এজাতীয় কোনো অভিযোগও আসেনি। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই বি’ষয়টি ত’দন্ত হওয়া দরকার। কমিটি ত’দন্ত শুরু করেছে। ত’দন্ত শেষে বলা যাবে প্রকৃত ঘ’টনা কী।

একইভাবে শনিবার সকালে গাইবান্ধা সদর উপজে’লার উজির ধরণী গ্রামের ইয়াকুব আলীর দুই মাস ব’য়সের শি’শুর পরিবারের কাছ থেকে বকশিশ না পাওয়ায় তারও নাক থেকে অক্সিজেনের পাইপ খুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই শি’শুটিও অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসক’ষ্টে হাসপাতালে মা’রা যায় বলে পরিবার দাবি করে। এ ব্যাপারে আবাসিক চিকিৎসক বলেন, শি’শুটিকে মৃ’ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এই অভিযোগের সত্যতা নেই। এটি ত’দন্তের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না।